কাহারোলে ফিরছে পাটের সুদিন

- আপডেট সময় : ১১:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 68
সোনালী আঁশে আবারো সোনালী স্বপ্ন দেখা দিয়েছে। ফিরেছে পাটের সুদিন। পাটের বাম্পার ফলন ও ভালো দামে খুশি এই এলাকার কৃষক। হাট-বাজারে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে পাট। কৃষকের আশা সোনালী আঁশে তাদের ভাগ্য ফিরবে।
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের পাট নিয়ে মহা কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত এখন কৃষকেরা। দিনরাত পাট ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। পাট কাটা, জাগ দেওয়া, ধোয়া আর শুকানোর কাজ চলছে। তবে পানির কিছুটা স্বল্পতা রয়েছে। ভরা বর্ষা মৌসুমেও কাহারোল উপজেলার খালগুলোতে পর্যাপ্ত পানি নেই। তাই পাট জাগ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চাষিরা। বর্তমানে একজন কৃষি শ্রমিকের মজুরি ৭ শত টাকা থেকে ৮ শত টাকা।
একবিঘা জমির পাট কাটতে খরচ প্রায় ১০ হাজার টাকা। আবারো পাটের আঁশ ছাড়াতে গ্রামীণ নারীরা পাটখড়ি নিয়ে নিচ্ছেন। ফলে কৃষকের পাটখড়ি চলে যাচ্ছে অন্যের ঘরে। কাহারোলের হাট-বাজারে নতুন পাট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫শত টাকা থেকে ৪ হাজার ৭শত টাকা মণ। গত বছর পাটের সর্বোচ্চ দাম ছিল ৩ হাজার ৬ শত টাকা। বাজারে এখন নতুন পাটের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। গত শনিবার উপজেলার কাহারোল হাটে পাট বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫শত টাকা থেকে ৪ হাজার ৭শত টাকা মণ দরে।
উপজেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ শত ৭০ হেক্টর জমি। গত বছরের অর্জিত ছিল ৩ শত ৬০ হেক্টর। বিঘাপ্রতি ফলনও ভালো হয়েছে। হাট-বাজারে নতুন পাটের দামও বেশি।
উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের পাটচাষি আনিছুর রহমান বলেন, আমন ধান রোপণের টাকার জন্য পাট বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম ভালো পেয়েছি। কিছুটা ভেজা থাকায় ৪ হাজার ৫শত টাকা মণ বিক্রি করেছি। অনেক বছর পর পাটের ভালো দাম পেলাম।
উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের আরেক পাটচাষি আব্দুস সামাদ জানান, পাটের দাম বেশি ঠিক আছে। কাহারোল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহিদুর রহমান জানান, পাটে জাগ দেওয়ার জন্য পানির সংকট কিছুটা ছিল। যা এখন আর নেই।
উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা পাট চাষীদের শুরু থেকেই মাঠে গিয়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছেন। পাটচাষিরা এখন ব্যস্ত পাট ঘরে তুলতে। পাটের ভালো ফলন ও দামও ভালো হয়েছে বলে জানান এই উপজেলার পাট চাষীরা।























