সরবরাহ বাড়লেও সবজির বাজার চড়া

- আপডেট সময় : ০৩:২৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
- / 93
প্রতিদিন সরবরাহ বাড়লেও রাজধানীর সবজির বাজার চড়া রয়েছে। বাজারে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন, লাউ, মুলাসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চোখে পড়লেও ক্রেতাদের স্বস্তি ফেরেনি। গত সপ্তাহের মতো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সবজি। একইসঙ্গে কমেনি আলু ও পেঁয়াজের দাম। তবে গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ ও মুরগি।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
শীতকালীন সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দাম কমছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবজির দাম কমছে না। শুধু তাই নয়, বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় এ বছর সবজি বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজি শিম কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, দেশি গাজর ৭০ টাকা ও ইন্ডিয়ান ১৪০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস, বাঁধাকপি বড় সাইজের ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।
সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত
এসব বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি ঝিঙা ৬০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা ও ধুন্দল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এসব বাজারে লেবুর হালি ১০ থেকে ৩০ টাকা, ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা ও চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে লাল শাক আঁটি ১৫ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা ও ডাটা শাক ২ আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আলু ৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা, ইন্ডিয়ান ১৮০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা ও খেসারির ডাল ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সোহেল হোসেন বলেন, শীতকাল আসলে সবজির দাম এমনি কম থাকার কথা। ১০০ টাকা অন্তত আড়াই থেকে ৩ কেজি সবজি তো পাওয়া যাওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে ২ কেজি সবজি কিনতেই লাগে অন্তত ১২০ টাকা। শীত মৌসুমে এটাকে কম দাম বলতে পারছি না। মনে হচ্ছে, গত সপ্তাহের মতোই দাম আছে।
খুচরা বিক্রেতা আকাশ জানান, আমরা তো কারওয়ান বাজার থেকে আনি। সেখানে নানা কোয়ালিটির সবজি পাওয়া যায়। একই সবজি, কোয়ালিটি অনুযায়ী দাম আলাদা। আমরা বাজার থেকে নিয়ে আসার খরচসহ হয় কেজিতে ৩-৫ টাকা লাভ করি। কিন্তু দামের বিষয় তো আমি বলতে পারবো না।
বাজারগুলোতে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা ও ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।
এসব বাজারে সোনালি কক মুরগি ২৮০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, হাঁসের ডিম ২১০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এসব বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, গরুর কলিজা ৭৮০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি বিক্রেতা আজাদ মিয়া বলেন, শুনেছি গত এক সপ্তাহে ফিডের দাম অনেক বেড়ে গেছে। আগে আমরা কেজি প্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন সেটি ১৯০ টাকা। শুধু ফিডই নয়, খামারে খরচ, শ্রমিকদের মজুরি ও পরিবহন খরচও অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের তো কিছু করার নেই। কারণ, আমরা পাইকারি মার্কেট থেকে মুরগি কিনি। সেখানেই দাম বাড়তি। যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।
হাসান উদ্দিন নামের অন্য আরেক বিক্রেতা বলেন, সোনালী ও দেশি মুরগির দাম বেশি থাকায় অনেকে ব্রয়লার মুরগি কিনতে আসেন। এখন সেটার দাম কিছুটা বেড়েছে। আমরা চাইলেই দাম কমাতে পারি না। কারণ, পাইকারিতে চড়া দামে বিক্রি করে। তবে সম্প্রতি যদি বাজারে সরবরাহ বাড়ে তবে দামও স্থিতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষও সুবিধা পাবেন।
অন্যদিকে, মাছের বাজারে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি পড়ছে ইলিশে। মাঝারি আকারের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়। বড় আকারের ইলিশের কেজি ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
বনলতা কাঁচাবাজারের মাছ বিক্রেতা ইব্রাহিম আলী বলেন, ইলিশের সরবরাহ এখন বেড়েছে। তবে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেশি হওয়ার সুবাদে দাম কমছে না। মাঝারি ইলিশের চাহিদা অনেক বেশি। কেউ নিতে চাইলে কম-বেশি দরদামে দিয়ে দিচ্ছি।
বাজারগুলোতে ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি ইলিশ ১০০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ১৬০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা ও ১ কেজি ওজনের ২৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে ১ কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, রুই দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

























