ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধ্বংসস্তূপ থেকে শ্রীলঙ্কার ব্রোঞ্জ, বাংলাদেশের হতাশা

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5

শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের মতো। শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ডে ২১ রান উঠতেই জ্বলছিল চারটি উইকেট। ১০.৫ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৫৪ রান। মনে হচ্ছিল, এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জটা বুঝি বাংলাদেশের হাতেই উঠছে।

কিন্তু ক্রিকেটে গল্পটা শেষ বলেও লেখা হয়। আর সেই গল্পে বাংলাদেশকে হতাশ করে নায়ক হয়ে উঠলেন তারিন্দু রত্নায়েকে।

ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কার রত্ন হয়ে উঠলেন রত্নায়েকে। সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সাহান আরাচ্চিগেকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে গড়লেন ৯৩ রানের দারুণ এক জুটি। রত্নায়েকের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান তুলল শ্রীলঙ্কা।

সামনে ছিল ১৬৬ রানের লক্ষ্য। এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ব্রোঞ্জ পদক জিততে বাংলাদেশের দরকার ছিল শুধু একটি পরিপাটি রান তাড়া। কিন্তু রান তাড়ার শুরুতেই যেন সব হিসাব এলোমেলো হয়ে গেল। ৪ রানেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে থামল তাদের ইনিংস। ৬৩ রানের জয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করল শ্রীলঙ্কা।

নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শঙ্কান অধিনায়ক আরাচ্চিগে। শুরুটা একদমই সুখকর ছিল না, ৫০ রান পেরোনোর আগেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের স্পিনাররা তখন দারুণ নিয়ন্ত্রণে। মেহেদী হাসান ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। আলিস আল ইসলামও ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। ৬ ওভারের পাওয়ারপ্লেতে ৪ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা তুলতে পারে মাত্র ২৯ রান।

তারপরই পাল্টে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। আরাচ্চিগে এক প্রান্ত আগলে রাখেন, অন্য প্রান্তে ঝড় তোলেন রত্নায়েকে। ৩২ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস। ৭টি চার ও ৫টি ছক্কা মারেন এই অলরাউন্ডার, স্ট্রাইক রেট ২০৩.১২। ১৮.১ ওভারে রত্নায়েকে ফিরলেও ততক্ষণে শ্রীলঙ্কাকে বিপদ থেকে বের করে এনেছেন। আরাচ্চিগে করেন ৩৭ বলে ৩৩ রান।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মেহেদীর সঙ্গে দুটি করে উইকেট নেন সাইফ হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান। তবে রত্নায়েকের ঝড়ে শেষ দিকে শ্রীলঙ্কা পেয়ে যায় লড়াই করার মতো পুঁজি।

তবে আসল ধাক্কাটা আসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই সাইফ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে ফিরে যান তানজিদ হাসান। তারপর তৃতীয় ওভারে অধিনায়ক লিটন দাসও শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। ৪ রানে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ওপর তখনই চেপে বসে চাপ।

তাওহিদ হৃদয় কিছুটা ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন। ৬ বলে ১১ রানও করেন। কিন্তু তাঁকেও ফিরিয়ে দেন রত্নায়েকে। ১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

আর ঘুরে দাঁড়ানো হয়নি। রিশাদ হোসেন ৫ বলে ১০, ইয়াসির আলী ১৬ বলে ২১ রান করে কিছুটা চেষ্টা করলেও যথেষ্ট ছিল না। থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। রিশাদ হোসেন করেন ১০ রান। তবে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার দৌড়ে লোয়ার অর্ডার নাসুম আহমেদ কিছুক্ষণ উইকেটে টিকে ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ১৮.৩ ওভারে ১০২ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। নাসুম আহমেদ ২৮ বলে ২৬ করে ফিরলে বাংলাদেশ অলআউট হয়। তাঁর স্কোরই দলের সর্বোচ্চ।

অদ্ভুত এক ম্যাচে তাই একই খেলোয়াড় হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের বিপদের কারণ এবং শ্রীলঙ্কার ব্রোঞ্জ জয়ের নায়ক। ব্যাট হাতে রত্নায়েকের ৬৫, বল হাতে তাঁর ২ উইকেট—আর শুরুতে চার উইকেট হারিয়েও শ্রীলঙ্কার ঘুরে দাঁড়ানো।

বাংলাদেশের গল্পটা ঠিক উল্টো। বোলাররা শুরুতে ম্যাচকে নিজেদের দিকে টেনে এনেছিলেন। কিন্তু সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি ব্যাটিং। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস থেকে পদকশূন্য হয়েই ফিরতে হলো বাংলাদেশকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ধ্বংসস্তূপ থেকে শ্রীলঙ্কার ব্রোঞ্জ, বাংলাদেশের হতাশা

আপডেট সময় : ১১:৩২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের মতো। শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ডে ২১ রান উঠতেই জ্বলছিল চারটি উইকেট। ১০.৫ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৫৪ রান। মনে হচ্ছিল, এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জটা বুঝি বাংলাদেশের হাতেই উঠছে।

কিন্তু ক্রিকেটে গল্পটা শেষ বলেও লেখা হয়। আর সেই গল্পে বাংলাদেশকে হতাশ করে নায়ক হয়ে উঠলেন তারিন্দু রত্নায়েকে।

ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কার রত্ন হয়ে উঠলেন রত্নায়েকে। সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে সাহান আরাচ্চিগেকে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে গড়লেন ৯৩ রানের দারুণ এক জুটি। রত্নায়েকের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান তুলল শ্রীলঙ্কা।

সামনে ছিল ১৬৬ রানের লক্ষ্য। এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ব্রোঞ্জ পদক জিততে বাংলাদেশের দরকার ছিল শুধু একটি পরিপাটি রান তাড়া। কিন্তু রান তাড়ার শুরুতেই যেন সব হিসাব এলোমেলো হয়ে গেল। ৪ রানেই ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে থামল তাদের ইনিংস। ৬৩ রানের জয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করল শ্রীলঙ্কা।

নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শঙ্কান অধিনায়ক আরাচ্চিগে। শুরুটা একদমই সুখকর ছিল না, ৫০ রান পেরোনোর আগেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের স্পিনাররা তখন দারুণ নিয়ন্ত্রণে। মেহেদী হাসান ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। আলিস আল ইসলামও ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। ৬ ওভারের পাওয়ারপ্লেতে ৪ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কা তুলতে পারে মাত্র ২৯ রান।

তারপরই পাল্টে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। আরাচ্চিগে এক প্রান্ত আগলে রাখেন, অন্য প্রান্তে ঝড় তোলেন রত্নায়েকে। ৩২ বলে ৬৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস। ৭টি চার ও ৫টি ছক্কা মারেন এই অলরাউন্ডার, স্ট্রাইক রেট ২০৩.১২। ১৮.১ ওভারে রত্নায়েকে ফিরলেও ততক্ষণে শ্রীলঙ্কাকে বিপদ থেকে বের করে এনেছেন। আরাচ্চিগে করেন ৩৭ বলে ৩৩ রান।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মেহেদীর সঙ্গে দুটি করে উইকেট নেন সাইফ হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান। তবে রত্নায়েকের ঝড়ে শেষ দিকে শ্রীলঙ্কা পেয়ে যায় লড়াই করার মতো পুঁজি।

তবে আসল ধাক্কাটা আসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই সাইফ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে ফিরে যান তানজিদ হাসান। তারপর তৃতীয় ওভারে অধিনায়ক লিটন দাসও শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন। ৪ রানে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশের ওপর তখনই চেপে বসে চাপ।

তাওহিদ হৃদয় কিছুটা ঝড় তোলার চেষ্টা করেছিলেন। ৬ বলে ১১ রানও করেন। কিন্তু তাঁকেও ফিরিয়ে দেন রত্নায়েকে। ১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

আর ঘুরে দাঁড়ানো হয়নি। রিশাদ হোসেন ৫ বলে ১০, ইয়াসির আলী ১৬ বলে ২১ রান করে কিছুটা চেষ্টা করলেও যথেষ্ট ছিল না। থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। রিশাদ হোসেন করেন ১০ রান। তবে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার দৌড়ে লোয়ার অর্ডার নাসুম আহমেদ কিছুক্ষণ উইকেটে টিকে ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ১৮.৩ ওভারে ১০২ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। নাসুম আহমেদ ২৮ বলে ২৬ করে ফিরলে বাংলাদেশ অলআউট হয়। তাঁর স্কোরই দলের সর্বোচ্চ।

অদ্ভুত এক ম্যাচে তাই একই খেলোয়াড় হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের বিপদের কারণ এবং শ্রীলঙ্কার ব্রোঞ্জ জয়ের নায়ক। ব্যাট হাতে রত্নায়েকের ৬৫, বল হাতে তাঁর ২ উইকেট—আর শুরুতে চার উইকেট হারিয়েও শ্রীলঙ্কার ঘুরে দাঁড়ানো।

বাংলাদেশের গল্পটা ঠিক উল্টো। বোলাররা শুরুতে ম্যাচকে নিজেদের দিকে টেনে এনেছিলেন। কিন্তু সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি ব্যাটিং। শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমস থেকে পদকশূন্য হয়েই ফিরতে হলো বাংলাদেশকে।