ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সবজির বাজারে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি ও বৃষ্টির কারণ দেখিয়ে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। আসন্ন শীত মৌসুমে সবজির দাম কম থাকার কথা থাকলেও উল্টো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্য। বাজারে বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে; আর শিম ও বেগুনের দাম ক্রেতাদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ৮ অক্টোবর থেকে ইলিশ বিক্রি বন্ধ হওয়ায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। তবে বাজারে গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে মুরগি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহ ব্যবধানে আগাম শীতকালীন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। শিম ১ কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়, নতুন আলু ২০০ টাকা, মুলা কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা এবং ফুলকপি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আর ছোট আকারে বাঁধা কপি ৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি আগের দামে বিক্রি হচ্ছে।

পটল, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় টমেটো কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ২৪০ টাকায়, জলপাই ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং গাজর কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে পেঁপে কেজিতে ৫ টাকা কমে ১৫ থেকে ২০ টাকা, আলু ৩০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে লাল শাক আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৫০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে এক হালি লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনে পাতা ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস এবং কেপসিক্যাম ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুজ্জামান সোহেল। তিনি বলেন, “বাজারের সব ধরনের সবজির দাম বেশি বেশি। ১০০ টাকা ৮০ টাকার ঘরে প্রায় সব ধরনের সবজি। এত টাকা দিয়ে সবজি কিনে খাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য আসলেই কঠিন। শীত মৌসুম আসতে চলেছে, এ সময় সবজির দাম কম হওয়ার কথা, উল্টো সবজির দাম বাড়তি। বিক্রেতাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলে পরিবহনের খরচ বাড়ার কারণে সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। আগে যেখানে এক কেজি সবজি কিনতাম, এখন এক আইটেম সবজি কিনি আধা কেজি করে।”

সবজির দাম বিষয়ে রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা খাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘বেগুন ১০০ টাকা কেজি, বাকি সবজিগুলো ৮০ টাকা ৬০ টাকার ঘরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া। পরিবহন খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি সবজির বাজারে প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া সামনের শীতকালের মৌসুম আসছে, এ সময় নতুন করে সব সবজি বাজারে উঠবে। তার আগে এখন আগের সবজি শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাই বাজারে তুলনামূলক সরবরাহ কম। সবকিছু মিলিয়ে সবজির দাম কিছুটা বাড়তি যাচ্ছে। তবে দুই-এক মাসের মধ্যে শীতকালীন মৌসুম শুরু হয়ে গেলে বাজারে প্রচুর পরিমাণে নতুন সবজি উঠবে, তখন আবার সবজির দাম কমে আসবে।’

বাজারে আরও ঘুরে দেখা যায়, মুরগি বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামও আগের চেয়ে ১০ টাকা ডজনে কমেছে। প্রতি ডজন ১৪০ টাকা ও চারটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়, হাঁসের ডিম এক ডজন ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে গরুর মাংসের দাম আগের মতোই আছে। ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে আছে। এক সপ্তাহে ১০ টাকা কমে আবার অন্য সপ্তাহে ১০ টাকা বাড়ে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ২০০ টাকার আশেপাশে দাম থাকে। আর সোনালি মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে থাকে। আজকে ৩১০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।

ইলিশের বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারগুলোতে সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। এসব বাজারে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছ দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়ালমাছ প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন বলেন, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্রবার মাছের চাহিদা ও দাম একটু বেশি থাকে। ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ নেই। আগে পাঙাশ কম ছিল, সেটার দামও এখন ২০০ টাকার উপরে। মাছের দাম সব সময় সরবরাহের উপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সবজির বাজারে

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি ও বৃষ্টির কারণ দেখিয়ে রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। আসন্ন শীত মৌসুমে সবজির দাম কম থাকার কথা থাকলেও উল্টো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্য। বাজারে বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে; আর শিম ও বেগুনের দাম ক্রেতাদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ৮ অক্টোবর থেকে ইলিশ বিক্রি বন্ধ হওয়ায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। তবে বাজারে গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে মুরগি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহ ব্যবধানে আগাম শীতকালীন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। শিম ১ কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়, নতুন আলু ২০০ টাকা, মুলা কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা এবং ফুলকপি ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আর ছোট আকারে বাঁধা কপি ৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি আগের দামে বিক্রি হচ্ছে।

পটল, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় টমেটো কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে ২৪০ টাকায়, জলপাই ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং গাজর কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে পেঁপে কেজিতে ৫ টাকা কমে ১৫ থেকে ২০ টাকা, আলু ৩০ টাকা ও পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে লাল শাক আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৫০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে এক হালি লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনে পাতা ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস এবং কেপসিক্যাম ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুজ্জামান সোহেল। তিনি বলেন, “বাজারের সব ধরনের সবজির দাম বেশি বেশি। ১০০ টাকা ৮০ টাকার ঘরে প্রায় সব ধরনের সবজি। এত টাকা দিয়ে সবজি কিনে খাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য আসলেই কঠিন। শীত মৌসুম আসতে চলেছে, এ সময় সবজির দাম কম হওয়ার কথা, উল্টো সবজির দাম বাড়তি। বিক্রেতাদের জিজ্ঞেস করলে তারা বলে পরিবহনের খরচ বাড়ার কারণে সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। আগে যেখানে এক কেজি সবজি কিনতাম, এখন এক আইটেম সবজি কিনি আধা কেজি করে।”

সবজির দাম বিষয়ে রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা খাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘বেগুন ১০০ টাকা কেজি, বাকি সবজিগুলো ৮০ টাকা ৬০ টাকার ঘরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া। পরিবহন খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি সবজির বাজারে প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া সামনের শীতকালের মৌসুম আসছে, এ সময় নতুন করে সব সবজি বাজারে উঠবে। তার আগে এখন আগের সবজি শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাই বাজারে তুলনামূলক সরবরাহ কম। সবকিছু মিলিয়ে সবজির দাম কিছুটা বাড়তি যাচ্ছে। তবে দুই-এক মাসের মধ্যে শীতকালীন মৌসুম শুরু হয়ে গেলে বাজারে প্রচুর পরিমাণে নতুন সবজি উঠবে, তখন আবার সবজির দাম কমে আসবে।’

বাজারে আরও ঘুরে দেখা যায়, মুরগি বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমের দামও আগের চেয়ে ১০ টাকা ডজনে কমেছে। প্রতি ডজন ১৪০ টাকা ও চারটি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়, হাঁসের ডিম এক ডজন ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে গরুর মাংসের দাম আগের মতোই আছে। ৮০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।

ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে আছে। এক সপ্তাহে ১০ টাকা কমে আবার অন্য সপ্তাহে ১০ টাকা বাড়ে। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ২০০ টাকার আশেপাশে দাম থাকে। আর সোনালি মুরগির দাম ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে থাকে। আজকে ৩১০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।

ইলিশের বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারগুলোতে সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। এসব বাজারে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছ দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়ালমাছ প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা রমিজ উদ্দিন বলেন, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্রবার মাছের চাহিদা ও দাম একটু বেশি থাকে। ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ নেই। আগে পাঙাশ কম ছিল, সেটার দামও এখন ২০০ টাকার উপরে। মাছের দাম সব সময় সরবরাহের উপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম।