ঢাকা ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে সুপারির ব্যাপক ফলন, ১০ বছরে সর্বোচ্চ সম্ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 182
204

চলতি মৌসুমে বাগেরহাট জেলায় সুপারির ব্যাপক ফলন হয়েছে। গত ১০ বছরের মধ্যে এ বছর সুপারির সর্বোচ্চ ফলন হবে বলে আশা করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় মোট ৩,৯৬০ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। চলতি বছরে সুপারি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮,৯৯০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ সুপারি সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও বেশি উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, সিডর পরবর্তী দীর্ঘ সময় ধরে সুপারির ফলন কমতে থাকে। মাটিতে তীব্র লবণাক্ততার কারণে শত শত সুপারি বাগান মালিক যারা এই দিয়েই সংসারের সব ব্যয় মেটাতেন তারা খুব বিপদে পড়ে যান। ১০ বছরের মধ্যে এ বছর সুপারির ফলন খুবই ভালো হওয়ায় বাগান মালিক ও তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে। বাজারে সুপারির আশানুরূপ দাম পাওয়ায় সুপারি চাষিরা খুব খুশি।

জেলায় সুপারি আবাদে এ বছর সবচেয়ে বেশি ভূমি ব্যবহৃত হয়েছে বাগেরহাট সদর উপজেলায়, যেখানে ১,২০০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়েছে। অন্যদিকে কচুয়ায় ১,১৫৩ হেক্টর, মোরেলগঞ্জে ৭৫০ হেক্টর, শরণখোলায় ৩০০ হেক্টর, ফকিরহাটে ২৫০ হেক্টর, চিতলমারীতে ১২০ হেক্টর, রামপালে ১২২ হেক্টর, মোল্লাহাটে ৬০ হেক্টর এবং মোংলায় ৩ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ করা হয়েছে।

গত বছর জেলায় সুপারি উৎপাদন হয়েছিল ২৬,৮০০ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর বর্ষার শেষে বেশি বৃষ্টিপাত এবং মাটি ও পানির লবণাক্ততা কম থাকায় গত প্রায় ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সুপারি চাষের ক্ষেত্রে সময় একটি বড়ো বিষয়। চারা রোপণের পর ফলন পেতে গড়ে প্রায় ৫ বছর সময় লাগে। তারপর ধীরে ধীরে ফলন বাড়ে এবং বছরজুড়েই কিছু ফল পাওয়া যায়। বাগেরহাটের উৎপাদিত সুপারি ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে থাকে।

আইএমওর অধিবেশনে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে সমর্থন চাইলেন নৌ উপদেষ্টা

সুপারি হলো একটি পামজাতীয় অর্থকরী ফসল। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকা বাগেরহাট জেলা জুড়েই এ বছর সুপারির ব্যাপক ফলন হয়েছে। এখানকার বাগানের মালিক গাছ থেকে সুপারি পেড়ে বাজারে বিক্রি করে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক সুখেই দিন কাটাতো। সুপারি মূলত পান-পাতার সঙ্গে খাওয়া হয় এবং পানের খিলি ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে সুপারির চাহিদা রয়েছে। এ অঞ্চলে বেড়াতে আসা পর্যটক এবং আত্মীয়স্বজন বাগেরহাটের পান সুপারির স্বাদ নিতে পানের দোকানে ভিড় করেন। পাশাপাশি বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময়ও সুপারি নিতে দেখা যায়।

সুপারি ব্যবসায়ী মোশাররফ বলেন, বাগেরহাট দরগাহ, যাত্রাপুর হাটের কচুয়া বাজার, গজালিয়া বাজার, ফকিরহাট বাজার ও যাত্রাপুর বাজারে এক কুড়ি সুপারি (স্থানভেদে ২৩১ বা ২৬৪ টিতে এক কুড়ি ধরা হয়) গড়ে ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সুপারির শেষ সময়ে দাম আরও চড়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন ।

সুপারি গাছ লাগানোর ৫ বছর পর ফল ধরতে শুরু করে। ভালো পরিচর্যা করলে অনেক বছর ধরে ফল পাওয়া যায়। ভালো ফলনের জন্য মাটি, পানি, সেচ, সঠিক সার প্রয়োগ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ। ফলের সময় সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। বিভিন্ন হাট থেকে পাইকারি দরে কিনে ব্যবসায়ীরা ট্রাকযোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, ফেনিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে থাকে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করেন, সুপারি চাষ জেলার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। কৃষকেরা ভালো মূল্য পেলে ভবিষ্যতে সুপারি বাগেরহাটের অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হবে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন কুমার মজুমদার বলেন, ‘বাগেরহাটে সুপারির চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে ৬৫ শতাংশ সুপারি সংগ্রহ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখানকার সুপারির চাহিদা রয়েছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন,‘বাংলাদেশ নারকেল গবেষণা কেন্দ্র উদ্ভাবিত উন্নত জাতের সুপারি এখন কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। ২০০৭ সালের সিডরের পর লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং বর্ষা কমে যাওয়া সুপারির উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তবে বর্তমানে পরিবেশ অনুকূল থাকায় ফলন আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাগেরহাটে সুপারির ব্যাপক ফলন, ১০ বছরে সর্বোচ্চ সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৩:২৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
204

চলতি মৌসুমে বাগেরহাট জেলায় সুপারির ব্যাপক ফলন হয়েছে। গত ১০ বছরের মধ্যে এ বছর সুপারির সর্বোচ্চ ফলন হবে বলে আশা করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জেলায় মোট ৩,৯৬০ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। চলতি বছরে সুপারি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮,৯৯০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ সুপারি সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও বেশি উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, সিডর পরবর্তী দীর্ঘ সময় ধরে সুপারির ফলন কমতে থাকে। মাটিতে তীব্র লবণাক্ততার কারণে শত শত সুপারি বাগান মালিক যারা এই দিয়েই সংসারের সব ব্যয় মেটাতেন তারা খুব বিপদে পড়ে যান। ১০ বছরের মধ্যে এ বছর সুপারির ফলন খুবই ভালো হওয়ায় বাগান মালিক ও তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে। বাজারে সুপারির আশানুরূপ দাম পাওয়ায় সুপারি চাষিরা খুব খুশি।

জেলায় সুপারি আবাদে এ বছর সবচেয়ে বেশি ভূমি ব্যবহৃত হয়েছে বাগেরহাট সদর উপজেলায়, যেখানে ১,২০০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়েছে। অন্যদিকে কচুয়ায় ১,১৫৩ হেক্টর, মোরেলগঞ্জে ৭৫০ হেক্টর, শরণখোলায় ৩০০ হেক্টর, ফকিরহাটে ২৫০ হেক্টর, চিতলমারীতে ১২০ হেক্টর, রামপালে ১২২ হেক্টর, মোল্লাহাটে ৬০ হেক্টর এবং মোংলায় ৩ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ করা হয়েছে।

গত বছর জেলায় সুপারি উৎপাদন হয়েছিল ২৬,৮০০ মেট্রিক টন। কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর বর্ষার শেষে বেশি বৃষ্টিপাত এবং মাটি ও পানির লবণাক্ততা কম থাকায় গত প্রায় ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সুপারি চাষের ক্ষেত্রে সময় একটি বড়ো বিষয়। চারা রোপণের পর ফলন পেতে গড়ে প্রায় ৫ বছর সময় লাগে। তারপর ধীরে ধীরে ফলন বাড়ে এবং বছরজুড়েই কিছু ফল পাওয়া যায়। বাগেরহাটের উৎপাদিত সুপারি ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফেনি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে থাকে।

আইএমওর অধিবেশনে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে সমর্থন চাইলেন নৌ উপদেষ্টা

সুপারি হলো একটি পামজাতীয় অর্থকরী ফসল। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকা বাগেরহাট জেলা জুড়েই এ বছর সুপারির ব্যাপক ফলন হয়েছে। এখানকার বাগানের মালিক গাছ থেকে সুপারি পেড়ে বাজারে বিক্রি করে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক সুখেই দিন কাটাতো। সুপারি মূলত পান-পাতার সঙ্গে খাওয়া হয় এবং পানের খিলি ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে সুপারির চাহিদা রয়েছে। এ অঞ্চলে বেড়াতে আসা পর্যটক এবং আত্মীয়স্বজন বাগেরহাটের পান সুপারির স্বাদ নিতে পানের দোকানে ভিড় করেন। পাশাপাশি বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময়ও সুপারি নিতে দেখা যায়।

সুপারি ব্যবসায়ী মোশাররফ বলেন, বাগেরহাট দরগাহ, যাত্রাপুর হাটের কচুয়া বাজার, গজালিয়া বাজার, ফকিরহাট বাজার ও যাত্রাপুর বাজারে এক কুড়ি সুপারি (স্থানভেদে ২৩১ বা ২৬৪ টিতে এক কুড়ি ধরা হয়) গড়ে ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সুপারির শেষ সময়ে দাম আরও চড়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন ।

সুপারি গাছ লাগানোর ৫ বছর পর ফল ধরতে শুরু করে। ভালো পরিচর্যা করলে অনেক বছর ধরে ফল পাওয়া যায়। ভালো ফলনের জন্য মাটি, পানি, সেচ, সঠিক সার প্রয়োগ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ। ফলের সময় সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। বিভিন্ন হাট থেকে পাইকারি দরে কিনে ব্যবসায়ীরা ট্রাকযোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, ফেনিসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে থাকে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করেন, সুপারি চাষ জেলার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। কৃষকেরা ভালো মূল্য পেলে ভবিষ্যতে সুপারি বাগেরহাটের অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হবে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন কুমার মজুমদার বলেন, ‘বাগেরহাটে সুপারির চাষ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে ৬৫ শতাংশ সুপারি সংগ্রহ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখানকার সুপারির চাহিদা রয়েছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন,‘বাংলাদেশ নারকেল গবেষণা কেন্দ্র উদ্ভাবিত উন্নত জাতের সুপারি এখন কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। ২০০৭ সালের সিডরের পর লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং বর্ষা কমে যাওয়া সুপারির উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। তবে বর্তমানে পরিবেশ অনুকূল থাকায় ফলন আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে।’