ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উৎপাদন থেকে ভোক্তার প্লেট; আমাদের ফসল কতটা নিরাপদ?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

ক্ষেতে ফসল ফলছে, বাজারে উঠছে। সেই সবজিই যাচ্ছে প্রতিদিনের খাবারের প্লেটে। কিন্তু উৎপাদন থেকে ভোক্তার প্লেটে আসার পুরো যাত্রায় সবজির নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে? গবেষণায় বিভিন্ন সবজিতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ও ভারী ধাতু পাওয়া গেছে। তাহলে কতটা নিরাপদ সবজি খাচ্ছি আমরা?

বেগুনে পোকা বা রোগবালাই দেখা দিলে কী দিতে হবে, সেই পরামর্শের জন্য কৃষকেরা মূলত কীটনাশকের দোকানির ওপর নির্ভর করেন। তবে, তারা পরিণতি সম্পর্কে সেরকম কিছুই জানেন না। গ্রাম পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তার নিয়মিত পরামর্শ না পেলে কৃষকের ভরসা হয়ে ওঠেন এই দোকানদারই। বিভিন্ন কোম্পানির পরামর্শের ভিত্তিতেই কৃষকদের কীটনাশক দেন তারা।

তবে চিন্তার বিষয়, এসব দোকান থেকে যেসব কীটনাশক দেওয়া হচ্ছে, সেসবের মধ্যে ম্যানকোজেব এবং কারটাপ গ্রুপের মারাত্বক ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের রাসায়নিকের তীব্র বিষাক্ততার কারণে এসবের ব্যবহার ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বহু দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ক্ষেত থেকে তোলা বেগুন প্রথমে যায় কৃষকের বাড়িতে। বাছাই শেষে বস্তায় ভরে নেওয়া হয় স্থানীয় আড়তে। এরপর কৃষকের কাজ শেষ। শুরু হয় ব্যবসায়ীর হিসাব।

রাজধানীর খিলক্ষেত বাজারে দেখা যায়, ডোবার নোংরা পানিতে শাক-সবজি ধোয়া হয়। ভোর থেকে সারা সকাল এই কাজ চলে। যে পানি দেখলেই গা গুলিয়ে আসে, সেই পানিতেই ধোয়া সবজি মানুষের রান্নাঘরে যাচ্ছে। তবে, এ নিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে খুব একটা উদ্বেগ নেই।

এদিকে, বাজারে এসে ক্রেতার পক্ষে শুধু দেখে সবজির ভালো-মন্দ বোঝারও উপায় নেই। অনেকে মনে করেন, বাসায় এনে বেশি করে ধুয়ে বা ভিজিয়ে রাখলে সবজির ক্ষতিকর উপাদান চলে যায়। তবে, তা পুরোপুরি যায় না।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় সবজিতে ভারী ধাতু ও কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের গড় মাত্রা অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এই তালিকায় বেগুন, শশা ও টমেটো সবার ওপরে।

খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ইনস্টিটিউটের গবেষক অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, কীটনাশক দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে ফসল সংগ্রহ করতে হয়। সাধারণত পেস্টিসাইড দেওয়ার পর সাত দিন অপেক্ষা করে ফসল তোলার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কৃষক তিন দিন পরই তা বাজারে নিয়ে আসেন। এতে ওই সবজি খাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে, এমনকি ৩৮ ধরনের ক্যান্সারের সম্ভাবনাও থাকতে পারে।

তার মতে, কীটনাশক মানেই সবজি বিষাক্ত, এমনটা নয়। তবে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, নিয়ম না মানা এবং ফসল তোলার আগে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা না করলে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি বাড়ে। ঝুঁকি থেকে মানুষকে বাঁচাতে কৃষক থেকে শুরু করে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

উৎপাদন থেকে ভোক্তার প্লেট; আমাদের ফসল কতটা নিরাপদ?

আপডেট সময় : ১১:৫২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ক্ষেতে ফসল ফলছে, বাজারে উঠছে। সেই সবজিই যাচ্ছে প্রতিদিনের খাবারের প্লেটে। কিন্তু উৎপাদন থেকে ভোক্তার প্লেটে আসার পুরো যাত্রায় সবজির নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে? গবেষণায় বিভিন্ন সবজিতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ও ভারী ধাতু পাওয়া গেছে। তাহলে কতটা নিরাপদ সবজি খাচ্ছি আমরা?

বেগুনে পোকা বা রোগবালাই দেখা দিলে কী দিতে হবে, সেই পরামর্শের জন্য কৃষকেরা মূলত কীটনাশকের দোকানির ওপর নির্ভর করেন। তবে, তারা পরিণতি সম্পর্কে সেরকম কিছুই জানেন না। গ্রাম পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তার নিয়মিত পরামর্শ না পেলে কৃষকের ভরসা হয়ে ওঠেন এই দোকানদারই। বিভিন্ন কোম্পানির পরামর্শের ভিত্তিতেই কৃষকদের কীটনাশক দেন তারা।

তবে চিন্তার বিষয়, এসব দোকান থেকে যেসব কীটনাশক দেওয়া হচ্ছে, সেসবের মধ্যে ম্যানকোজেব এবং কারটাপ গ্রুপের মারাত্বক ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের রাসায়নিকের তীব্র বিষাক্ততার কারণে এসবের ব্যবহার ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বহু দেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ক্ষেত থেকে তোলা বেগুন প্রথমে যায় কৃষকের বাড়িতে। বাছাই শেষে বস্তায় ভরে নেওয়া হয় স্থানীয় আড়তে। এরপর কৃষকের কাজ শেষ। শুরু হয় ব্যবসায়ীর হিসাব।

রাজধানীর খিলক্ষেত বাজারে দেখা যায়, ডোবার নোংরা পানিতে শাক-সবজি ধোয়া হয়। ভোর থেকে সারা সকাল এই কাজ চলে। যে পানি দেখলেই গা গুলিয়ে আসে, সেই পানিতেই ধোয়া সবজি মানুষের রান্নাঘরে যাচ্ছে। তবে, এ নিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে খুব একটা উদ্বেগ নেই।

এদিকে, বাজারে এসে ক্রেতার পক্ষে শুধু দেখে সবজির ভালো-মন্দ বোঝারও উপায় নেই। অনেকে মনে করেন, বাসায় এনে বেশি করে ধুয়ে বা ভিজিয়ে রাখলে সবজির ক্ষতিকর উপাদান চলে যায়। তবে, তা পুরোপুরি যায় না।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় সবজিতে ভারী ধাতু ও কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের গড় মাত্রা অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এই তালিকায় বেগুন, শশা ও টমেটো সবার ওপরে।

খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ইনস্টিটিউটের গবেষক অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, কীটনাশক দেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করে ফসল সংগ্রহ করতে হয়। সাধারণত পেস্টিসাইড দেওয়ার পর সাত দিন অপেক্ষা করে ফসল তোলার কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কৃষক তিন দিন পরই তা বাজারে নিয়ে আসেন। এতে ওই সবজি খাওয়ার ফলে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে, এমনকি ৩৮ ধরনের ক্যান্সারের সম্ভাবনাও থাকতে পারে।

তার মতে, কীটনাশক মানেই সবজি বিষাক্ত, এমনটা নয়। তবে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, নিয়ম না মানা এবং ফসল তোলার আগে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা না করলে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি বাড়ে। ঝুঁকি থেকে মানুষকে বাঁচাতে কৃষক থেকে শুরু করে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি।