ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের টাকা পাচার হতে দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 43

যারা বাজেটকে গণবিরোধী বলে, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৭ জুন) শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরের মধ্য চা বাগানের সব নারী শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে নারী পুরুষ একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে না পারলে তাদের এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।

মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলে ১৫০ চা শ্রমিক সন্তানদের স্কলারশিপ দেয়া হয়েছে। আগামী ১ বছরে ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেয়া হবে। বিএনপি দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। আগামী ৫ বছরে উপজেলার ৫০ বেডের হাসপাতাল ১০০ বেডে উন্নীত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের যে জন্য বাজেট দেয়া হয়েছে, একটি দল বলে এটা নাকি জনবিরোধী বাজেট। জনবান্ধন বাজেটকে যারা গনবিরোধী বাজেট বলে তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না। যারা জনগণকে বিভ্রান্তি করে তাদের বিরুদ্ধে সচেতন এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, মানুষ যতবারই ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে ততবারই বিএনপিকে বিজয়ী করেছে। দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না। বিএনপির সব শক্তিই জনগণ। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগলে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

তিনি বলেন, জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে বিদেশে পাচার করেছিলো একটি দল। জনগণের টাকা পাচার হতে দেবো না, জনগণের অর্থ দিয়ে জনগণের কাজ করা হবে। যারা বিদেশে টাকা পাচার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের প্রচার সিলেটের মাটি থেকে শুরু হয়েছিল। হবিগঞ্জে ঘোষণা দিয়েছিলাম চা বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিব। আজ শ্রীমঙ্গলের মাটিতে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলো।

তিনি বলেন, মাতৃভূমি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করতে না পারলে সেটা সম্ভব নয়। তাই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছি যা নির্বাচনের পরে এক মাস যাওয়ার আগেই বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিশ্বাস করে এই সরকার।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু কয়েকদিন ধরে পত্রিকাগুলো দেখুন। বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, চিকিৎসাসহ অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দ রেখেছে সরকার। যে বাজেটে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে অনেকে সেই বাজেট পছন্দ হয় নাই। কিছু কিছু মানুষ বলেছে সেই বাজেট নাকি চানাচুরের মতো। যে বাজেট মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায় সেই বাজেটকে তারা চানাচুর ও গণবিরোধী বলে।

এর আগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় ১৫৫ জন ভাতাভোগীর মাঝে জুন মাসের ভাতার টাকা মোবাইলে পাঠানো হয়।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুর পৌনে ২টার দিকে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সরকার প্রধান। এর আগে বেশ কয়েকটি দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে অনুদান তুলে দেন তিনি। পরে অনলাইনের মাধ্যমে তাদের মোবাইলে ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়।

এর আগে, বেলা সোয়া ১০টার সিলেট পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী, সেখান থেকে বাসযোগে মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।

এরপর, বিকেলে দুসাই রিসোর্টের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে বিশ্রাম শেষে রাজনৈতিক সভায় যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। সভা শেষে সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে জেলাজুড়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে উদ্দীপনা বইছে দলীয় নেতাকর্মীরদের মাঝে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জনগণের টাকা পাচার হতে দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

যারা বাজেটকে গণবিরোধী বলে, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৭ জুন) শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরের মধ্য চা বাগানের সব নারী শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে নারী পুরুষ একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করতে না পারলে তাদের এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।

মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই সরকারের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলে ১৫০ চা শ্রমিক সন্তানদের স্কলারশিপ দেয়া হয়েছে। আগামী ১ বছরে ৪০ লাখ কৃষক কার্ড দেয়া হবে। বিএনপি দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। আগামী ৫ বছরে উপজেলার ৫০ বেডের হাসপাতাল ১০০ বেডে উন্নীত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের যে জন্য বাজেট দেয়া হয়েছে, একটি দল বলে এটা নাকি জনবিরোধী বাজেট। জনবান্ধন বাজেটকে যারা গনবিরোধী বাজেট বলে তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না। যারা জনগণকে বিভ্রান্তি করে তাদের বিরুদ্ধে সচেতন এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, মানুষ যতবারই ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে ততবারই বিএনপিকে বিজয়ী করেছে। দেশের উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে হলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না। বিএনপির সব শক্তিই জনগণ। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগলে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

তিনি বলেন, জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে বিদেশে পাচার করেছিলো একটি দল। জনগণের টাকা পাচার হতে দেবো না, জনগণের অর্থ দিয়ে জনগণের কাজ করা হবে। যারা বিদেশে টাকা পাচার করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের প্রচার সিলেটের মাটি থেকে শুরু হয়েছিল। হবিগঞ্জে ঘোষণা দিয়েছিলাম চা বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিব। আজ শ্রীমঙ্গলের মাটিতে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলো।

তিনি বলেন, মাতৃভূমি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করতে না পারলে সেটা সম্ভব নয়। তাই ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছি যা নির্বাচনের পরে এক মাস যাওয়ার আগেই বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে বিশ্বাস করে এই সরকার।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু কয়েকদিন ধরে পত্রিকাগুলো দেখুন। বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, চিকিৎসাসহ অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দ রেখেছে সরকার। যে বাজেটে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে অনেকে সেই বাজেট পছন্দ হয় নাই। কিছু কিছু মানুষ বলেছে সেই বাজেট নাকি চানাচুরের মতো। যে বাজেট মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায় সেই বাজেটকে তারা চানাচুর ও গণবিরোধী বলে।

এর আগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় ১৫৫ জন ভাতাভোগীর মাঝে জুন মাসের ভাতার টাকা মোবাইলে পাঠানো হয়।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুর পৌনে ২টার দিকে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সরকার প্রধান। এর আগে বেশ কয়েকটি দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে অনুদান তুলে দেন তিনি। পরে অনলাইনের মাধ্যমে তাদের মোবাইলে ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়।

এর আগে, বেলা সোয়া ১০টার সিলেট পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী, সেখান থেকে বাসযোগে মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।

এরপর, বিকেলে দুসাই রিসোর্টের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে বিশ্রাম শেষে রাজনৈতিক সভায় যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। সভা শেষে সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে জেলাজুড়ে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে উদ্দীপনা বইছে দলীয় নেতাকর্মীরদের মাঝে।