তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শীর্ষ দাবিদার: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

- আপডেট সময় : ০৪:৪১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 212
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে বিশ্বের শক্তিশালী গণমাধ্যম দ্যা নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে তাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শীর্ষ দাবিদার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের মতো যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) তাদের প্রতিবেদনটিতেও ১৭ বছর পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের মুখে বিগত সরকারের পতন, ২০২৪ এর আন্দোলনে ১৪০০ আন্দোলনকারীকে হত্যা, আগামী নির্বাচনের বিভিন্ন ঝুঁকির কথাও উঠে আসে।
প্রতিবেদনটিতে উঠে আসে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার শীর্ষ দাবিদারদের একজন, যিনি প্রায় দু’দশক ধরে দেশে আইনি ঝামেলার কারণে নির্বাসনে ছিলেন, তিনি বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় ফিরে এসেছেন। ঠিক তখনই দেশে নির্বাচনী মৌসুম পুরোপুরি শুরু হয়েছে।
ফিরে আসা এই রাজনীতিক হলেন তারেক রহমান। তিনি গত ১৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কার্যত নেতা হিসেবে দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তার প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের অস্থির রাজনীতিতে সর্বশেষ বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় সংসদীয় নির্বাচনে তার দলকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক ভাগ্যবদলের এক নাটকীয়তায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—যিনি একসময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ডজনের পর ডজন মামলা দিয়েছিলেন এবং বিএনপিকে দমন করেছিলেন—এখন ভারতে নির্বাসিত। গত বছর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে স্ত্রী ও কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে একটি বড় বাসে করে বের হওয়ার সময় রাস্তার দু’পাশে বিপুল সংখ্যক দলীয় সমর্থক জড়ো হয়ে নাচ-গান ও উল্লাসে তার প্রত্যাবর্তন উদযাপন করেন।
তারেক রহমানের হাত ধরে গণতান্ত্রিক যাত্রায় এগিয়ে যাবে দেশ: মির্জা ফখরুল
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির কারণে বিএনপি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তবে সামনে মাসগুলোতে তারেক রহমান ও তার দলের জন্য পরিস্থিতি সহজ হবে না। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক অরাজক সময়ে—যেখানে জনতার সহিংসতা, ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার প্রকাশ, ভোটের নিয়মকানুন নিয়ে বিরোধ এবং প্রতিবেশী ভারত সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রতিবেদনটিতে আরো উল্লেখ করা হয়, দেশে ফেরার পর এক বিশাল সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি ‘গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক অধিকার’ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে ‘চরমপন্থি’ শক্তিগুলোর উত্থান নিয়ে উদ্বেগের কথাও ইঙ্গিত করেন এবং দেশের হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সংখ্যালঘুদের সমান অধিকারের ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখে—অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ। এমন বাংলাদেশ, যেখানে নারী, পুরুষ কিংবা শিশু—যে-ই ঘর থেকে নিরাপদে বের হবে, সে নিরাপদেই আবার ঘরে ফিরতে পারবে।’
দ্যা নিউইয়র্ক টাইমসের বর্ণনায়, শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তাকে এই পদে বসানো হয়। শেখ হাসিনার ক্ষমতার শেষ সপ্তাহগুলোতে তার সরকার আন্দোলনকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন চালায়। জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অভিযানে অন্তত ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়। এরপরই তিনি ভারতে আশ্রয় নেন।
এই সহিংসতা নিয়ে ক্ষোভই পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবেশকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বারবার হামলার শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগের অবশিষ্ট কার্যালয়গুলো। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার পতনের পর ভেঙে পড়া পুলিশ বাহিনী পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ—পুলিশ এখনও দলীয় পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই আওয়ামী লীগ কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
গণমাধ্যমটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বক্তব্য উপস্থাপন করে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কঠিন এই রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সহায়ক হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। একটি গির্জায় বড়দিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে কি, বাংলাদেশে এখন একটি রাজনৈতিক শূন্যতা রয়েছে। তারেক রহমানের ফিরে আসার মধ্য দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ হবে।’
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার বর্ণনায় অন্যান্য আলোচনার মধ্যে উঠে আসে, তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন। তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়েই আবর্তিত হয়েছে। তারেক রহমান ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং সেখানেই অবস্থান করছিলেন।
২০০৯ সালে শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকে—স্থানীয় গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, তা ৮০টিরও বেশি ছিল।
তার আইনজীবী ও বিএনপির আইন বিষয়ক শাখার সাধারণ সম্পাদক কায়সার কামাল বলেন, ‘তিনি এখন সব মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। অধিকাংশ মামলাই ছিল মানহানিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’






















