মানব পাচার রোধে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা বেড়েছে

- আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
মানব পাচার নির্মূলে ন্যূনতম মানদণ্ড পুরোপুরি পূরণ করতে না পারলেও এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সরকারের প্রচেষ্টা বেড়েছে। নতুন আইন প্রণয়ন, তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পাচারকারীদের দোষী সাব্যস্ত করা, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ মানব পাচার প্রতিরোধে এখনও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক মানব পাচার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের প্রতিবেদনের সময়ের তুলনায় সরকারের সামগ্রিক প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ মানব পাচারবিষয়ক ‘টিয়ার ২’ শ্রেণিতেই রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার কম সংখ্যক ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করেছে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা অপর্যাপ্ত ছিল; বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি বেশি দেখা গেছে। পাশাপাশি, সরকার কর্মীদের নিজস্ব খরচে নিয়োগ ফি প্রদানের বিষয়টি অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে অনেক অভিবাসী কর্মী ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে এবং পাচারের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অধিকাংশ বাংলাদেশি কর্মী মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমান; এছাড়া অনেকে ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, ইউরোপীয় দেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও যান। অভিবাসীদের অধিকাংশই স্বল্প-দক্ষ বা অদক্ষ শ্রমিক, যারা বিদেশে কর্মসংস্থান ও ভ্রমণের ব্যবস্থা করতে মধ্যস্থতাকারী এবং বেসরকারি নিয়োগকারী সংস্থার সহায়তা নেন। নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর ধার্য করা বৈধ ফি কিংবা লাইসেন্সবিহীন সাব-এজেন্টদের বেআইনি ফি পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক শ্রমিক ঋণের বোঝা মাথায় নেন; এর ফলে তারা ঋণ-ভিত্তিক জবরদস্তির ঝুঁকির মুখে পড়েন।
অধিকাংশ বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক কোনো না কোনো ধরনের শ্রম শোষণের শিকার হওয়ার কথা জানান- যার মধ্যে রয়েছে প্রতারণামূলক চুক্তি, বেতন বা কর্মঘণ্টা সংক্রান্ত অসঙ্গতি এবং কম বেতন বা বেতন বকেয়া থাকা। পাচারকারীরা পুরুষ ভুক্তভোগীদের বিদেশে কৃষি ও নির্মাণ খাতে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করে শোষণ করে। এছাড়া পাচারকারীরা বাংলাদেশি নারী ও কিশোরীদের ভারত, পাকিস্তান ও উপসাগরীয় দেশসহ বিভিন্ন স্থানে জোরপূর্বক শ্রম ও যৌন পাচারের শিকার বানায়। গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে ইচ্ছুক নারী অভিবাসীরা- বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়- পাচারের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হন। সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজিং অ্যাপ এবং অনলাইন জব পোর্টালের মাধ্যমে প্রতারণামূলকভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অনলাইন জালিয়াতি বা স্ক্যামের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জোরপূর্বক যুক্ত করা হয়। পাচারকারীরা মূলত তরুণ ও শিক্ষিত পুরুষদের টার্গেট করে; বিদেশে উচ্চ বেতনের ভুয়া চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় এবং এরপর পরিচয়পত্র ও বেতন আটকে রেখে, চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে ও ঋণের জালে আবদ্ধ করে সাইবার-অপরাধে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হয়।






















