লিঁওতে ইতিহাস গড়া হ্যাটট্রিক এন্দ্রিকের

- আপডেট সময় : ০১:২৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / 106
নতুন জীবনই যেন পেলেন এন্দ্রিক। হইচই ফেলে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের গল্পটা হয়েছিল কেবলই হতাশার। সেই বিষন্নতার গল্প পেছনে ফেলে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু করলেন এন্দ্রিক। রিয়াল থেকে ধারে ফরাসি ক্লাব লিঁওতে হ্যাটট্রিক করে রীতিমতো ইতিহাসেই জায়গা করে নিলেন ১৯ বছর বয়সী তারকা।
গতকাল লিগ ওয়ানে মেৎজের বিপক্ষে ৫-২ গোলে জিতেছে লিঁও। ক্লাবটির পাঁচ গোলের তিনটি এসেছে ধারে খেলা এন্দ্রিকের নৈপুণ্যে। প্রতিপক্ষের মাঠে ১১ মিনিটে প্রথম গোল করার পর প্রথামার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে দ্বিতীয় গোল, তারপর ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিক করেই ইতিহাস গড়েন এন্দ্রিক।
লিঁও ও লিগ ওয়ানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড় এখন এন্দ্রিক। ১৯ বছর ১৮৮ দিনে হ্যাটট্রিক করা এন্দ্রিক ভেঙে দিলেন বর্ণার্ড লাকমবের রেকর্ড (১৯ বছর ১৯৬ দিন)। একবিংশ শতাব্দিতে এন্দ্রিকের চেয়ে কম কম বয়সে হ্যাটট্রিক করেছেন কেবল জেরেমি মেনেজ (১৭ বছর ২৬০ দিন), কিলিয়ান এমবাপে (১৮ বছর ৫৩ দিন) ও উসমান দেম্বেলে ( ১৮ বছর ২৯৬ দিন)।
গত ডিসেম্বর রিয়াল থেকে লিঁওতে ধারে যোগ দেওয়া প্রথম তিন ম্যাচে করলেন চার গোল, পাশপাশি সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন একটি গোল। ক্লাবটির ইতিহাসে যা নতুন ফুটবলার জন্য সেরা শুরু। এর আগে ২০১৭ সালের আগস্টে একই সময়ে তিনটি গোল করেছিলেন মারিয়ানো দিয়াজ।
এবার ক্যারিকের শিকার আর্সেনাল, সুদিন কী ফিরল ম্যান ইউনাইটেডের
বৃহস্পতি তুঙ্গে থাকা এন্দ্রিকের প্রথম গোলটি আসে অধিনায়ক কোরেন্টিন টোলিসোর ক্রস থেকে। বাঁ পায়ে দারুণ ফ্লিকে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ডান দিক দিয়ে টাইলার মর্টনের বাড়ানো বল পেয়ে কেটে নিয়ে প্রতিপক্ষের গোলকিপার জোনাথন ফিশারকে বোকা বানান এন্দ্রিক। তারপর ৮৭ মিনিটে নিজের জেতা পেনাল্টি থেকে বল জালে জড়িয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন লিঁওর ফরোয়ার্ড।
লিওঁর হয়ে বাকি দুটি গোল করেন নেদারল্যান্ডস এবং বার্সেলোনার সাবেক ফরোয়ার্ড প্যাট্রিক ক্লুইভার্টের ছেলে রুবেন ক্লুইভার্টএবং টাইলার মর্টন। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চারে উঠে এসেছে লিঁও। ১৯ ম্যাচে ক্লাবটির সংগ্রহ ৩৬ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে পিএসজি।
রিয়ালে যে এন্দ্রিক ছিলেন নিভে যাওয়া এক তারার মতো, সেখানে কোন মন্ত্রে নতুন একটি ক্লাবে এসে এতটা দ্রুত মানিয়ে নিলেন এন্দ্রিক? দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের রহস্য উন্মোচন করে ব্রাজিল ফরোয়ার্ড বলেন, আমি মাঠে ফিরতে পেরেছি এবং আমার হাসিটা ফিরে পেয়েছি বলে খুব খুশি। সবকিছু দারুণ, আমার কল্পনার চেয়ে অনেক ভালো। পুরো দলের সঙ্গে মজা করতে পারি; সবাইকে ভালোভাবে চিনে নিয়েছি। আমি স্প্যানিশ এবং ইংরেজি বলতে পারি। আমি অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি, খুব খুশি, স্টাফদের ধন্যবাদ, সত্যিই দারুণ, সবাইকে ধন্যবাদ।’
ধারে খেলার জন্য নিজেই লিঁওকে বেছে নেন এন্দ্রিক। কারণ হিসেবে নিজের সাবেক ক্লাব পালমেইরাসের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়ার কথা বলেন তিনি, ‘লিঁওর খেলার ধরণ আমার পছন্দের। এটি পালমেইরাস-এর সেই স্টাইল মনে করিয়ে দেয়, যখন আমি ফলস নাইন হিসেবে খেলতাম। আমি দলকে আক্রমণ ও রক্ষণে সাহায্য করতে পারি, আর এখানে আমার অনেক স্বাধীনতা রয়েছে।’

























