ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন পাইলটকে হত্যা করে বিমান জ্বালিয়ে দিল ইন্দোনেশিয়ার বিদ্রোহীরা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • / 106
119

ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলে নিকোলাস এফ গোসেলিন নামের এক মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা করেছে স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। হত্যার পর তার বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশের ইয়াহুকিমো অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি) নামের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাতজন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করা বিমানটি অবতরণের আগে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির সংকেত দেয়নি। তবে অবতরণের পরপরই বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তারা ইয়াহুকিমো অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে বিমানটিকে পুড়ে যাওয়া অবস্থায় শনাক্ত করেন। বিমানটি যে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল, সেখানকার পরিচালকের প্রাথমিক প্রতিবেদনেও মার্কিন পাইলটের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

হামলার কারণ সম্পর্কে টিপিএনপিবির মুখপাত্র সেবি সামবোম জানান, ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগে তারা বিরোধপূর্ণ ওই অঞ্চলে সব ধরনের বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নির্দেশনা অমান্য করে ইন্দোনেশীয় সেনাদের বহন করার কারণেই বিমানটিতে গুলি চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্য বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে কোনো বেসামরিক বিমান সহায়তা করলে তাতে হামলা চালানো হবে। তবে সামরিক বা পুলিশ সদস্য ছাড়া বেসামরিক কর্মকর্তারা চাইলে নিহত পাইলটের মরদেহ নিয়ে যেতে পারবেন বলে তিনি শর্ত দিয়েছেন।

সম্পদসমৃদ্ধ পাপুয়া অঞ্চলটি ১৯৬৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চলছে। এই সংঘাতে বহু মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার দাবি করে আসছে বিদ্রোহীরা। মার্কিন পাইলটকে হত্যার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া সরকারকে মূলত একটি কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে গোষ্ঠীটি সংঘাত নিরসনে সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালে একই সংগঠনের হাতে ১৯ মাস বন্দি থাকার পর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের এক পাইলটকে মুক্ত করা হয়েছিল। সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন পাইলটকে হত্যা করে বিমান জ্বালিয়ে দিল ইন্দোনেশিয়ার বিদ্রোহীরা!

আপডেট সময় : ১২:৩০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
119

ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলে নিকোলাস এফ গোসেলিন নামের এক মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা করেছে স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। হত্যার পর তার বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশের ইয়াহুকিমো অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি) নামের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাতজন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করা বিমানটি অবতরণের আগে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির সংকেত দেয়নি। তবে অবতরণের পরপরই বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তারা ইয়াহুকিমো অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে বিমানটিকে পুড়ে যাওয়া অবস্থায় শনাক্ত করেন। বিমানটি যে বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করেছিল, সেখানকার পরিচালকের প্রাথমিক প্রতিবেদনেও মার্কিন পাইলটের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

হামলার কারণ সম্পর্কে টিপিএনপিবির মুখপাত্র সেবি সামবোম জানান, ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অভিযোগে তারা বিরোধপূর্ণ ওই অঞ্চলে সব ধরনের বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নির্দেশনা অমান্য করে ইন্দোনেশীয় সেনাদের বহন করার কারণেই বিমানটিতে গুলি চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্য বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে কোনো বেসামরিক বিমান সহায়তা করলে তাতে হামলা চালানো হবে। তবে সামরিক বা পুলিশ সদস্য ছাড়া বেসামরিক কর্মকর্তারা চাইলে নিহত পাইলটের মরদেহ নিয়ে যেতে পারবেন বলে তিনি শর্ত দিয়েছেন।

সম্পদসমৃদ্ধ পাপুয়া অঞ্চলটি ১৯৬৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চলছে। এই সংঘাতে বহু মানুষ নিহত ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার দাবি করে আসছে বিদ্রোহীরা। মার্কিন পাইলটকে হত্যার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া সরকারকে মূলত একটি কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে গোষ্ঠীটি সংঘাত নিরসনে সরকারকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালে একই সংগঠনের হাতে ১৯ মাস বন্দি থাকার পর দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের এক পাইলটকে মুক্ত করা হয়েছিল। সূত্র: বিবিসি