ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট চালু, নিহত বেড়ে ৩ হাজার

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 69

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ায় প্রায় ২০০ ঘণ্টা বন্ধের পর সীমিত পরিসরে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করেছে দেশটির সরকার। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ইরানজুড়ে বিক্ষোভে ৩ হাজার ৯০ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৮৫ জন বিক্ষোভকারী। নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের কারণে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তেহরানের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, রাজধানী তেহরানে গত চার দিন ধরে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি রয়েছে। শহরের ওপর দিয়ে তারা ড্রোন উড়ার কথা জানিয়েছে।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বড় ধরনের বিক্ষোভের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় ক্যাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী শহরের একজন বাসিন্দা বলেছেন, সেখানকার রাস্তাগুলোও শান্ত দেখা গেছে।

সহিংসতা দমনে উপকূলীয় প্রদেশে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন ইকুয়েডরের

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে ইরানে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরবর্তীতে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ও ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাতের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনে রূপ নেয়।

চলমান বিক্ষোভে প্রায় ২০০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা হয়েছে। বিদেশে থাকা কয়েকজন ইরানি এক্টিভিস্ট রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা শনিবার ভোরে ইরানে বসবাসকারী স্বজনদের কাছে অনলাইনে বার্তা পাঠাতে পেরেছেন।

এদিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নতুন করে রক্তপাত হলে ‘গুরুতর পরিণতি’ হবে, এমন সতর্কতা বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসময় ইরানে সামরিক হামলা কেন এড়িয়েছেন এমন প্রশ্নে বলেন, সিদ্ধান্তটি তিনি নিজেই নিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, কেউ আমাকে রাজি করায়নি। আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গতকাল আটশর বেশি ফাঁসির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কাউকে ফাঁসি দেয়া হয়নি—ফাঁসিগুলো বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি আমার সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে। সূত্র : ইরান ইন্টারন্যাশনাল

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানে সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট চালু, নিহত বেড়ে ৩ হাজার

আপডেট সময় : ০২:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ায় প্রায় ২০০ ঘণ্টা বন্ধের পর সীমিত পরিসরে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করেছে দেশটির সরকার। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ইরানজুড়ে বিক্ষোভে ৩ হাজার ৯০ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৮৫ জন বিক্ষোভকারী। নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়নের কারণে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তেহরানের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, রাজধানী তেহরানে গত চার দিন ধরে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি রয়েছে। শহরের ওপর দিয়ে তারা ড্রোন উড়ার কথা জানিয়েছে।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বড় ধরনের বিক্ষোভের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় ক্যাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী শহরের একজন বাসিন্দা বলেছেন, সেখানকার রাস্তাগুলোও শান্ত দেখা গেছে।

সহিংসতা দমনে উপকূলীয় প্রদেশে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন ইকুয়েডরের

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে ইরানে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরবর্তীতে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ও ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাতের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনে রূপ নেয়।

চলমান বিক্ষোভে প্রায় ২০০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা হয়েছে। বিদেশে থাকা কয়েকজন ইরানি এক্টিভিস্ট রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা শনিবার ভোরে ইরানে বসবাসকারী স্বজনদের কাছে অনলাইনে বার্তা পাঠাতে পেরেছেন।

এদিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নতুন করে রক্তপাত হলে ‘গুরুতর পরিণতি’ হবে, এমন সতর্কতা বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসময় ইরানে সামরিক হামলা কেন এড়িয়েছেন এমন প্রশ্নে বলেন, সিদ্ধান্তটি তিনি নিজেই নিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, কেউ আমাকে রাজি করায়নি। আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গতকাল আটশর বেশি ফাঁসির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কাউকে ফাঁসি দেয়া হয়নি—ফাঁসিগুলো বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি আমার সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে। সূত্র : ইরান ইন্টারন্যাশনাল