‘সোহরাব রুস্তম’ খ্যাত সেই নায়িকা আর নেই

- আপডেট সময় : ১১:৩৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 45
একসময়ের চিত্রনায়িকা বনশ্রী আর নেই। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ‘সোহরাব রুস্তম’ ছবির এই নায়িকা (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না লিল্লাহের রাজেউন)। এক সন্তান রেখে গেছেন।
বনশ্রীর ভাই মোহাম্মদ হারুনের মাধ্যমে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন শিল্পী সমিতির কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য সনি রহমান। তিনি বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তিনি (বনশ্রী) মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। মঙ্গলবার বাদ আসর তার জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে, পরে শিবচর পৌরসভা গোরস্থানে হবে দাফন।
ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির
সনি রহমান জানান, বনশ্রী আপার ভাইয়ের মাধ্যমে জানতে পেরেছি উনি গত পাঁচদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার হৃদরোগ, কিডনির সমস্যাসহ একাধিক ব্যাধি ছিল। তিনি চলে যাওয়ার আগে অনেক কষ্ট করেছেন। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
১৯৪৪ সালের ২৩ আগস্ট মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার শিকদারকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বনশ্রী। মাত্র সাত বছর বয়সে পরিবারসহ ঢাকায় পাড়ি জমান তিনি। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিমনা বনশ্রী বিটিভিতে আবৃত্তি করতেন, ছিলেন উদীচী গণসাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য। অভিনয় শেখেন সুবচন নাট্য সংসদে।
‘সোহরাব-রুস্তম’ ও ‘মহা ভূমিকম্প’সহ আলোচিত কয়েকটি ঢাকাই সিনেমার নায়িকা বনশ্রী। ১৯৯৪ সালে সোহরাব-রুস্তুম সিনেমার মধ্য দিয়ে রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে ব্যবসায় সফল হয় ছবিটি। পরিচিতি পান বনশ্রী। এর পর আরো ৮/১০ টি ছবিতে অভিনয় করেন । রূপালি পর্দার মতো জীবনও হয়ে উঠে রঙিন। পরে ছন্দপতন ঘটে। অভাব-অনটন নিত্যসঙ্গী হয় তার। শাহবাগে ফুলও বিক্রি করেছেন। পরে বিগত সরকারের আমলে ২০ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছিলেন।
আর্থিক কষ্টে করোনাকালে ঢাকা ছেড়ে নিজ উপজেলায় শিবচর ফিরে গিয়েছিলেন বনশ্রী। প্রথমে ভাড়া ছিলেন। পরে মাদবরের চর ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামের আশ্রায়ণ প্রকল্পের একটি ঘর পান তিনি।
উল্লেখ্য, বনশ্রীর এক ছেলে এক মেয়ে। বড় মেয়ে ৭ বছর বয়স থেকেই নিখোঁজ।
জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও জীবনের শেষভাগে দারিদ্র্য ও অবহেলার শিকার হন বনশ্রী। অবসান হলো ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের উজ্জ্বল নক্ষত্রের জীবনের।
























