ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইসিইউ বেড পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা; সংকটে ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্তরা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

ডেঙ্গু ও হামের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে রাজধানীতে আইসিইউ’র বেড সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বেড পেতে দিতে হচ্ছে দীর্ঘ সিরিয়াল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সংকট দূর করতে কাজ করছেন তারা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসিইউ বাড়ানোর পাশাপাশি মৌসুমি সংক্রমণ ঠেকানো জরুরি।

আইসিইউর একটি বেডের বিপরীতে অপেক্ষা প্রায় ৪০ জন মুমূর্ষু রোগীর। ডেঙ্গু ও হাম রোগীদের প্রতিটি মুহূর্ত যেন জীবন মৃত্যুর লড়াই। সংকটাপন্ন রোগীকে বাঁচাতে স্বজনদের আকুতি কখন মিলবে নিবিড় পরিচর্যার সুযোগ।

অথচ সেই অপেক্ষার শেষ হচ্ছে না সহজেই। সারা দেশ থেকে আসা ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে কোথাও সহজে মিলছে না আইসিইউ।

রাজধানীর ফার্মগেটের বাসিন্দা শিহাব উদ্দিনের এখন অপেক্ষা সেই আইসিইউ। ছেলে স্বাধীনকে নিয়ে তিন দিন ধরে লড়াই করছেন ডেঙ্গু থেকে বাঁচাতে। প্রতিনিয়ত ওঠানামা করছে প্লাটিলেটের মাত্রা। আইসিইউ না পেয়ে সাধারণ বেডেই চিকিৎসা করাতে হচ্ছে স্বাধীনকে।

শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘অক্সিজেনের জন্য যদি সিরিয়াল দিতে হয় সিরিয়াল পাইতে পাইতে রোগীর অবস্থা খুব খারাপ হয়। এই অক্সিজেন ও আইসিইউর ব্যবস্থাও বাড়ানো উচিত গভমেন্টের তরফ থেকে।’

হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপে ঢাকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সংকটাপন্ন রোগীদের আইসিইউ সংকটে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে। একদিকে মুমূর্ষু রোগীর চাপ অন্যদিকে সীমিত আইসিইউ সুবিধা। প্রতিটি খালি বেডের সঙ্গে যেন জড়িয়ে আছে একেকটি পরিবারের বেঁচে থাকার আকুতি।

রোগীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একজন বলেন, ‘কিছু রোগী আছে অনেক ক্রিটিক্যাল পর্যায়ে আছে, ওদের জন্য আইসিইউ এরও ব্যবস্থা করা উচিত, পর্যাপ্ত আইসিইউ এর ব্যবস্থাও নাই। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে আরও বেড বাড়ানো বৃদ্ধি করা প্লাস আইসিইউ সিস্টেম আরও উন্নত করা।’

চিকিৎসকরা বলছেন, সারা দেশ থেকে আসা রোগীদের চাপ বাড়ায় আইসিইউ বেড দিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। প্রতিদিনই সিরিয়ালে থাকছে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী।

শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মির্জা গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘আইসিইউটা করার উদ্দেশ্য ছিল এখানে যে আমাদের ইনহাউস মেডিসিন স্পেশালিষ্ট সার্জিক্যাল কেস যেগুলো খারাপ হয়ে গেলে আমাদের তাদেরকে এই সাপোর্টটা দেয়ার জন্য করা। মানে শুধু ইনহাউস ডিমান্ডটা মিট করার জন্য। হোয়ার অ্যাস আমরা ইনহাউস ডিমান্ড মিট করে বাইরে থেকে আমাদের প্রচুর প্রেসার থাকে এখানে। অনেক থাকে এখানে, আমরা সাধারণত এটা মেইনটেইন করি সিরিয়ালটা মেইনটেইন করা হয়। দেখা যায় যে ফুল স্যাচুরেটেড হওয়ার পরও প্রায় ৪০-৫০ জন মানুষের একটা সিরিয়াল থাকে।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আইসিইউ সংকট রয়েছে। তবে তা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, ‘বাড়ানো দরকার বলেই আমাদের সরকার এরমধ্যেই সুনির্দিষ্ট আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। আইসিইউ এবং অন্যান্য যে যন্ত্রপাতি কিনতে হবে সেটার ব্যাপারে পাঁচটা ডিপিবি নিয়ে আমরা বসেছি। সেই প্রজেক্ট প্রপোজালগুলো রেডি হয়েছে। এটা বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজ শুরু করেছি। সারা দেশে বেডের সংখ্যা এই ছয় মাসে আমরা দুই-তিন হাজার হসপিটাল বেডের সংখ্যা বাড়িয়েছি। আমাদের লোকবল বাড়ানোর জন্য পাঁচ হাজার ডাক্তারের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।’

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে আইসিইউ সংকট সমাধানের পাশাপাশি ডেঙ্গু কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো উচিত।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, ‘আইসিইউ হচ্ছে তার একটা ফ্রাকশন মাত্র। যদি কেস আসতেই থাকে তাহলে হাজার আইসিইউ দিয়ে তো মোকাবেলা করা যায় না। এজন্য আমাদেরকে এখন আসলে প্রিভেন্টিভ সাইডের ওপরে জোর দিতে হবে। আইসিইউর যে বিষয়টা হয়েছে সেই বিষয়টা হলো একটা টার্সিয়ারি প্রবলেম হলে তখন তাকে কেয়ার নেয়া।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে রাজধানীতে সরকারি হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট রয়েছে ২৮টি। এর মধ্যে আইসিইউ বেড রয়েছে মাত্র ৫০০টি। আর জেলা পর্যায়ে আইসিইউ বেডের সংখ্যা মাত্র ৩০৬টি।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ। আর মারা গেছেন তিন শতাধিক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আইসিইউ বেড পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা; সংকটে ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্তরা

আপডেট সময় : ০২:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু ও হামের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে রাজধানীতে আইসিইউ’র বেড সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বেড পেতে দিতে হচ্ছে দীর্ঘ সিরিয়াল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সংকট দূর করতে কাজ করছেন তারা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইসিইউ বাড়ানোর পাশাপাশি মৌসুমি সংক্রমণ ঠেকানো জরুরি।

আইসিইউর একটি বেডের বিপরীতে অপেক্ষা প্রায় ৪০ জন মুমূর্ষু রোগীর। ডেঙ্গু ও হাম রোগীদের প্রতিটি মুহূর্ত যেন জীবন মৃত্যুর লড়াই। সংকটাপন্ন রোগীকে বাঁচাতে স্বজনদের আকুতি কখন মিলবে নিবিড় পরিচর্যার সুযোগ।

অথচ সেই অপেক্ষার শেষ হচ্ছে না সহজেই। সারা দেশ থেকে আসা ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে কোথাও সহজে মিলছে না আইসিইউ।

রাজধানীর ফার্মগেটের বাসিন্দা শিহাব উদ্দিনের এখন অপেক্ষা সেই আইসিইউ। ছেলে স্বাধীনকে নিয়ে তিন দিন ধরে লড়াই করছেন ডেঙ্গু থেকে বাঁচাতে। প্রতিনিয়ত ওঠানামা করছে প্লাটিলেটের মাত্রা। আইসিইউ না পেয়ে সাধারণ বেডেই চিকিৎসা করাতে হচ্ছে স্বাধীনকে।

শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘অক্সিজেনের জন্য যদি সিরিয়াল দিতে হয় সিরিয়াল পাইতে পাইতে রোগীর অবস্থা খুব খারাপ হয়। এই অক্সিজেন ও আইসিইউর ব্যবস্থাও বাড়ানো উচিত গভমেন্টের তরফ থেকে।’

হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপে ঢাকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সংকটাপন্ন রোগীদের আইসিইউ সংকটে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে। একদিকে মুমূর্ষু রোগীর চাপ অন্যদিকে সীমিত আইসিইউ সুবিধা। প্রতিটি খালি বেডের সঙ্গে যেন জড়িয়ে আছে একেকটি পরিবারের বেঁচে থাকার আকুতি।

রোগীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একজন বলেন, ‘কিছু রোগী আছে অনেক ক্রিটিক্যাল পর্যায়ে আছে, ওদের জন্য আইসিইউ এরও ব্যবস্থা করা উচিত, পর্যাপ্ত আইসিইউ এর ব্যবস্থাও নাই। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে আরও বেড বাড়ানো বৃদ্ধি করা প্লাস আইসিইউ সিস্টেম আরও উন্নত করা।’

চিকিৎসকরা বলছেন, সারা দেশ থেকে আসা রোগীদের চাপ বাড়ায় আইসিইউ বেড দিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। প্রতিদিনই সিরিয়ালে থাকছে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী।

শহিদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মির্জা গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘আইসিইউটা করার উদ্দেশ্য ছিল এখানে যে আমাদের ইনহাউস মেডিসিন স্পেশালিষ্ট সার্জিক্যাল কেস যেগুলো খারাপ হয়ে গেলে আমাদের তাদেরকে এই সাপোর্টটা দেয়ার জন্য করা। মানে শুধু ইনহাউস ডিমান্ডটা মিট করার জন্য। হোয়ার অ্যাস আমরা ইনহাউস ডিমান্ড মিট করে বাইরে থেকে আমাদের প্রচুর প্রেসার থাকে এখানে। অনেক থাকে এখানে, আমরা সাধারণত এটা মেইনটেইন করি সিরিয়ালটা মেইনটেইন করা হয়। দেখা যায় যে ফুল স্যাচুরেটেড হওয়ার পরও প্রায় ৪০-৫০ জন মানুষের একটা সিরিয়াল থাকে।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে আইসিইউ সংকট রয়েছে। তবে তা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, ‘বাড়ানো দরকার বলেই আমাদের সরকার এরমধ্যেই সুনির্দিষ্ট আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। আইসিইউ এবং অন্যান্য যে যন্ত্রপাতি কিনতে হবে সেটার ব্যাপারে পাঁচটা ডিপিবি নিয়ে আমরা বসেছি। সেই প্রজেক্ট প্রপোজালগুলো রেডি হয়েছে। এটা বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজ শুরু করেছি। সারা দেশে বেডের সংখ্যা এই ছয় মাসে আমরা দুই-তিন হাজার হসপিটাল বেডের সংখ্যা বাড়িয়েছি। আমাদের লোকবল বাড়ানোর জন্য পাঁচ হাজার ডাক্তারের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।’

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে আইসিইউ সংকট সমাধানের পাশাপাশি ডেঙ্গু কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো উচিত।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, ‘আইসিইউ হচ্ছে তার একটা ফ্রাকশন মাত্র। যদি কেস আসতেই থাকে তাহলে হাজার আইসিইউ দিয়ে তো মোকাবেলা করা যায় না। এজন্য আমাদেরকে এখন আসলে প্রিভেন্টিভ সাইডের ওপরে জোর দিতে হবে। আইসিইউর যে বিষয়টা হয়েছে সেই বিষয়টা হলো একটা টার্সিয়ারি প্রবলেম হলে তখন তাকে কেয়ার নেয়া।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে রাজধানীতে সরকারি হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট রয়েছে ২৮টি। এর মধ্যে আইসিইউ বেড রয়েছে মাত্র ৫০০টি। আর জেলা পর্যায়ে আইসিইউ বেডের সংখ্যা মাত্র ৩০৬টি।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখের বেশি মানুষ। আর মারা গেছেন তিন শতাধিক।