ঢাকা ১২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ক্ষুধার্ত’ গাজাবাসীর শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / 190

ফিলিস্তিনিরা এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, অনাহারে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে। এতে দলে দলে মানুষের মিশরে চলে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

দুই মাসেরও বেশি সময় আগে যুদ্ধ শুরুর সময় থেকে গাজা পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। মিশরের সঙ্গে গাজার সীমান্তই এখন মানুষের এখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।

যুদ্ধের কারণে গাজার ২৩ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে। অধিবাসীরা বলছে, জনাকীর্ণ এই ভূখন্ডে আশ্রয় এবং খাবার পাওয়া অসম্ভব হয়ে উঠেছে। লড়াইয়ে এরই মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ মারা গেছে। আর সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে।

গাজাবাসী বলছে, হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে মানুষ বারবার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পালাতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে তাঁরা ক্ষুধা, ঠান্ডার পাশাপাশি বোমা হামলাতেও মরছে। ত্রাণের ট্রাকগুলোতে মরিয়া হয়ে হামলে পড়ছে মানুষ। জিনিসের দামও আকাশছোঁয়া।

‘আমাদের মধ্যে কেউ কি আশা করেছিলাম যে, মানুষ ক্ষুধায় মারা যাবে? এটা কি আগে কারও ধারণায় ছিল?’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোলা ঘানিম নামের একজন এ কথা লিখেছেন।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রধান নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ বলেন, ‘ত্রাণের ট্রাকগুলো এমনকি রাস্তার মোড়ে গতি কিছুটা কমালেও মরিয়া অধিবাসীদের কবলে পড়ে থামতে বাধ্য হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।’

গত শনিবার তিনি বলেন, ‘গাজার জনসংখ্যার অর্ধেকই অনাহারে রয়েছে। ১০ জনে ৯ জন মানুষই প্রতিদিন খাবার পাচ্ছে না।’

এক ফিলিস্তিনি টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি তিনদিন ধরে কিছু খাননি। সন্তানদের খাওয়াতে রুটির জন্য তাঁকে ভিক্ষা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি শক্ত থাকার ভান করছি। কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে যে, যে কোনও সময়েই আমি সন্তানদের সামনে পড়ে যেতে পারি।’

গাজায় এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি গত ১ ডিসেম্বরে ভেঙে পড়ার পর থেকে ইসরায়েল গত সপ্তাহে দক্ষিণে স্থল অভিযান শুরু করেছে। তখন থেকেই তারা পূর্ব দিক থেকে দক্ষিণের খান ইউনিস নগরীর ভেতর দিকে অগ্রসর হয়েছে। ওদিকে, পশ্চিমে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলের জঙ্গি বিমান।

জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলছেন, গাজার ১৯ লাখ মানুষই উদ্বাস্তু হয়েছে, যা জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশই। দক্ষিণের এলাকাগুলোয় পরিস্থিতি নারকীয় বলে বর্ণনা করেছে তারা।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস রোববার বলেন, তাঁর ধারণা জনশৃঙ্খলা খুব শিগগিরই পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। আর তখন মহামারি আকারে রোগ ছড়িয়ে পড়া এবং মিশরে গণহারে মানুষের পালিয়ে যাওয়ার চাপ বেড়ে যাওয়াসহ আরও খারাপ একটি পরিস্থিতির উদ্রেক ঘটতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘ক্ষুধার্ত’ গাজাবাসীর শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে

আপডেট সময় : ০৫:৪৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৩

ফিলিস্তিনিরা এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, অনাহারে থাকা মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে। এতে দলে দলে মানুষের মিশরে চলে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

দুই মাসেরও বেশি সময় আগে যুদ্ধ শুরুর সময় থেকে গাজা পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। মিশরের সঙ্গে গাজার সীমান্তই এখন মানুষের এখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ।

যুদ্ধের কারণে গাজার ২৩ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে। অধিবাসীরা বলছে, জনাকীর্ণ এই ভূখন্ডে আশ্রয় এবং খাবার পাওয়া অসম্ভব হয়ে উঠেছে। লড়াইয়ে এরই মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ মারা গেছে। আর সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে।

গাজাবাসী বলছে, হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে মানুষ বারবার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পালাতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে তাঁরা ক্ষুধা, ঠান্ডার পাশাপাশি বোমা হামলাতেও মরছে। ত্রাণের ট্রাকগুলোতে মরিয়া হয়ে হামলে পড়ছে মানুষ। জিনিসের দামও আকাশছোঁয়া।

‘আমাদের মধ্যে কেউ কি আশা করেছিলাম যে, মানুষ ক্ষুধায় মারা যাবে? এটা কি আগে কারও ধারণায় ছিল?’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোলা ঘানিম নামের একজন এ কথা লিখেছেন।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রধান নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ বলেন, ‘ত্রাণের ট্রাকগুলো এমনকি রাস্তার মোড়ে গতি কিছুটা কমালেও মরিয়া অধিবাসীদের কবলে পড়ে থামতে বাধ্য হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।’

গত শনিবার তিনি বলেন, ‘গাজার জনসংখ্যার অর্ধেকই অনাহারে রয়েছে। ১০ জনে ৯ জন মানুষই প্রতিদিন খাবার পাচ্ছে না।’

এক ফিলিস্তিনি টেলিফোনে রয়টার্সকে বলেছেন, তিনি তিনদিন ধরে কিছু খাননি। সন্তানদের খাওয়াতে রুটির জন্য তাঁকে ভিক্ষা করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি শক্ত থাকার ভান করছি। কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে যে, যে কোনও সময়েই আমি সন্তানদের সামনে পড়ে যেতে পারি।’

গাজায় এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি গত ১ ডিসেম্বরে ভেঙে পড়ার পর থেকে ইসরায়েল গত সপ্তাহে দক্ষিণে স্থল অভিযান শুরু করেছে। তখন থেকেই তারা পূর্ব দিক থেকে দক্ষিণের খান ইউনিস নগরীর ভেতর দিকে অগ্রসর হয়েছে। ওদিকে, পশ্চিমে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলের জঙ্গি বিমান।

জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলছেন, গাজার ১৯ লাখ মানুষই উদ্বাস্তু হয়েছে, যা জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশই। দক্ষিণের এলাকাগুলোয় পরিস্থিতি নারকীয় বলে বর্ণনা করেছে তারা।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস রোববার বলেন, তাঁর ধারণা জনশৃঙ্খলা খুব শিগগিরই পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। আর তখন মহামারি আকারে রোগ ছড়িয়ে পড়া এবং মিশরে গণহারে মানুষের পালিয়ে যাওয়ার চাপ বেড়ে যাওয়াসহ আরও খারাপ একটি পরিস্থিতির উদ্রেক ঘটতে পারে।