৯ ঘণ্টার বিক্ষোভের পর রাহুল-প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করল পুলিশ

- আপডেট সময় : ১১:১১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের দিকে মিছিল এবং সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা। এর প্রায় নয় ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে কংগ্রেস ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, পুলিশ তাদের একটি বাসে তুলে নিয়ে যায়। বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা যায়, কংগ্রেস কর্মীরা পুলিশকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ সদস্যরা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। কংগ্রেস সূত্র জানিয়েছে, দুই ভাই-বোনসহ অন্য নেতাদের উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নেয়া হচ্ছিল।
আকাশবাণী ভবনের চত্বরে এই অবস্থান কর্মসূচি ছিল ইন্ডিয়া জোটের আয়োজিত প্রতিবাদের অংশ। জ্ঞানেশ কুমারের নেয়া কথিত ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরে অনিয়মের অভিযোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক নেতা ও দলীয় কর্মী অংশ নেন।
মঙ্গলবার এটাই অবশ্য গান্ধী ভাই-বোনের প্রথম আটক নয়। দুপুরের দিকে তাদের অল্প সময়ের জন্য একটি পুলিশ বাসে তোলা হয়েছিল। পরে তাদের বাস থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
সে সময় আকাশবাণী ভবনে সাংবাদিকদের রাহুল গান্ধী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় মাত্র ৫০ মিটার দূরে, কিন্তু আমাদের সেখানে যেতে দেয়া হয়নি। সমস্যাটা কী, আমি বুঝতে পারছি না। নির্বাচন কমিশনের কাজ হলো সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা। অন্তত ৩০০ জন সাংসদ জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু তিনি ভয় পাচ্ছেন। দেশে কী হচ্ছে, আমি জানি না। জনগণের প্রতিনিধিরা যদি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে না পারেন, তাহলে গণতন্ত্রের অর্থ কী?’
সন্ধ্যায় গান্ধী ভাই-বোনকে আটক করার আগে কংগ্রেস সূত্র জানায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য দলটির পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছিল। একটি সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা যদি এসে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে বৈঠকের আশ্বাস দেন, তাহলে গান্ধী চলমান অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে পারেন। তবে তার শর্ত হলো, ৩০০ জন সাংসদই ওই বৈঠকে অংশ নেবেন।
এদিন সকাল ১১টার দিকে বিরোধী দলের সাংসদরা সংসদ চত্বর থেকে মিছিল শুরু করে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর নির্বাচন সদনের দিকে রওনা হন। তাদের হাতে ছিল ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ লেখা ব্যানার। এ সময় তারা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেন।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের রূপরেখা আগেই ঠিক করেছিল বিরোধী জোট। গত সপ্তাহের বৈঠকের পর থেকেই এ বিষয়ে কৌশল নির্ধারণে আলোচনা চলছিল। বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের জেন-জি সংগঠনেরও সমর্থনও পায়।






















