বন্ধ শিল্প-সেবা খাত চালুর ঋণ বিতরণে ধীরগতি; বাড়ছে ব্যাংকিং জটিলতা

- আপডেট সময় : ১২:০৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার ঘোষিত প্রণোদনার ঋণ বিতরণে ধীরগতি দৃশ্যমান। ব্যাংকের কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে ব্যাংকের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ। বন্ধ কারখানার আবেদনেও উঠে এসেছে- অর্থসংকটসহ ব্যাংকিং জটিলতার নানা কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, পলিসি চাপিয়ে দিয়ে নয়, প্রণোদনার উদ্দেশ্য সফলে গ্রাহকের সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রণোদনায় একটি প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ আছে। বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের সুপারিশে ঋণ পেতে ইতোমধ্যে আবেদন করেছে বেশকিছু বন্ধ কারখানা।
গেল চার মাসে কেবল পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সংগঠনগুলো বন্ধ থাকা ১১৪টি কারখানা জন্য ঋণের সুপারিশ করেছে। এরমধ্যে গাজীপুরের ১৭টি, নারায়ণগঞ্জের ৬১টি, ঢাকার ২৩টি, নরসিংদীর ২টি ও সাভারের ১টি কারখানা রয়েছে।
২০১৯ সাল থেকে বন্ধ থাকা প্রায় ৮০টি কারখানার আবেদন যাচাই করে দেখা গেলো- মূলধনের সংকট, অর্ডার ও ক্রেতা কমে যাওয়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ঋণ ও সুদের চাপের পাশাপাশি ব্যাংকিং জটিলতার কারণে বন্ধ হয়েছে বেশিরভাগ কারখানা। এ ছাড়া ব্যাংকের অসহযোগিতা, কর্মকর্তা ও শাখার অনিয়মে নিয়মবহির্ভূত ঋণ সৃষ্টিকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠান।
তবে যাচাই বাছাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। গ্রাহক পর্যায়ের ঋণ সংক্রান্ত সব ঝুঁকি ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকগুলোকে বহন করতে হবে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারখানা বন্ধ থাকার পাশাপাশি যন্ত্রপাতি, উৎপাদন সক্ষমতা, বন্ধ হওয়ার কারণ, চলতি মূলধনের প্রয়োজন ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করতে ব্যাংকগুলো তাগিদ দেয়া হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্রণোদনা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতার অভিযোগ তুলছেন বিকেএমইএর সভাপতি।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করলো, চেষ্টা করলো; ব্যাংকগুলি আন্তরিক কি না। এখানে দেখা যায় যে ব্যাংকগুলি আন্তরিক না। পার্টিগুলি যখন যাচ্ছে ব্যাংকে, নানাভাবে তার অ্যাপ্লিকেশনটা গ্রহণ করছে না।’
বিপরীতে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অসহযোগিতা নয় বরং গ্রাহকদের যৌক্তিকভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করছেন এই তারা।
সোনালী ব্যাংকের পিএলসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান বলেন, ‘অসহযোগিতা তো না। হয়তো দুই আমি আমার ব্যাংকারের দিক থেকে তাকে বোঝাতে চাচ্ছি, সে কিন্তু তার মতো করে বুঝতে চেষ্টা করে।’
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পারসোমা আলম বলেন, ‘আমরা চাই যে যে সমস্ত গ্রাহকের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে, সেগুলো চালু হোক। তা কাজেই অসহযোগিতার বিষয়টায় ঠিক না, আমরা সবসময় গ্রাহকদেরকে যৌক্তিকভাবে সাপোর্ট দেয়ার চেষ্টা করি।’
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এই প্রণোদনার উদ্দেশ্য সফল করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পলিসি চাপিয়ে দিয়ে নয় বরং গ্রাহকের সাথে ব্যাংকগুলোকে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘বন্ধ কলকারখানা চালু করতে হলে ব্যাংকার-কাস্টমার রিলেশনশিপটাকে আবার নতুন করে ঝালাই করে ফেলতে হবে। এখানে যদি বৈরিতার সম্পর্ক থাকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পলিসি চাপিয়ে দিয়ে এটাকে চাঙ্গা করতে পারবে না।’
তবে চার মাসেও প্রণোদনার ঋণ প্রদানে ধীরগতি থাকায় প্রশ্ন উঠছে- বন্ধ ও সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবে কত সময়ে ঋণ পাবে, কতটি কারখানা পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে এই ঋণ সহায়তায়?






















