ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0

ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় কোনো কিছুই মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আনন্দ আরও বেড়েছে।

মতবিনিময়কালে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে সরকারের আন্তরিকতার কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করব। আপনাদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’

এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে কঠিন চীবর দান উপলক্ষেও শুভেচ্ছা জানান তিনি। দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

সভা শেষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকার বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।

দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। একইভাবে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা চাইলেও বিশেষ বিবেচনায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

বরাদ্দের অর্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি এ অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য মিস সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:০৮:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় কোনো কিছুই মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। তারা বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আনন্দ আরও বেড়েছে।

মতবিনিময়কালে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে সরকারের আন্তরিকতার কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করব। আপনাদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’

এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে কঠিন চীবর দান উপলক্ষেও শুভেচ্ছা জানান তিনি। দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

সভা শেষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকার বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।

দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। একইভাবে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা চাইলেও বিশেষ বিবেচনায় ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

বরাদ্দের অর্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি এ অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য মিস সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।