ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবালেঙ্কার ‘থ্রি-পিট’ স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন রিবাকিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১৪:০৪ অপরাহ্ন, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 15

নিউ ইয়র্কে আরেকটি বড় মঞ্চে বরফশীতল মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিলেন এলেনা রিবাকিনা। দুইবারের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আরিনা সাবালেঙ্কাকে ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতেছেন কাজাখস্তানের এই টেনিস তারকা।

একই সঙ্গে রিবাকিনা নিজের ক্যারিয়ারে যোগ করেছেন তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম ও প্রথমবারের মতো উঠেছেন বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে।

রিবাকিনার এই জয়ে ফ্লাশিং মিডোজে সাবালেঙ্কার টানা ২০ ম্যাচের জয়ের ধারাও থেমে গেল। পাশাপাশি সেরেনা উইলিয়ামস ও ক্রিস এভার্টের পর নিউ ইয়র্কে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগও হারালেন বেলারুশের ২৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই গোড়ালির চোট নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন রিবাকিনা। কিন্তু ২৭ বছর বয়সী এই তারকা সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে জিতলেন ইউএস ওপেন। চলতি বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর এটি তার দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম। এর আগে ২০২২ সালে উইম্বলডন জিতেছিলেন তিনি।

ম্যাচ শেষে রিবাকিনা বলেন, ‘কী বলব, শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না। টুর্নামেন্টে আসার সময় এমন কিছু হবে, তা একদমই ভাবিনি।’

চলতি শতকে একই বছরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও ইউএস ওপেন জেতা মাত্র তৃতীয় নারী খেলোয়াড় হলেন রিবাকিনা। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন সাবালেঙ্কা ও অ্যাঞ্জেলিক কারবার।

সাবালেঙ্কার প্রতি পূর্ণ সম্মান জানাতেও ভোলেননি রিবাকিনা, ‘চোট নিয়ে কিছুটা ভুগছিলাম। কোনোভাবে সবকিছু আমার পক্ষে একসঙ্গে মিলে গেছে। আরিনা, তোমার বিপক্ষে খেলা ভীষণ কঠিন। তুমি আমাকে সীমার শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাও।’

বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় হওয়ার অনুভূতিটাও ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন তিনি, ‘পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন জানবেন, আপনি ইউএস ওপেন জিতেছেন ও বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর হয়েছেন, অনুভূতিটা অবশ্যই আলাদা হবে।’

আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে বিশ্বের শীর্ষ দুই খেলোয়াড়ের লড়াইটি হওয়ার কথা ছিল মহারণ। শুরুতেও তার আভাস মিলেছিল।

হলুদ-কালো পোশাকে মৌমাছির মতো দেখাচ্ছিল রিবাকিনাকে। সেই সঙ্গে তার গ্রাউন্ডস্ট্রোকও ছিল হুল ফোটানোর মতো ধারালো। তবে শুরুতে চাপ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারছিলেন না তিনি। বড় বড় সার্ভে সাবালেঙ্কা সামলে রাখছিলেন নিজের সার্ভিস গেম।

দ্বিতীয় সেটে প্রথম বড় ধাক্কা খান সাবালেঙ্কার। তার ডাবল ফল্টের পর ৩-২ গেমে এগিয়ে যান রিবাকিনা। মেজাজ হারিয়ে এরপর গ্যালারিতে বল ছুড়ে মারেন সাবালেঙ্কা। ফলে কোড ভায়োলেশনের শাস্তিও পান তিনি।

পরে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে হারলে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সত্যিই কঠিন। বিশেষ করে যখন আপনি “থ্রি-পিট” করার চেষ্টা করছেন। তাই আবেগটা বের করে দিতে চেয়েছিলাম। ভেতরে চেপে রাখলে হয়তো একটা কথাও বলতে পারতাম না।’

এরপরও সাবালেঙ্কার অস্থিরতা বাড়তে থাকে। বিপরীতে রিবাকিনার মুখে ছিল সেই চেনা নির্বিকার ভাব। সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম সেট ৬-৪ গেমে জিতে নেন তিনি।

দ্বিতীয় সেটের মাঝপথে অবশ্য রিবাকিনার খেলায় হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে। সেই সুযোগ কাজে লাগান সাবালেঙ্কা।

দারুণ একটি ড্রপ শট এবং দুর্দান্ত ব্যাকহ্যান্ড ক্রসকোর্ট উইনারে ম্যাচে ফেরার পথ তৈরি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সেট ৭-৫ গেমে জিতে ম্যাচ নিয়ে যান নির্ণায়ক তৃতীয় সেটে।

তৃতীয় সেটের শুরুটাও ছিল জমজমাট। প্রথম গেমে কঠিন লড়াইয়ের পর সার্ভ ধরে গর্জে ওঠেন সাবালেঙ্কা।

কিন্তু এরপর আর তাকে সুযোগ দেননি রিবাকিনা।

র‍্যাকেটের লাল-নীল ফ্রেমের ঝলকানি ছাপিয়ে কোর্টে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখেন রিবাকিনা। দ্রুত ৫-২ গেমে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬-২ গেমে সেটটি জিতে নেন তিনি।

সঙ্গে নিশ্চিত করেন ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় জয়।

রিবাকিনার উদ্‌যাপনেও অবশ্য ছিল না খুব বেশি উচ্ছ্বাস। যেন বড় কোনো ম্যাচ নয়, নিয়মিত আরেকটি ম্যাচ জিতেছেন- এমনভাবেই শান্তভাবে নিজের বেঞ্চে ফিরে জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করেন তিনি।

অন্যদিকে ভেঙে পড়া সাবালেঙ্কা বসে ছিলেন ভাঙা র‍্যাকেট হাতে।

চোখের পানি সামলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘এই মুহূর্তে শেষ যে কাজটি করতে চাই, সেটি হলো বক্তব্য দেওয়া। তবে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

এরপর রিবাকিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি হতাশ। তবে এলেনাকে অভিনন্দন। ইশ, যদি একটু ভালো খেলতে পারতাম! তবে আশা করি, আগামী বছর পারব।’

রোববার পুরুষদের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ বছরের গ্র্যান্ড স্লাম-খরা কাটানোর লক্ষ্যে নামবেন বেন শেলটন। তার প্রতিপক্ষ শীর্ষ বাছাই আলেক্সান্ডার জভেরেভ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সাবালেঙ্কার ‘থ্রি-পিট’ স্বপ্ন ভেঙে চ্যাম্পিয়ন রিবাকিনা

আপডেট সময় : ০১:১৪:০৪ অপরাহ্ন, রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউ ইয়র্কে আরেকটি বড় মঞ্চে বরফশীতল মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিলেন এলেনা রিবাকিনা। দুইবারের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আরিনা সাবালেঙ্কাকে ৬-৪, ৫-৭, ৬-২ গেমে হারিয়ে ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতেছেন কাজাখস্তানের এই টেনিস তারকা।

একই সঙ্গে রিবাকিনা নিজের ক্যারিয়ারে যোগ করেছেন তৃতীয় গ্র্যান্ড স্লাম ও প্রথমবারের মতো উঠেছেন বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে।

রিবাকিনার এই জয়ে ফ্লাশিং মিডোজে সাবালেঙ্কার টানা ২০ ম্যাচের জয়ের ধারাও থেমে গেল। পাশাপাশি সেরেনা উইলিয়ামস ও ক্রিস এভার্টের পর নিউ ইয়র্কে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগও হারালেন বেলারুশের ২৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই গোড়ালির চোট নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন রিবাকিনা। কিন্তু ২৭ বছর বয়সী এই তারকা সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে জিতলেন ইউএস ওপেন। চলতি বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর এটি তার দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্লাম। এর আগে ২০২২ সালে উইম্বলডন জিতেছিলেন তিনি।

ম্যাচ শেষে রিবাকিনা বলেন, ‘কী বলব, শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না। টুর্নামেন্টে আসার সময় এমন কিছু হবে, তা একদমই ভাবিনি।’

চলতি শতকে একই বছরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও ইউএস ওপেন জেতা মাত্র তৃতীয় নারী খেলোয়াড় হলেন রিবাকিনা। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন সাবালেঙ্কা ও অ্যাঞ্জেলিক কারবার।

সাবালেঙ্কার প্রতি পূর্ণ সম্মান জানাতেও ভোলেননি রিবাকিনা, ‘চোট নিয়ে কিছুটা ভুগছিলাম। কোনোভাবে সবকিছু আমার পক্ষে একসঙ্গে মিলে গেছে। আরিনা, তোমার বিপক্ষে খেলা ভীষণ কঠিন। তুমি আমাকে সীমার শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাও।’

বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় হওয়ার অনুভূতিটাও ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন তিনি, ‘পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন জানবেন, আপনি ইউএস ওপেন জিতেছেন ও বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর হয়েছেন, অনুভূতিটা অবশ্যই আলাদা হবে।’

আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে বিশ্বের শীর্ষ দুই খেলোয়াড়ের লড়াইটি হওয়ার কথা ছিল মহারণ। শুরুতেও তার আভাস মিলেছিল।

হলুদ-কালো পোশাকে মৌমাছির মতো দেখাচ্ছিল রিবাকিনাকে। সেই সঙ্গে তার গ্রাউন্ডস্ট্রোকও ছিল হুল ফোটানোর মতো ধারালো। তবে শুরুতে চাপ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারছিলেন না তিনি। বড় বড় সার্ভে সাবালেঙ্কা সামলে রাখছিলেন নিজের সার্ভিস গেম।

দ্বিতীয় সেটে প্রথম বড় ধাক্কা খান সাবালেঙ্কার। তার ডাবল ফল্টের পর ৩-২ গেমে এগিয়ে যান রিবাকিনা। মেজাজ হারিয়ে এরপর গ্যালারিতে বল ছুড়ে মারেন সাবালেঙ্কা। ফলে কোড ভায়োলেশনের শাস্তিও পান তিনি।

পরে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে হারলে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সত্যিই কঠিন। বিশেষ করে যখন আপনি “থ্রি-পিট” করার চেষ্টা করছেন। তাই আবেগটা বের করে দিতে চেয়েছিলাম। ভেতরে চেপে রাখলে হয়তো একটা কথাও বলতে পারতাম না।’

এরপরও সাবালেঙ্কার অস্থিরতা বাড়তে থাকে। বিপরীতে রিবাকিনার মুখে ছিল সেই চেনা নির্বিকার ভাব। সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম সেট ৬-৪ গেমে জিতে নেন তিনি।

দ্বিতীয় সেটের মাঝপথে অবশ্য রিবাকিনার খেলায় হঠাৎ ছন্দপতন ঘটে। সেই সুযোগ কাজে লাগান সাবালেঙ্কা।

দারুণ একটি ড্রপ শট এবং দুর্দান্ত ব্যাকহ্যান্ড ক্রসকোর্ট উইনারে ম্যাচে ফেরার পথ তৈরি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সেট ৭-৫ গেমে জিতে ম্যাচ নিয়ে যান নির্ণায়ক তৃতীয় সেটে।

তৃতীয় সেটের শুরুটাও ছিল জমজমাট। প্রথম গেমে কঠিন লড়াইয়ের পর সার্ভ ধরে গর্জে ওঠেন সাবালেঙ্কা।

কিন্তু এরপর আর তাকে সুযোগ দেননি রিবাকিনা।

র‍্যাকেটের লাল-নীল ফ্রেমের ঝলকানি ছাপিয়ে কোর্টে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখেন রিবাকিনা। দ্রুত ৫-২ গেমে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬-২ গেমে সেটটি জিতে নেন তিনি।

সঙ্গে নিশ্চিত করেন ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় জয়।

রিবাকিনার উদ্‌যাপনেও অবশ্য ছিল না খুব বেশি উচ্ছ্বাস। যেন বড় কোনো ম্যাচ নয়, নিয়মিত আরেকটি ম্যাচ জিতেছেন- এমনভাবেই শান্তভাবে নিজের বেঞ্চে ফিরে জিনিসপত্র গোছাতে শুরু করেন তিনি।

অন্যদিকে ভেঙে পড়া সাবালেঙ্কা বসে ছিলেন ভাঙা র‍্যাকেট হাতে।

চোখের পানি সামলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘এই মুহূর্তে শেষ যে কাজটি করতে চাই, সেটি হলো বক্তব্য দেওয়া। তবে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

এরপর রিবাকিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি হতাশ। তবে এলেনাকে অভিনন্দন। ইশ, যদি একটু ভালো খেলতে পারতাম! তবে আশা করি, আগামী বছর পারব।’

রোববার পুরুষদের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ বছরের গ্র্যান্ড স্লাম-খরা কাটানোর লক্ষ্যে নামবেন বেন শেলটন। তার প্রতিপক্ষ শীর্ষ বাছাই আলেক্সান্ডার জভেরেভ।