ঢাকা ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লন্ডন সম্মেলনে ইউক্রেনের পক্ষে চার বিষয়ে ঐক্যমত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫
  • / 105

ইউক্রেন সংকট নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে চারটি পদক্ষেপের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। আজ রোববার (৩ মার্চ) লন্ডনের ল্যাংকেস্টার হাউসে সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

সংবাদ সম্মেলনে কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘‘ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য নতুন যেকোনো চুক্তি অবশ্যই জোরালো হতে হবে। আর সব দেশকে নিজেদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং নিজেদের দায়িত্ব বাড়াতে হবে।’’

এই পদক্ষেপগুলো ইউক্রেনের পক্ষে নেওয়া হয়েছে এবং বিশ্বের দেশগুলোর একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্টারমারের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে ঐকমত্য হওয়ার চারটি পদক্ষেপ হলো—যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে এবং রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করতে হবে; স্থায়ী শান্তির ক্ষেত্রে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো শান্তি আলোচনার টেবিলে ইউক্রেনকে অবশ্যই রাখতে হবে; শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ ঠেকানোর লক্ষ্যে কাজ করতে হবে ইউরোপের নেতাদের; ইউক্রেনের সুরক্ষার জন্য একটি জোট গঠন করতে হবে এবং দেশটিতে শান্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এর পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইউক্রেনকে ১৬০ কোটি পাউন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। যুক্তরাজ্যের দেওয়া এই অর্থ খরচ করে ইউক্রেনের জন্য পাঁচ হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে। ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহার করা হবে।

আজকের সম্মেলনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও জোটের নেতাদের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অংশ নেন। সম্মেলনে ‘ভালো ও খোলামেলা আলোচনা’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন। তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।’

তিন বছরের বেশি সময় ধরে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযান চলছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সহায়তাকারী দেশ হলেও, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠক বাগ্‌বিতণ্ডায় রূপ নেয়। ওই বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি, এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করা হয়। হোয়াইট হাউস থেকে জেলেনস্কিকে চলে যেতে বলা হয়, বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তারা।

এই পরিস্থিতিতে, ইউক্রেন সংকট নিয়ে লন্ডনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পশ্চিমা মিত্রদেশগুলো, যারা এতদিন কিয়েভকে সমর্থন এবং সহায়তা দিয়ে আসছিল, তারা অংশ নেয়। সম্মেলনটি আয়োজন করেন যুক্তরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার।

সম্মেলনের আগে গণমাধ্যমকে কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘‘আমরা তিন বছর ধরে চলমান একটি সংঘাতের মধ্যে রয়েছি। এখন আমাদের দীর্ঘমেয়াদি শান্তির দিকে এগোতে হবে।’’ তিনি আরও জানান, ‘‘ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ফ্রান্স এবং সম্ভবত আরও এক-দুটি দেশকে সঙ্গে নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য। পরে ওই পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’’

এটি ইউক্রেনের পরিস্থিতি শান্ত করতে একটি নতুন দিক নির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে পশ্চিমা দেশগুলো একত্রে কাজ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

নিউজটি শেয়ার করুন

লন্ডন সম্মেলনে ইউক্রেনের পক্ষে চার বিষয়ে ঐক্যমত

আপডেট সময় : ০৯:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫

ইউক্রেন সংকট নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে চারটি পদক্ষেপের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। আজ রোববার (৩ মার্চ) লন্ডনের ল্যাংকেস্টার হাউসে সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

সংবাদ সম্মেলনে কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘‘ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য নতুন যেকোনো চুক্তি অবশ্যই জোরালো হতে হবে। আর সব দেশকে নিজেদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা অনুযায়ী ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং নিজেদের দায়িত্ব বাড়াতে হবে।’’

এই পদক্ষেপগুলো ইউক্রেনের পক্ষে নেওয়া হয়েছে এবং বিশ্বের দেশগুলোর একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্টারমারের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে ঐকমত্য হওয়ার চারটি পদক্ষেপ হলো—যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে এবং রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করতে হবে; স্থায়ী শান্তির ক্ষেত্রে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো শান্তি আলোচনার টেবিলে ইউক্রেনকে অবশ্যই রাখতে হবে; শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ ঠেকানোর লক্ষ্যে কাজ করতে হবে ইউরোপের নেতাদের; ইউক্রেনের সুরক্ষার জন্য একটি জোট গঠন করতে হবে এবং দেশটিতে শান্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এর পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইউক্রেনকে ১৬০ কোটি পাউন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। যুক্তরাজ্যের দেওয়া এই অর্থ খরচ করে ইউক্রেনের জন্য পাঁচ হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে। ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহার করা হবে।

আজকের সম্মেলনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও জোটের নেতাদের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অংশ নেন। সম্মেলনে ‘ভালো ও খোলামেলা আলোচনা’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন। তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।’

তিন বছরের বেশি সময় ধরে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিশেষ সামরিক অভিযান চলছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় সহায়তাকারী দেশ হলেও, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠক বাগ্‌বিতণ্ডায় রূপ নেয়। ওই বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি, এবং যৌথ সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করা হয়। হোয়াইট হাউস থেকে জেলেনস্কিকে চলে যেতে বলা হয়, বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তারা।

এই পরিস্থিতিতে, ইউক্রেন সংকট নিয়ে লন্ডনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পশ্চিমা মিত্রদেশগুলো, যারা এতদিন কিয়েভকে সমর্থন এবং সহায়তা দিয়ে আসছিল, তারা অংশ নেয়। সম্মেলনটি আয়োজন করেন যুক্তরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার।

সম্মেলনের আগে গণমাধ্যমকে কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘‘আমরা তিন বছর ধরে চলমান একটি সংঘাতের মধ্যে রয়েছি। এখন আমাদের দীর্ঘমেয়াদি শান্তির দিকে এগোতে হবে।’’ তিনি আরও জানান, ‘‘ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ফ্রান্স এবং সম্ভবত আরও এক-দুটি দেশকে সঙ্গে নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাজ্য। পরে ওই পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’’

এটি ইউক্রেনের পরিস্থিতি শান্ত করতে একটি নতুন দিক নির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে পশ্চিমা দেশগুলো একত্রে কাজ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।