ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংস্কারের সাফল্যের ওপর আগামীর পথরেখা, বললেন আলী রীয়াজ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 53

আগামীর বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ভর করবে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার সফল বাস্তবায়নের ওপর—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত রাজনৈতিক সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নেয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। সংলাপের শুরুতেই ড. রীয়াজ জানান, সংস্কার বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য, এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রের আগামী রূপরেখা নির্ধারিত হবে।

তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন নিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দলগুলোর মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে, এমনকি ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসসেন্ট’ রেখেও আলোচনা এগিয়েছে।”

রামপুরায় শিক্ষার্থী হত্যা: পলাতকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি সম্পন্ন

ড. আলী রীয়াজ আরও স্পষ্ট করেন, “এই কমিশন কারও ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র সংস্কার ও সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।”

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের নেতারা জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি সমন্বিত সংস্কার প্রক্রিয়া জরুরি, যেখানে সব পক্ষের সম্মিলিত মতামত থাকবে এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হবে।

কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়, জুলাই সনদের সংবিধানের বিষয়গুলো বাস্তবায়নে দলগুলো বিভিন্ন প্রস্তাব দেয়। সেগুলোর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সনদ বা তাঁর কিছু অংশ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠান; রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা বলে বিশেষ সাংবিধানিক আদেশে বাস্তবায়ন করা; নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণপরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা করা; ত্রয়োদশ সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন; সংসদকে সংবিধান সংস্কার সভারূপে প্রতিষ্ঠিত করে সনদের বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছে এই মর্মে মতামত চাওয়া যে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না।

দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে ঐকমত্য কমিশনের বিশেষজ্ঞ প্যানেল একাধিক বৈঠকে বিভিন্ন ধরনের বিকল্প বিবেচনা করে প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্যে সুপারিশ করে। এগুলো হচ্ছে অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট, বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ এবং ১০৬ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাওয়া। পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়া বিষয়সমূহকে (যার মধ্যে ভিন্নমত/ নোট অব ডিসেন্ট আছে) সেগুলো চার উপায়ে বাস্তবায়নের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো হলো অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট এবং বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

সংস্কারের সাফল্যের ওপর আগামীর পথরেখা, বললেন আলী রীয়াজ

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আগামীর বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ভর করবে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার সফল বাস্তবায়নের ওপর—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত রাজনৈতিক সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নেয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। সংলাপের শুরুতেই ড. রীয়াজ জানান, সংস্কার বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য, এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রের আগামী রূপরেখা নির্ধারিত হবে।

তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন নিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দলগুলোর মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে ঐকমত্য গড়ে উঠেছে, এমনকি ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসসেন্ট’ রেখেও আলোচনা এগিয়েছে।”

রামপুরায় শিক্ষার্থী হত্যা: পলাতকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি সম্পন্ন

ড. আলী রীয়াজ আরও স্পষ্ট করেন, “এই কমিশন কারও ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র সংস্কার ও সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।”

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের নেতারা জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি সমন্বিত সংস্কার প্রক্রিয়া জরুরি, যেখানে সব পক্ষের সম্মিলিত মতামত থাকবে এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হবে।

কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়, জুলাই সনদের সংবিধানের বিষয়গুলো বাস্তবায়নে দলগুলো বিভিন্ন প্রস্তাব দেয়। সেগুলোর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সনদ বা তাঁর কিছু অংশ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠান; রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা বলে বিশেষ সাংবিধানিক আদেশে বাস্তবায়ন করা; নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণপরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা করা; ত্রয়োদশ সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন; সংসদকে সংবিধান সংস্কার সভারূপে প্রতিষ্ঠিত করে সনদের বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছে এই মর্মে মতামত চাওয়া যে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না।

দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে ঐকমত্য কমিশনের বিশেষজ্ঞ প্যানেল একাধিক বৈঠকে বিভিন্ন ধরনের বিকল্প বিবেচনা করে প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্যে সুপারিশ করে। এগুলো হচ্ছে অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট, বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ এবং ১০৬ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাওয়া। পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়া বিষয়সমূহকে (যার মধ্যে ভিন্নমত/ নোট অব ডিসেন্ট আছে) সেগুলো চার উপায়ে বাস্তবায়নের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো হলো অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট এবং বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ।