ইরানের প্রতিশোধের আগুনে ধ্বংস মার্কিন যুদ্ধবিমান
- আপডেট সময় : ১১:০৭:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / 8
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেশম দ্বীপে একটি আবাসিক ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় একই পরিবারের মা-বাবা ও তাঁদের দুই বছর বয়সী শিশু সন্তানসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। হরমোজগান প্রদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-গভর্নর আহমেদ নাফিসি বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন, কেশম শহরের চাহ তাঙ্গু এলাকার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হামলার পরপরই পরিবারটির অন্য দুই সন্তানকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইআরআইবি’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহত বাবা পেশায় একজন ট্যাক্সি চালক ছিলেন এবং যে এলাকায় হামলাটি চালানো হয়েছে তা মূলত শ্রমজীবী মানুষের আবাসিক এলাকা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বার্তায় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা তাদের সামরিক ঘাঁটিতে আগের দিন চালানো ইরানি হামলার জবাবেই এই শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক আঘাত হানা হয়েছে। এই বোমাবর্ষণে কেশম দ্বীপ ছাড়াও পারস্য উপসাগরের বুশেহর প্রদেশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
জর্ডানে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি: কেশম দ্বীপে এই রক্তক্ষয়ী মার্কিন হামলার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে ইরান। এর পাল্টা জবাবে জর্ডানের পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত ‘আল-আজরাক’ বিমান ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ও রানওয়ে লক্ষ্য করে এই রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩টি দামি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও ৩টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এই হামলায় একাধিক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা এবং কারিগরি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেছে আধা-সামরিক এই বাহিনীটি।
তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা তাদের ভূখণ্ডের দিকে ধেয়ে আসা ৫টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করেছে।
কুয়েতে ড্রোন হ্যাঙ্গার উড়িয়ে দেয়ার দাবি: জর্ডানের পাশাপাশি কুয়েতে অবস্থিত ‘আলী আল সালিম’ বিমান ঘাঁটিতেও শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত ওই ঘাঁটির ২টি ড্রোন হ্যাঙ্গার এবং একটি বিশাল ফুয়েল ট্যাংকার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
তবে কুয়েত সরকার বা মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে এই ঘাঁটি ধ্বংসের বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট মন্তব্য বা সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একের পর এক আকাশপথে বিমান ও রকেট হামলার মাধ্যমে দুই দেশের চলমান এই ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি এক পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে। তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি ও আনাদোলু এজেন্সি
























পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সার্জিও গোরের আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি