ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘গণহত্যা বন্ধ হোক’-তারকাদের প্রতিবাদে মুখর এমি অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চ

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 45

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৭৭তম প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চ এ বছর রঙিন গ্ল্যামারের পাশাপাশি হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর। গাজার চলমান সংকট ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ নিয়ে একাধিক হলিউড তারকা সরব হন এই বিশ্বমঞ্চে। কেউ কণ্ঠে, কেউ পোশাকে, কেউবা লাল গালিচায় ফিলিস্তিনের প্রতীকী চিহ্ন ধারণ করে জানিয়ে দেন—নীরব থাকা মানেই অন্যায়ের প্রতি সম্মতি নয়।

এদিন গাজার মানবিক সংকট ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে অনেক হলিউড তারকাই সরব হন।

স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম, যিনি ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ পরে লাল গালিচায় হাজির হন, গাজায় চলমান ঘটনাকে “গণহত্যা” বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক গণহত্যা বিশেষজ্ঞদের সংগঠন (International Association of Genocide Scholars) এরই মধ্যে এই সংঘাতকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বারদেম বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত এখনই ইসরায়েলের ওপর বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

তিনি আরও বলেন, ফিল্ম ওয়ার্কার্স ফর প্যালেস্টাইন (Film Workers for Palestine) নামে একটি উদ্যোগে তিনি সই করেছেন, যেখানে শত শত চলচ্চিত্রশিল্পী এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ না করার অঙ্গীকার করেছেন যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আছে।

“এই বয়কট ব্যক্তি নয়, বরং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক,” বলেন বারদেম। “সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও জনমুখী ব্যক্তিত্বদের নীরবতা মানে হচ্ছে অপরাধের প্রতি সম্মতি।”

অনুষ্ঠানের ভেতরেও প্রতিবাদের সুর বজায় ছিল।

‘হ্যাকস’ সিরিজে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পুরস্কার জেতা হান্নাহ আইনবিন্ডার তার বিজয় বক্তৃতার শেষে বলেন: “গো বার্ডস, আইসিকে ধ্বংস করুন, আর ফিলিস্তিন মুক্ত হোক।” যদিও সরাসরি সম্প্রচারে গালি অংশটি সেন্সর করা হয়, তবু তার বক্তব্যে দর্শকদের মধ্যে জোরালো করতালির সৃষ্টি হয়।

আইনবিন্ডারের পোশাকে ছিল একটি লাল রঙের Artists4Ceasefire ব্যাজ, যেটি বর্তমানে অনেক সেলিব্রেটিরা বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রিমিয়ারে সংহতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছেন।

‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ এর প্রার্থীরা – আইমি লু উড ও নাটাশা রথওয়েল, এবং ‘অ্যাবট এলিমেন্টারি’র ক্রিস পারফেটিও একই ব্যাজ পরে এসেছিলেন।

‘হ্যাকস’ ও ‘টু মাচ’ অভিনেত্রী মেগ স্টলটার একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে এসেছিলেন, যেখানে বড় অক্ষরে লেখা ছিল: “CEASE FIRE!”

রেড কার্পেট সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “মানবতার পক্ষে এবং শান্তির পক্ষে দাঁড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি। আমরা যদি এসব বড় মঞ্চে থেকেও নিজেদের প্রিভিলেজ ব্যবহার না করি, তাহলে এর মানে কী?”

বারদেম ও আইনবিন্ডারের মতো অনেকেই Film Workers for Palestine-এর ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে ১৩০০-রও বেশি শিল্পী ও কর্মী রয়েছেন।

এই বছরের এমি অ্যাওয়ার্ড এমন এক সময়ে আয়োজন করা হয় যখন গাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সামগ্রীর ভয়াবহ ঘাটতি চলছে।

আরও পড়ুন : ৭৭তম এমি অ্যাওয়ার্ডের আসরে ইতিহাস গড়লেন ওয়েন কুপার

গণহত্যা বিশেষজ্ঞদের আন্তর্জাতিক সংগঠন সম্প্রতি জানিয়েছে যে, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের পরিপ্রেক্ষিতে গণহত্যার শামিল।

রোববারের রাতে তারকারা কেবল বিনোদনের জন্য মঞ্চে ওঠেননি, বরং নীরব না থেকে ন্যায়বিচারের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন।

লাল গালিচায় বারদেমের কথায়, “আমরা চোখ ফিরিয়ে রাখতে পারি না।” সূত্র: আল-অ্যারাবিয়া

নিউজটি শেয়ার করুন

‘গণহত্যা বন্ধ হোক’-তারকাদের প্রতিবাদে মুখর এমি অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চ

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৭৭তম প্রাইমটাইম এমি অ্যাওয়ার্ডসের মঞ্চ এ বছর রঙিন গ্ল্যামারের পাশাপাশি হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর। গাজার চলমান সংকট ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ নিয়ে একাধিক হলিউড তারকা সরব হন এই বিশ্বমঞ্চে। কেউ কণ্ঠে, কেউ পোশাকে, কেউবা লাল গালিচায় ফিলিস্তিনের প্রতীকী চিহ্ন ধারণ করে জানিয়ে দেন—নীরব থাকা মানেই অন্যায়ের প্রতি সম্মতি নয়।

এদিন গাজার মানবিক সংকট ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে অনেক হলিউড তারকাই সরব হন।

স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম, যিনি ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ পরে লাল গালিচায় হাজির হন, গাজায় চলমান ঘটনাকে “গণহত্যা” বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক গণহত্যা বিশেষজ্ঞদের সংগঠন (International Association of Genocide Scholars) এরই মধ্যে এই সংঘাতকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বারদেম বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত এখনই ইসরায়েলের ওপর বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

তিনি আরও বলেন, ফিল্ম ওয়ার্কার্স ফর প্যালেস্টাইন (Film Workers for Palestine) নামে একটি উদ্যোগে তিনি সই করেছেন, যেখানে শত শত চলচ্চিত্রশিল্পী এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ না করার অঙ্গীকার করেছেন যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আছে।

“এই বয়কট ব্যক্তি নয়, বরং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক,” বলেন বারদেম। “সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও জনমুখী ব্যক্তিত্বদের নীরবতা মানে হচ্ছে অপরাধের প্রতি সম্মতি।”

অনুষ্ঠানের ভেতরেও প্রতিবাদের সুর বজায় ছিল।

‘হ্যাকস’ সিরিজে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পুরস্কার জেতা হান্নাহ আইনবিন্ডার তার বিজয় বক্তৃতার শেষে বলেন: “গো বার্ডস, আইসিকে ধ্বংস করুন, আর ফিলিস্তিন মুক্ত হোক।” যদিও সরাসরি সম্প্রচারে গালি অংশটি সেন্সর করা হয়, তবু তার বক্তব্যে দর্শকদের মধ্যে জোরালো করতালির সৃষ্টি হয়।

আইনবিন্ডারের পোশাকে ছিল একটি লাল রঙের Artists4Ceasefire ব্যাজ, যেটি বর্তমানে অনেক সেলিব্রেটিরা বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রিমিয়ারে সংহতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছেন।

‘দ্য হোয়াইট লোটাস’ এর প্রার্থীরা – আইমি লু উড ও নাটাশা রথওয়েল, এবং ‘অ্যাবট এলিমেন্টারি’র ক্রিস পারফেটিও একই ব্যাজ পরে এসেছিলেন।

‘হ্যাকস’ ও ‘টু মাচ’ অভিনেত্রী মেগ স্টলটার একটি ব্যাগ হাতে নিয়ে এসেছিলেন, যেখানে বড় অক্ষরে লেখা ছিল: “CEASE FIRE!”

রেড কার্পেট সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “মানবতার পক্ষে এবং শান্তির পক্ষে দাঁড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি। আমরা যদি এসব বড় মঞ্চে থেকেও নিজেদের প্রিভিলেজ ব্যবহার না করি, তাহলে এর মানে কী?”

বারদেম ও আইনবিন্ডারের মতো অনেকেই Film Workers for Palestine-এর ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে ১৩০০-রও বেশি শিল্পী ও কর্মী রয়েছেন।

এই বছরের এমি অ্যাওয়ার্ড এমন এক সময়ে আয়োজন করা হয় যখন গাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সামগ্রীর ভয়াবহ ঘাটতি চলছে।

আরও পড়ুন : ৭৭তম এমি অ্যাওয়ার্ডের আসরে ইতিহাস গড়লেন ওয়েন কুপার

গণহত্যা বিশেষজ্ঞদের আন্তর্জাতিক সংগঠন সম্প্রতি জানিয়েছে যে, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের পরিপ্রেক্ষিতে গণহত্যার শামিল।

রোববারের রাতে তারকারা কেবল বিনোদনের জন্য মঞ্চে ওঠেননি, বরং নীরব না থেকে ন্যায়বিচারের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন।

লাল গালিচায় বারদেমের কথায়, “আমরা চোখ ফিরিয়ে রাখতে পারি না।” সূত্র: আল-অ্যারাবিয়া