ঢাকা ০৯:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদের সৃষ্টি হয়েছে: গয়েশ্বর

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 52

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে হিউম্যান রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জুলাই বিপ্লব ও আগামীর গণতন্ত্র ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

তিনি বলেন, ‘আমরা পলিটিক্স করি নিজের জন্য, আমি মন্ত্রী হমু, আমি এমপি হমু, এমপি-মন্ত্রী হলে সালাম পামু, এমপি-মন্ত্রী হলে আমার বাড়ি হইব, গাড়ি হইব। আমি আত্মসমালোচনা করছি। আমি কোনো দল বলে কথা বলছি না। যদি আমার এটা চিন্তা থাকে যে, পলিটিক্স ইজ এ প্রফেশন অন দ্য বিসিস, প্রফেশনাল বি দ্য রিচ ম্যান- তাহলে জনগণ আমাদের দিকে তাকাইয়া কতক্ষণ থাকবে? কেন থাকবে? সুতরাং আমরা যদি সমস্বরে নামি যে আমরা গণতন্ত্র চাই, আমরা জনগণের অধিকার চাই আর কিছু চাই না, কারও শক্তি নাই আপনাকে সরাতে পারে।’

উপদেষ্টা মাহফুজের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন

তিনি বলেন, ‘তাগো (মৌলবাদী) লগে থাকলে আপনি বেহেশতে যাবেন, আর তাগো লগে না থাকলে আপনি দোজখে যাইবেন। নিজেরা বেহেশতে যাইব কি না, সেই কথা তারা জানে না। সেজন্য আমি বলব, দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হচ্ছে।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, সংস্কারের জন্য সরকার বিদেশ থেকে লোক ভাড়া করে এনেছে। এ সময় পিআর পদ্ধতিরও সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা।

অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার গান গাইতে গাইতে অনেক কিছু কুসংস্কারে পরিণত করে ফেলেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বদিউল আলম মজুমদার একটা বিরাট লেখা লেখছেন পিআরের বিরুদ্ধে। ভাই, আমি তো এত লেখাপড়া জানি না, আমি পিআর বুঝিও না। এই পিআরটা কোথা থেকে আসতেছে বুঝি না। এখন বুঝতেছি-শুনতেছি যে নেপালে আছে। এজন্য সকাল বিকাল প্রধানমন্ত্রী পাল্টায়।’

উদাহরণ দিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘পাকিস্তানে সিএসপির (সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান) ভাইবা পরীক্ষায় একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিল, পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রীর নাম কী? পরীক্ষার্থী বললেন, সরি স্যার আমি তো সকালবেলা পত্রিকাটা পড়ি নাই। কালকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জানি অমুক। এর মধ্যে যদি পরিবর্তন না হয়ে থাকে।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই পিআরের ব্যবস্থাটা এরকম যে, সকালে প্রধানমন্ত্রী একজন, দুপুরে আরেকজন, রাতের বেলা আরেকজন। এই পদ্ধতি দেশের জণগন মেনে নেবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি গণতন্ত্রের পথে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে না রাখতে পারি, তাহলে সাম্প্রদায়িকতা হবে ফ্যাসিবাদের চেয়ে দ্বিগুণ কঠিন এবং এটি জনজীবন ধ্বংসের শেষ মাথায় নিয়ে যাবে। এই আধুনিক বিশ্বে মুক্ত চিন্তা, প্রতিভার বিকাশ এরা হতে দেবেন না, ওরা করতে দেবেন না।’

বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ বিশ্বাস করে দাবি করে গয়েশ্বর বলেন, ‘যে যেই ধর্ম বিশ্বাসই করুক না কেন, ধর্ম কিন্তু মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য একটা জীবন ব্যবস্থা। ধর্মে যেটা পাপ, আধুনিক রাষ্ট্র আইনে সেটা অন্যায়। সেই অন্যায়ের বিচারের ধারার মধ্যে লেখা থাকে কোন অন্যায়ের জন্য কতটুক শাস্তি। ঠিক আপনি পবিত্র কোরআন-গীতা পড়েন, কোন পাপের জন্য মৃত্যুর পরে কার কী শাস্তি হবে, সেটাও কিন্তু লেখা আছে। সে কারণে ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোনো সাংঘর্ষিক ব্যাপার নাই।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদের সৃষ্টি হয়েছে: গয়েশ্বর

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে হিউম্যান রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জুলাই বিপ্লব ও আগামীর গণতন্ত্র ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

তিনি বলেন, ‘আমরা পলিটিক্স করি নিজের জন্য, আমি মন্ত্রী হমু, আমি এমপি হমু, এমপি-মন্ত্রী হলে সালাম পামু, এমপি-মন্ত্রী হলে আমার বাড়ি হইব, গাড়ি হইব। আমি আত্মসমালোচনা করছি। আমি কোনো দল বলে কথা বলছি না। যদি আমার এটা চিন্তা থাকে যে, পলিটিক্স ইজ এ প্রফেশন অন দ্য বিসিস, প্রফেশনাল বি দ্য রিচ ম্যান- তাহলে জনগণ আমাদের দিকে তাকাইয়া কতক্ষণ থাকবে? কেন থাকবে? সুতরাং আমরা যদি সমস্বরে নামি যে আমরা গণতন্ত্র চাই, আমরা জনগণের অধিকার চাই আর কিছু চাই না, কারও শক্তি নাই আপনাকে সরাতে পারে।’

উপদেষ্টা মাহফুজের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন

তিনি বলেন, ‘তাগো (মৌলবাদী) লগে থাকলে আপনি বেহেশতে যাবেন, আর তাগো লগে না থাকলে আপনি দোজখে যাইবেন। নিজেরা বেহেশতে যাইব কি না, সেই কথা তারা জানে না। সেজন্য আমি বলব, দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হচ্ছে।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, সংস্কারের জন্য সরকার বিদেশ থেকে লোক ভাড়া করে এনেছে। এ সময় পিআর পদ্ধতিরও সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা।

অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার গান গাইতে গাইতে অনেক কিছু কুসংস্কারে পরিণত করে ফেলেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বদিউল আলম মজুমদার একটা বিরাট লেখা লেখছেন পিআরের বিরুদ্ধে। ভাই, আমি তো এত লেখাপড়া জানি না, আমি পিআর বুঝিও না। এই পিআরটা কোথা থেকে আসতেছে বুঝি না। এখন বুঝতেছি-শুনতেছি যে নেপালে আছে। এজন্য সকাল বিকাল প্রধানমন্ত্রী পাল্টায়।’

উদাহরণ দিয়ে গয়েশ্বর বলেন, ‘পাকিস্তানে সিএসপির (সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান) ভাইবা পরীক্ষায় একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিল, পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রীর নাম কী? পরীক্ষার্থী বললেন, সরি স্যার আমি তো সকালবেলা পত্রিকাটা পড়ি নাই। কালকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জানি অমুক। এর মধ্যে যদি পরিবর্তন না হয়ে থাকে।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই পিআরের ব্যবস্থাটা এরকম যে, সকালে প্রধানমন্ত্রী একজন, দুপুরে আরেকজন, রাতের বেলা আরেকজন। এই পদ্ধতি দেশের জণগন মেনে নেবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি গণতন্ত্রের পথে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে না রাখতে পারি, তাহলে সাম্প্রদায়িকতা হবে ফ্যাসিবাদের চেয়ে দ্বিগুণ কঠিন এবং এটি জনজীবন ধ্বংসের শেষ মাথায় নিয়ে যাবে। এই আধুনিক বিশ্বে মুক্ত চিন্তা, প্রতিভার বিকাশ এরা হতে দেবেন না, ওরা করতে দেবেন না।’

বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ বিশ্বাস করে দাবি করে গয়েশ্বর বলেন, ‘যে যেই ধর্ম বিশ্বাসই করুক না কেন, ধর্ম কিন্তু মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য একটা জীবন ব্যবস্থা। ধর্মে যেটা পাপ, আধুনিক রাষ্ট্র আইনে সেটা অন্যায়। সেই অন্যায়ের বিচারের ধারার মধ্যে লেখা থাকে কোন অন্যায়ের জন্য কতটুক শাস্তি। ঠিক আপনি পবিত্র কোরআন-গীতা পড়েন, কোন পাপের জন্য মৃত্যুর পরে কার কী শাস্তি হবে, সেটাও কিন্তু লেখা আছে। সে কারণে ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোনো সাংঘর্ষিক ব্যাপার নাই।’