ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েল ম্যাচ বয়কটের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন আয়ারল্যান্ডের ১৬০ ক্রীড়াবিদ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

ইউয়েফা নেশনস লিগ ২০২৬-২৭ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। টুর্নামেন্টে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের দাবি জানিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের ১৬০ ক্রীড়াবিদ। একটি খোলা চিঠিতে আয়ারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলকে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি না খেলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের ম্যাচ দুটি হওয়ার কথা ২৭ সেপ্টেম্বর ও ৪ অক্টোবর। নিরাপত্তা ও প্রতিবাদের বিষয় বিবেচনায় ম্যাচ দুটির ভেন্যু আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের বাইরে নির্ধারণ করা হয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের নির্ধারিত ম্যাচটি হাঙ্গেরিতে এবং ৪ অক্টোবর আয়ারল্যান্ডের ম্যাচটি সার্বিয়ায় হওয়ার কথা। দুই ম্যাচই দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

খোলা চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অলিম্পিয়ান সিয়ারা ম্যাজিন, সাবেক ফুটবলার লুইস কুইন, সাবেক রাগবি খেলোয়াড় টনি ওয়ার্ড এবং বক্সার টাইরন ম্যাককেনা ও এরিক ডোনোভান।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং এই মুহূর্তে সঠিক কাজটি করার সুযোগ আপনাদের সামনে রয়েছে। ম্যাচটি না খেলাই হবে সবচেয়ে ক্রীড়াসুলভ সিদ্ধান্ত। নেতৃত্ব ও সাহস দেখিয়ে আপনারা প্রমাণ করতে পারেন, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে খেলাধুলার কতটা শক্তি রয়েছে।’

এর আগে মে মাসেও আয়ারল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় ফুটবলার ও বেশ কয়েকজন তারকা ইসরায়েলের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচ বয়কটের দাবিতে প্রচারে যুক্ত হয়েছিলেন।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চালানো গণহত্যা, বর্বরতা এবং মানবিক সংকটের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে আয়ারল্যান্ড সবচেয়ে সোচ্চার এবং স্পষ্টভাষী সমালোচক হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

২০২৫ সালের শেষ দিকে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডের (এফএআই) সদস্যরা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তাদের বোর্ডকে ইউয়েফার কাছে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানানোর পক্ষে ভোট দেন।

এরপর গত ফেব্রুয়ারি মাসে নেশনস লিগের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ড্রয়ে আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলকে আলাদা গ্রুপে রাখার আবেদন করেছিল এফএআই। তবে সেটি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফা।

তবে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করে ইসরায়েলের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচগুলো খেলার সিদ্ধান্ত নেয় এফএআই। সংস্থাটির আশঙ্কা ছিল, ম্যাচ বয়কট করলে নিষেধাজ্ঞা জাতীয় দল ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন—দুই পক্ষের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে।

আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হালগ্রিমসনও সম্প্রতি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন। তার ভাষায়, ‘আমাদের কেউই এই ম্যাচগুলো খেলতে স্বস্তি বোধ করছি না।’

এদিকে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে আগামী বছরের ইউরোভিশন সং প্রতিযোগিতা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। চলতি বছরের শুরুতে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ইউরোভিশন ২০২৬ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিল তারা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েল ম্যাচ বয়কটের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন আয়ারল্যান্ডের ১৬০ ক্রীড়াবিদ

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউয়েফা নেশনস লিগ ২০২৬-২৭ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। টুর্নামেন্টে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের দাবি জানিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের ১৬০ ক্রীড়াবিদ। একটি খোলা চিঠিতে আয়ারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলকে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি না খেলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের ম্যাচ দুটি হওয়ার কথা ২৭ সেপ্টেম্বর ও ৪ অক্টোবর। নিরাপত্তা ও প্রতিবাদের বিষয় বিবেচনায় ম্যাচ দুটির ভেন্যু আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের বাইরে নির্ধারণ করা হয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের নির্ধারিত ম্যাচটি হাঙ্গেরিতে এবং ৪ অক্টোবর আয়ারল্যান্ডের ম্যাচটি সার্বিয়ায় হওয়ার কথা। দুই ম্যাচই দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

খোলা চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অলিম্পিয়ান সিয়ারা ম্যাজিন, সাবেক ফুটবলার লুইস কুইন, সাবেক রাগবি খেলোয়াড় টনি ওয়ার্ড এবং বক্সার টাইরন ম্যাককেনা ও এরিক ডোনোভান।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং এই মুহূর্তে সঠিক কাজটি করার সুযোগ আপনাদের সামনে রয়েছে। ম্যাচটি না খেলাই হবে সবচেয়ে ক্রীড়াসুলভ সিদ্ধান্ত। নেতৃত্ব ও সাহস দেখিয়ে আপনারা প্রমাণ করতে পারেন, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে খেলাধুলার কতটা শক্তি রয়েছে।’

এর আগে মে মাসেও আয়ারল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় ফুটবলার ও বেশ কয়েকজন তারকা ইসরায়েলের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচ বয়কটের দাবিতে প্রচারে যুক্ত হয়েছিলেন।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চালানো গণহত্যা, বর্বরতা এবং মানবিক সংকটের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে আয়ারল্যান্ড সবচেয়ে সোচ্চার এবং স্পষ্টভাষী সমালোচক হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

২০২৫ সালের শেষ দিকে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডের (এফএআই) সদস্যরা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তাদের বোর্ডকে ইউয়েফার কাছে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার অনুরোধ জানানোর পক্ষে ভোট দেন।

এরপর গত ফেব্রুয়ারি মাসে নেশনস লিগের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ড্রয়ে আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলকে আলাদা গ্রুপে রাখার আবেদন করেছিল এফএআই। তবে সেটি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফা।

তবে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করে ইসরায়েলের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচগুলো খেলার সিদ্ধান্ত নেয় এফএআই। সংস্থাটির আশঙ্কা ছিল, ম্যাচ বয়কট করলে নিষেধাজ্ঞা জাতীয় দল ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন—দুই পক্ষের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে।

আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হালগ্রিমসনও সম্প্রতি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন। তার ভাষায়, ‘আমাদের কেউই এই ম্যাচগুলো খেলতে স্বস্তি বোধ করছি না।’

এদিকে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে আগামী বছরের ইউরোভিশন সং প্রতিযোগিতা বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে আয়ারল্যান্ড। চলতি বছরের শুরুতে ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ইউরোভিশন ২০২৬ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছিল তারা।