সরকারের সিদ্ধান্ত কীভাবে গরিবের পেটে লাথি মারে, ডিমের দাম সাক্ষী : নাহিদ ইসলাম

- আপডেট সময় : ১১:১০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, একটা ডিম ১৫ টাকা। ডিমের দাম একা বাড়েনি। চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ, সবজি—প্রায় প্রতিটি মৌলিক খাবারের দাম বেড়েছে। এই দাম এমনি এমনি বাড়েনি। সরকারের একেকটা সিদ্ধান্ত কীভাবে গরিবের পেটে লাথি মারে, ডিমের দাম তার সাক্ষী।
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলামের ফেসবুক স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলো—
একটা ডিম ১৫ টাকা। এই চার শব্দের বাক্যটা আজ বাংলাদেশের কোটি নিম্নবিত্ত আর নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে একটা আতঙ্কের নাম। যাদের প্রতিবেলায় মাছ-মাংস কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের প্রোটিনের একমাত্র ভরসা এই ডিম। হলে থাকা ছাত্র, মেসে থাকা ব্যাচেলর তরুণের জন্য ডিম মানে লাইফলাইন। সেই ডিমের হালি এখন ৫৫ টাকা।
ডিমের দাম একা বাড়েনি। চাল, আটা, তেল, চিনি, মুরগি, মাছ, সবজি, প্রায় প্রতিটা মৌলিক খাবারের দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকা। ক’দিন আগে বেড়েছে দুধের দাম। মানুষের আয় বাড়েনি, কিন্তু বেঁচে থাকার খরচ বেড়েছে। এই দাম এমনি এমনি বাড়েনি। সরকারের একেকটা সিদ্ধান্ত কীভাবে গরিবের পেটে লাথি মারে, ডিমের দাম তার সাক্ষী।
কারণ তিনটা। প্রথমত, বাজেট। নির্বাচনের আগে তারেক রহমান বলেছিলেন, মেগা প্রজেক্ট মানেই মেগা দুর্নীতি। অথচ মেগা প্রজেক্ট আর হরেক রকম কার্ড ছাপানোর জন্য প্রায় ২০ শতাংশ বড় বাজেট বানানো হলো। দেশের অর্থনীতিতে তেমন কোনো গতি নেই। ধনীদের ট্যাক্স ফাঁকি বন্ধের বা তাদের ট্যাক্স বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও নেই। তাহলে এই বাড়তি টাকা আসবে কোথা থেকে? হয় ভ্যাট বাড়িয়ে, নয় ঋণ করে, নয়তো টাকা ছাপিয়ে। ভ্যাট বাড়লে সরাসরি দাম বাড়ে। টাকা ছাপালে বাড়ে মূল্যস্ফীতি। ঋণটাও পরে ফেরত দিতে হবে সুদে আসলে।
দ্বিতীয়ত, জ্বালানি। সরকার যখন হুট করে বিদ্যুৎ আর জ্বালানির দাম বাড়ায়, তখন সেচ, পোলট্রি, মাছ চাষ, হিমাগার, মাল টানার ট্রাক, দোকান, সবকিছুর খরচ একসাথে লাফিয়ে বাড়ে। সেই বাড়তি খরচটা শেষে দেয় ক্রেতাই।
তৃতীয়ত, সিন্ডিকেট আর রাজনৈতিক চাঁদাবাজি। এদের কারণে উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক বেশি দামে পণ্য কিনতে হয় সাধারণ মানুষকে।
প্রতিটা ক্ষেত্রেই বোঝা পড়ে নিম্ন আর মধ্যবিত্তের ঘাড়ে। কারণ তাদের আয়ের প্রায় পুরোটাই চলে যায় বেঁচে থাকার মৌলিক জিনিস কিনতে। জীবনযাত্রার খরচ ১০ শতাংশ বাড়লে বড়লোকের তেমন সমস্যা হয় না। তার আয়ের অল্প একটা অংশ যায় মৌলিক খরচে, হাতে জমানো টাকাও আছে। কিন্তু সেই ১০ শতাংশ গরিব আর মধ্যবিত্তকে দাঁড় করিয়ে দেয় একটা নির্মম বাস্তবতার সামনে: কোনটা না কিনলে চলতে পারব?
অথচ বিকল্প ছিল। আমরা এনসিপি থেকে নির্বাচনী ইশতেহার আর ছায়া বাজেটে দেখিয়েছি, ধনীদের ট্যাক্স ফাঁকি বন্ধ করলে আর অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রজেক্টে না গেলে কী কী করা যায়।
মধ্যবিত্তের ওপর ট্যাক্স কমানো যায়। নিত্যপণ্যের ওপর থেকে ভ্যাট তুলে নেওয়া যায়। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানিতে বাড়তি ভর্তুকি দেওয়া যায়। কিন্তু সরকার সেই পথে হাঁটেনি।
তাহলে এই নীতির ফসল তুলবে কারা? প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড হাতে কিংবা মেগা প্রজেক্টের ফিতা কেটে অনেক ফুটেজ পাবেন। জ্বালানি খাত বেসরকারি করে দিলে বিএনপির আর নতুন করে বিএনপির ঘনিষ্ঠ হওয়া বড় ব্যবসায়ীরা ভালো ব্যবসার সুযোগ পাবেন। আর মেগা প্রজেক্টের হাজার কোটি টাকার কমিশনে ভাগ বসাবেন মন্ত্রী-এমপিদের ছেলে-নাতিরা।
অন্যদিকে, কোটি মা আজ রাতে ১৫ টাকার একটা ডিম ভেজে কয়েক ভাগ করে সন্তানদের পাতে তুলে দেবেন।























