নীতিমালার আওতায় অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে: সড়কমন্ত্রী

- আপডেট সময় : ০১:১৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এসব অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের খনন ও উন্নয়নকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহরে অটোরিকশা যত্রতত্র যেভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলে, এই শহর ফাংশন করছে না—আপনারা ভালো করে জানেন, নাগরিকরা জানে। আমরা এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন।’
অটোরিকশাচালকদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারাও দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছেন। অবশ্যই তাদেরও কষ্ট হবে। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সবাইকে একমত হয়ে এই যে একটা অব্যবস্থাপনা, তার উত্তরণ ঘটাতে হবে।’
রবিউল আলম আরও বলেন, ‘একটি নীতিমালার আলোকে, একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা এটা করতে চাই, কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করে নয়। তবে কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে ঢাকা সিটিকে অকার্যকর হতে দেওয়া হবে না। এটিই হচ্ছে আমাদের অবস্থান।’
অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দলটি বিভিন্ন সময়ে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের প্রত্যাশা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘কোনটা নাগরিকের অধিকার, কোনটা ঢাকা রক্ষার ব্যাপার, আর কোনটা নাগরিকের দাবি—এগুলো বুঝতে তো ওনারা সবসময় অপারগ হয়েছেন।’
ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও তার নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে লেকের পলি উত্তোলন ও অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ঘনমিটার পলি অপসারণ করতে হবে এবং প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ঘনমিটার পলি অপসারণের লক্ষ্য রয়েছে। লেকের সার্বিক উন্নয়নে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত নকশার ভিত্তিতে লেকের পরিবেশ ও অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। এতে লাইব্রেরি, জিম, ক্যাফে ও নজরুল মঞ্চসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়াকওয়ে নতুনভাবে সাজানো ও সবুজায়নের পাশাপাশি অবসর ও বিনোদনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হবে।
লেকের পলি অপসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ শেষ করতে প্রায় আড়াই বছর সময় রাখা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকদের স্বস্তিতে সময় কাটানোর উপযোগী পরিবেশ ধরে রাখতে লেকে বর্জ্য না ফেলে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।




















