২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বজুড়ে ইরানি এয়ারলাইনস বন্ধের হুমকি
- আপডেট সময় : ১১:৫৮:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 7
বিশ্বজুড়ে সব ইরানি বিমান সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অস্ত্র হিসেবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার এই পদক্ষেপের আওতায় শুধু বিমান সংস্থাই নয়, বিমানবন্দর, টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি সরবরাহকারী এবং বিদেশে বিমান পরিচালনায় সহায়তা প্রদানকারী অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করেছেন যে, এই সপ্তাহ থেকেই ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হতে পারে। ওয়াশিংটন বিদেশি কোম্পানিগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা যদি এই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিমান সংস্থাগুলোকে সেবা প্রদান অব্যাহত রাখে, তবে তাদের ওপর ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের সময়কাল যখন সাত মাসের কাছাকাছি পৌঁছেছে, তখন সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, বিশ্বজুড়ে সমস্ত ইরানি বিমান সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বেসেন্টের এই হুঁশিয়ারি কেবল বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর আওতায় বিমানবন্দর, টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি সরবরাহকারী এবং বিদেশে বিমান পরিচালনায় সহায়তা প্রদানকারী অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কীভাবে এটি করব? যদি তারা (ইরানি বিমানগুলো) কোথাও অবতরণ করে, তবে আপনারা তাদের জ্বালানি দিতে পারবেন না, অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা দিতে পারবেন না এবং তাদের টিকিটও বিক্রি করতে পারবেন না; অন্যথায় আপনাদের ‘ডলার ব্যবস্থা’ (আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা) থেকে ছিটকে ফেলা হবে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এই বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এই হুঁশিয়ারি তেহরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক অভিযানের সর্বশেষ ধাপ বা উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম একটি অস্ত্র। এর আগে ইরানের এভিয়েশন বা বিমান চলাচল খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং বেসেন্টের ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ (নির্ধারক আঘাত)-এর হুমকি ও তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে অচল করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বেসেন্টের এই সর্বশেষ অর্থনৈতিক আক্রমণের বিষয়ে ইরান এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি; অথচ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি মেনে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।
সর্বশেষ দুটি ইরাকি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে যে, মার্কিন অর্থ বিভাগের ঘোষণার পর বাগদাদ ইরানি এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করবে।
জর্জিয়াও ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর জন্য তাদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে; অন্যদিকে, ইরানি বিমান সংস্থা ‘মাহান’ জানিয়েছে যে তুর্কি সরকারের অনুরোধে তারা তুরস্কে তাদের পরিষেবা স্থগিত করেছে।
ইরানের এভিয়েশন বা বিমান চলাচল খাত দীর্ঘকাল ধরে নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছে, যা তাদের নতুন বিমান সংগ্রহ, যন্ত্রাংশ কেনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ সেবা পাওয়ার সক্ষমতাকে সীমিত করে দিয়েছে।






















আরও ১১টি বোয়িং কেনার পথে বিমান