ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিংবদন্তী অভিনেতা আবদুল মতিনের না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার ৩৭ বছর

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 445
308

খাঁন আতাউর রহমানের ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা’ ছবিতে নবাবের ঘাতক মোহাম্মদী বেগ চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন অভিনেতা আবদুল মতিন। আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

আজ ১৭ভাদ্র ইংরেজি ১ সেপ্টেম্বর মঞ্চ, বেতার, টিভি ও চলচ্চিত্রের বরেণ্য এই অভিনেতার ৩৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী। শিল্পীর পরিবার ১৭ ভাদ্র বাংলা তারিখ ধরে তাঁর পত্রিকবাড়ি পুরোনো ঢাকার নারিন্দাতেই মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে। সারাদিনব্যাপি কোরআন খতম আর বাদ মাগরিব মিলাদ মাহফিল হবে।

অভিনেতা আবদুল মতিন ১৯২০ সালের ১৭জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আবদুর রহমান আর মা বিবি সমীরনের একমাত্র সন্তান তিনি। ১৯৩৫ সাল থেকে নাট্যাভিনয়ে সাধনা ও উন্নয়নে ঢাকার প্রথম মুসলিম অভিনয় শিল্পী। বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জন্মলগ্ন থেকে অভিনয় করেছেন আবদুল মতিন। বেতারের জন্মলগ্ন থেকেই যুক্ত এবং এর উন্নতি বিধানে ঘোষক, নাট্য প্রযোজক, নাট্য লেখক ও সংগীত রচয়িতা হিসেবে কাজ করেছেন।

১৯৫৬ সালে আমেরিকার মেট্রোগোল্ডেন মায়া (এমজিএম ) প্রযোজনা সংস্থার ঢাকায় নির্মিত প্রথম ডকুমেন্টারি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৬২ সালের ১ জুলাই সিলেট বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রধান হিসাবে সিলেট বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান চালক। ৬৯ গণ অভ্যুত্থান ও স্বাধীনতা আন্দোলনে ’বিক্ষুব্দ শিল্পী সমাজে’র যুগ্ম মহাসচিব। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলে মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নেতৃত্ত্বে ’অচল ঢাকা বেতারকে সচল’ করার প্রথম ব্যবস্থাপক তিনি।

টেলিভিশন নাট্যশিল্পী ও নাট্যকারদের স্বার্থরক্ষণ উন্নয়নে টেলিভিশন নাট্যশিল্পী ও নাট্যকার সংসদ (টেনাশিনাস)-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক । চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক ও সমিতির গঠনতন্ত্রের রচয়িতা।

অভিনেতা আবদুল মতিন মঞ্চ, বেতার ও টিভি নাটকের পাশাপাশি প্রায় দু’শোর অধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন । তিনি বাংলাদেশের বিখ্যাত সব পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন । তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ঋত্বিক কুমার ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ এবং খাঁন আতাউর রহমানের ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা’।

এছাড়াও তাঁর অভিনীত উলে­খযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে : ফকির মজনু শাহ, লালন ফকির, জাগোহুয়া সাবেরা,আসামী, লাল সবুজের পালা, নাত বৌ, সাহেব, জিঘাংসা, কুয়াশা,ছদ্মবেশী, মিশর কুমারী, দ্বীপ নিভে নাই, সেতু,অনেক দিন আগে, লাঠিয়াল, চোর, পাগলা রাজা ও বড় ভালোলোক ছিল সহ প্রায় দু’শো চলচ্চিত্র ইত্যাদি ।

টেলিভিশনে উল্লেখযোগ্য বেগম মমতাজ হোসেনের সকাল সন্ধ্যা ধারাবাহিক নাটকে ‘পরাণ ভাই’ এবং আনোয়ারা ও শুকতারা নাটকে অভিনয় করেন। কেন্দ্রিয় চরিত্রে নাটক মুড়ির মোঙা, ঘোড়ার গাড়ি ইত্যাদি ।

প্রসঙ্গত, অভিনেতা আবদুল মতিন ১৯৮৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ১৭ই ভাদ্র ইন্তেকাল করেন। মরহুমের চতুর্থ পুত্র জেষ্ঠ্য সাংবাদিক অনজন রহমান তার পিতা আবদুল মতিনের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

কিংবদন্তী অভিনেতা আবদুল মতিনের না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার ৩৭ বছর

আপডেট সময় : ১২:৩০:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
308

খাঁন আতাউর রহমানের ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা’ ছবিতে নবাবের ঘাতক মোহাম্মদী বেগ চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন অভিনেতা আবদুল মতিন। আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

আজ ১৭ভাদ্র ইংরেজি ১ সেপ্টেম্বর মঞ্চ, বেতার, টিভি ও চলচ্চিত্রের বরেণ্য এই অভিনেতার ৩৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী। শিল্পীর পরিবার ১৭ ভাদ্র বাংলা তারিখ ধরে তাঁর পত্রিকবাড়ি পুরোনো ঢাকার নারিন্দাতেই মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে। সারাদিনব্যাপি কোরআন খতম আর বাদ মাগরিব মিলাদ মাহফিল হবে।

অভিনেতা আবদুল মতিন ১৯২০ সালের ১৭জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। বাবা আবদুর রহমান আর মা বিবি সমীরনের একমাত্র সন্তান তিনি। ১৯৩৫ সাল থেকে নাট্যাভিনয়ে সাধনা ও উন্নয়নে ঢাকার প্রথম মুসলিম অভিনয় শিল্পী। বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জন্মলগ্ন থেকে অভিনয় করেছেন আবদুল মতিন। বেতারের জন্মলগ্ন থেকেই যুক্ত এবং এর উন্নতি বিধানে ঘোষক, নাট্য প্রযোজক, নাট্য লেখক ও সংগীত রচয়িতা হিসেবে কাজ করেছেন।

১৯৫৬ সালে আমেরিকার মেট্রোগোল্ডেন মায়া (এমজিএম ) প্রযোজনা সংস্থার ঢাকায় নির্মিত প্রথম ডকুমেন্টারি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ১৯৬২ সালের ১ জুলাই সিলেট বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রধান হিসাবে সিলেট বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান চালক। ৬৯ গণ অভ্যুত্থান ও স্বাধীনতা আন্দোলনে ’বিক্ষুব্দ শিল্পী সমাজে’র যুগ্ম মহাসচিব। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলে মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর নেতৃত্ত্বে ’অচল ঢাকা বেতারকে সচল’ করার প্রথম ব্যবস্থাপক তিনি।

টেলিভিশন নাট্যশিল্পী ও নাট্যকারদের স্বার্থরক্ষণ উন্নয়নে টেলিভিশন নাট্যশিল্পী ও নাট্যকার সংসদ (টেনাশিনাস)-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক । চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক ও সমিতির গঠনতন্ত্রের রচয়িতা।

অভিনেতা আবদুল মতিন মঞ্চ, বেতার ও টিভি নাটকের পাশাপাশি প্রায় দু’শোর অধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন । তিনি বাংলাদেশের বিখ্যাত সব পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন । তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ঋত্বিক কুমার ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ এবং খাঁন আতাউর রহমানের ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা’।

এছাড়াও তাঁর অভিনীত উলে­খযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে : ফকির মজনু শাহ, লালন ফকির, জাগোহুয়া সাবেরা,আসামী, লাল সবুজের পালা, নাত বৌ, সাহেব, জিঘাংসা, কুয়াশা,ছদ্মবেশী, মিশর কুমারী, দ্বীপ নিভে নাই, সেতু,অনেক দিন আগে, লাঠিয়াল, চোর, পাগলা রাজা ও বড় ভালোলোক ছিল সহ প্রায় দু’শো চলচ্চিত্র ইত্যাদি ।

টেলিভিশনে উল্লেখযোগ্য বেগম মমতাজ হোসেনের সকাল সন্ধ্যা ধারাবাহিক নাটকে ‘পরাণ ভাই’ এবং আনোয়ারা ও শুকতারা নাটকে অভিনয় করেন। কেন্দ্রিয় চরিত্রে নাটক মুড়ির মোঙা, ঘোড়ার গাড়ি ইত্যাদি ।

প্রসঙ্গত, অভিনেতা আবদুল মতিন ১৯৮৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ১৭ই ভাদ্র ইন্তেকাল করেন। মরহুমের চতুর্থ পুত্র জেষ্ঠ্য সাংবাদিক অনজন রহমান তার পিতা আবদুল মতিনের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।