কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নাম সরানোর নির্দেশ আদালতের

- আপডেট সময় : ০৩:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
- / 53
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে নামকরণ করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কেনেডি সেন্টারের। তবে সেই সিদ্ধান্তে আইনি বাধা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করা যাবে না বলে আদালত জানিয়েছেন। ফলে কেনেডি সেন্টারের নাম থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক দেশটির বিখ্যাত পারফর্মিং আর্টস ভেন্যু কেনেডি সেন্টারের নাম থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) দেয়া রায়ে বিচারক বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসির এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা যাবে না। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত সংস্কারকাজের জন্য কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও স্থগিত করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৪ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নাম, ভবনের সামনের অংশ, অন্যান্য সব ভৌত ও ডিজিটাল সাইনবোর্ড এবং সরকারি নথি থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলতে হবে। কেনেডি সেন্টারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তিনি ‘এই ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ আবার কংগ্রেসের কাছে ফিরিয়ে দিতে’ কাজ করবেন।
ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যদি এই প্রতিষ্ঠানকে শারীরিক, আর্থিক ও শিল্পকলার দিক থেকে পুনরুজ্জীবিত করার স্বাধীনতা না পাই, তাহলে এমন একটি যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার কোনও আগ্রহ আমার নেই, যা শেষ পর্যন্ত ‘নেভার নেভার ল্যান্ড’-এ পৌঁছাবে।’
এর আগে গত বছর ট্রাম্প দেশটির রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন পুনঃব্র্যান্ডিং উদ্যোগের অংশ হিসেবে কেনেডি সেন্টারের নামের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করার ঘোষণা দেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন ট্রাস্টিকে সরিয়ে দেন এবং নিজেও ট্রাস্টি হিসেবে যোগ দেন। পরে ভোটের মাধ্যমে তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
ডিসেম্বরে পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিনই ভবনের সামনের অংশে ট্রাম্পের পূর্ণ নামসংবলিত নতুন অক্ষর স্থাপন করা হয়। নাম পরিবর্তনসহ এসব পদক্ষেপের পর কেন্দ্রটিতে অনুষ্ঠানের জন্য চুক্তিবদ্ধ বেশ কয়েকজন শিল্পী অংশগ্রহণ বাতিল করেন। একই সঙ্গে টিকিট বিক্রিও কমে যায়।
এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগামী ৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক সংস্কারকাজের জন্য কেন্দ্রটি দুই বছরের জন্য বন্ধ থাকবে। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেস সদস্য ও ডেমোক্র্যাট নেতা জয়েস বিটি এবং কয়েকজন সাবেক ট্রাস্টি ট্রাম্পের এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তাদের অভিযোগ, পর্ষদ-সংক্রান্ত বিষয়ে ভোট দেয়ার অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। পরে তারা মামলায় সংস্কারকাজের জন্য কেন্দ্রটি বন্ধ রাখার পরিকল্পনার বিরুদ্ধেও আপত্তি জানান। বিবিসিকে দেয়া এক বিবৃতিতে জয়েস বিটি বলেন, ‘আজকের রায় স্পষ্ট করেছে যে এই প্রশাসনের কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন এবং সেটি বন্ধ করার উদ্যোগের কোনও আইনি ভিত্তি নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেনেডি সেন্টার আমেরিকান জনগণের প্রতিষ্ঠান, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়। তিনি নিজের ব্যক্তিগত অহমিকার জন্য এই স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন। আইনের শাসন রক্ষা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষিত রাখতে পেরে আমি গর্বিত।’
এদিকে এক বিবৃতিতে কেনেডি সেন্টারের মুখপাত্র রোমা দারাভি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আপিলে আদালত পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে, যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক অবদানকে দেশের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করা যায়’। তিনি আরও জানান, সংস্কারের জন্য কেন্দ্র বন্ধ রাখার বিষয়ে বিচারকের সিদ্ধান্তও তারা পর্যালোচনা করবেন।
দারাভি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, কেন্দ্রটির জরুরি ও ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন, আর এ বিষয়টি বাদীপক্ষও স্বীকার করেছে।’
আমেরিকান এই প্রতিষ্ঠানটির নতুন পূর্ণাঙ্গ নাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘দ্য ডোনাল্ড জে ট্রাম্প অ্যান্ড জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’। তবে জেলা বিচারক ক্রিস্টোফার কুপারের আদেশ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির নাম আবার ‘জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ হবে।
১৯৭১ সালে এটি প্রথম চালু হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৬৩ সালে নিহত প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির স্মরণে এই নামকরণ করা হয়েছিল। ৯৪ পৃষ্ঠার রায়ে কুপার লিখেছেন, ‘কেনেডি সেন্টার সংক্রান্ত আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে কেন্দ্রটির নাম প্রেসিডেন্ট কেনেডির নামেই হবে। পরিচালনা পর্ষদ একতরফাভাবে অন্য কোনও আনুষ্ঠানিক নাম বা স্মারক যুক্ত করতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কংগ্রেস কেনেডি সেন্টারের নাম দিয়েছে, আর কেবল কংগ্রেসই সেই নাম পরিবর্তন করতে পারে।’

























