সবজির দাম চড়া, ভরা মৌসুমেও ইলিশ অধরা

- আপডেট সময় : ০১:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 77
গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে সবজির দাম অনেক বেশি। বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যাচ্ছে না। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা আধা কেজি করে সবজি কিনছেন। ফলে বিক্রেতারা অভিযোগ করে বলছেন, তাদের বিক্রির পরিমাণ কমে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে মাছের দামও ক্রমেই নাগালের বাইরে। চাল-ডাল, শাক-সবজির দাম আগেই বাড়তি। ভরা মৌসুমেও ইলিশের সরবরাহ কম, দাম তাই আকাশচুম্বী।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বাজারগুলোতে সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। এসব বাজারে ঝিঙা, করলা, বরবটি, বেগুন, কচুর লতি, পটল, চিচিঙা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি, প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়, ইন্ডিয়ান গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, দেশি শসা ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সৃষ্টি হতে পারে লঘুচাপ, বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে
লেবুর হালি ১৫ থেকে ৩০ টাকা, ধনেপাতা ৩৫০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস, ক্যাপসিকাম ৪০০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, মূলা ৮০ টাকা, শিম ১৬০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে লাল শাক ২০ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
দেশি আদা কেজিতে ৬০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৪০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে মিনি কাটার চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা এবং নাজিরশাইল সের ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা এবং ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা দরে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচা বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজ প্রায় তিন মাস ধরে প্রতিটি সবজির দাম এত বেশি যে, আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতারা কিনতে হিমশিম খাচ্ছি। বাজারে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। যে দু-একটা আছে সেগুলোও হয় ৬০ টাকা নয়তো ৭০ টাকা। ১০০ টাকা দরে সবজি কেনার সামর্থ্য বেশিরভাগ সাধারণ ক্রেতাদের নেই। তারপরেও যেহেতু প্রতিদিন খেতেই হয়, তাই কেউ আধা কেজি কেউবা আড়াইশো গ্রাম করে সবজি কিনছেন।
শান্তিনগর বাজারের আরেক ক্রেতা আব্দুস সোবহান বলেন, সবজির দাম বেশি, অথচ বাজার মনিটরিংয়ের কোনো উদ্যোগ দেখছি না। তিন মাসের বেশি সময় ধরে এমন চড়া দামে সবজি কিনে খেতে হচ্ছে আমাদের। তিন মাস ধরে চড়াই রয়ে গেছে সব ধরনের সবজির দাম। কি কারণে সবজির দাম বেশি, কোথায় থেকে সবজির দাম বাড়ানো হচ্ছে এগুলো সরকারকে মনিটরিং করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
সবজির দাম বাড়তি বিষয়ে মগবাজার বাজারের সবজি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, বেশিরভাগ সবজির মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে বাজারে সবজি আসার আগ পর্যন্ত এমন বাড়তি দামই থাকবে। বর্তমানে সবজির সরবরাহ খুবই কম, সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে সবজির দাম কমে আসবে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়, বাজারে সরবরাহ কম। ফলে সবজির দাম বেড়ে গেছে।
এছাড়া সোনালি কক মুরগি কেজিতে ৩২০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা কমে ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৯০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২২০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
গৃহিণী সানজিদা হক বলেন, মুরগির দাম আগেই চড়া ছিল। ভেবেছিলাম মাছের দিকে ঝুঁকব। এখন মাছও হাতের বাইরে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশের মৌসুম হলেও বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। অল্প যে পরিমাণ আসছে, দাম এত বেশি যে সাধারণ ভোক্তার পক্ষে কেনা প্রায় অসম্ভব। খুচরা বাজারে এক থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৪০০-২৫০০ টাকায়। ৫০০-৭০০ গ্রাম ইলিশ মিলছে ১৫০০ টাকায়, এক কেজির কিছু কম ওজনের ইলিশ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় এবং বড় ইলিশ (২ থেকে ২.৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ৩০০০-৩৫০০ টাকায়।
ইলিশ মাছের বাজার প্রসঙ্গে রামপুরা বাজারের মাছ বিক্রেতা জামাল হোসেন বলেন, মৌসুম হলেও নদীতে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। ফলে সরবরাহ কম, দাম কমানোর সুযোগ নেই।
এক কেজি শিং মাছ (চাষের, আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ২০০ থেকে ২৩৫ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, আজকের বাজারে কোরাল বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়, আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। চিংড়ি (বাগদা ও গলদা) আকারভেদে ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা।
এ অবস্থায় সাধারণ মানুষজন বলছেন, বাজারের সব পণ্যের দাম একসঙ্গে বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় তাদের খুচরা দামে প্রভাব ফেলছে।
রামপুরা কাঁচাবাজারের মাছ কিনতে আসা কাঠমিস্ত্রি বেলাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একমাস আগে যে মাছ ৩২০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটি ৪০০ টাকা। বাজারে আসলে মনে হয় সবকিছুর দামই হঠাৎ বেড়ে গেছে।
বনশ্রী এ ব্লক বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. রফিক জানান, কয়েক দিন আগের অতিরিক্ত গরমে বিভিন্ন এলাকার পুকুরের মাছ মারা গেছে। এতে চাষিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এখন তারা বেশি দামে মাছ ছাড়ছেন।
অন্য এক মাছ বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আড়তে সংকট নেই, কিন্তু কোরবানির ঈদের পর থেকেই অনেক বেশি দাম দিয়ে পাইকারের কাছ থেকে মাছ কিনতে হচ্ছে। ফলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।























