ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের বিভাজন আরও গভীর হচ্ছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 8

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ১০০ দিন আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে তিনি বলেন, জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত কখনোই যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

গুতেরেস বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান সংকটগুলো মূলত ক্ষমতার ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৃহত্তর সংকটের অংশ। তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং দেশগুলোর মধ্যে আস্থা গত এক দশকে দুর্বল হয়েছে।

তিনি জানান, বিশ্বে ক্ষমতার পরিবর্তন তিনভাবে ঘটছে—নতুন রাষ্ট্রীয় শক্তির উত্থান, সরকার থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে ক্ষমতার স্থানান্তর এবং এআই ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের মাধ্যমে মানব সিদ্ধান্তের জায়গায় প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকা।

গুতেরেস বলেন, বিশ্বের বিভাজন আরও গভীর হচ্ছে।

তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ব্লকে বিভক্ত বিশ্বের পরিবর্তে পারস্পরিক নির্ভরতা ও অভিন্ন নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন, সুদান ও মিয়ানমারের সংঘাত প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, কথিত যুদ্ধবিরতিগুলো অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত শান্তি আনেনি; বরং শুধু সহিংসতার মাত্রা কমিয়েছে।

তিনি গাজা বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে মন্তব্য করেন।

এ ছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনকে জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকা ‘অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করে পরিষদ সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন গুতেরেস।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বের বিভাজন আরও গভীর হচ্ছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

আপডেট সময় : ১০:৫০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ১০০ দিন আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে তিনি বলেন, জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত কখনোই যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

গুতেরেস বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান সংকটগুলো মূলত ক্ষমতার ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৃহত্তর সংকটের অংশ। তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং দেশগুলোর মধ্যে আস্থা গত এক দশকে দুর্বল হয়েছে।

তিনি জানান, বিশ্বে ক্ষমতার পরিবর্তন তিনভাবে ঘটছে—নতুন রাষ্ট্রীয় শক্তির উত্থান, সরকার থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে ক্ষমতার স্থানান্তর এবং এআই ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের মাধ্যমে মানব সিদ্ধান্তের জায়গায় প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ভূমিকা।

গুতেরেস বলেন, বিশ্বের বিভাজন আরও গভীর হচ্ছে।

তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ব্লকে বিভক্ত বিশ্বের পরিবর্তে পারস্পরিক নির্ভরতা ও অভিন্ন নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন, সুদান ও মিয়ানমারের সংঘাত প্রসঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, কথিত যুদ্ধবিরতিগুলো অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত শান্তি আনেনি; বরং শুধু সহিংসতার মাত্রা কমিয়েছে।

তিনি গাজা বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে মন্তব্য করেন।

এ ছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনকে জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকা ‘অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করে পরিষদ সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন গুতেরেস।