ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষাব্যবস্থায় আসছে বড় পরিবর্তন; রূপরেখা তৈরি করছে সরকার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 133
153

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন শিক্ষাক্রমকে ‘বাস্তবায়নযোগ্য নয়’ বলে ঘোষণা করে। এর প্রেক্ষিতে সরকার ২০১২ সালের সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৫ সাল থেকে পরিমার্জিত পাঠ্যবই বিতরণ এবং ২০২৭ সালে একটি সম্পূর্ণ নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনার কথা জানায়।

জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার শুরু থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের কথা বলছে। এরই মধ্যে, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানোর পরিবেশ সৃষ্টি, জাতীয় পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা ও কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নকে শিক্ষা খাতের তিন অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন করতে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হতে যাচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ন্যানো টেকনোলজি, রোবটিক্স, ডিজিটাল লিটারেচারসহ বেশ কিছু বিষয়। পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে এবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সবমিলিয়ে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে রূপরেখা তৈরির কাজে হাত দিয়েছে সরকার।

ডিজিটালাইজেশন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ন্যানোটেকনোলজি, রোবটিক্স, ডিজিটাল লিটারেচারসহ বেশ কিছু বিষয় যুক্ত করে পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার কথা জানানো হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলকেও মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা চলছে। শিক্ষা নিয়ে নতুন সরকারের ১৭টি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বলেন, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দিতে চায় সরকার। তাই ধাপে ধাপে সেদিকে এগিয়ে যেতে তৈরি হচ্ছে রূপরেখা।

শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা ও সাহিত্যচর্চায় রাজনীতিকরণ সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয় : প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা কারিকুলামে চেঞ্জ আনবো। কারিকুলাম রিলেটেড যা কিছু আছে ক্লাসরুম, টিচার, ট্রেনিং, নিয়োগ, টেক্সটবুক এ সবকিছুতে অটোমেটিক চেঞ্জ আসবে। টোটাল শিক্ষা ব্যবস্থাতেই চেঞ্জ আসবে। প্রথমদিকে এ চেঞ্জগুলো সিকুয়েন্সলি নিয়ে আসবো। আমরা আমাদের সর্ট টার্মের মিড টার্ম প্ল্যানগুলো আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবনা করবো। উনি যদি অ্যাপ্রুভ করে, তাহলে আপনাদের সামনে নিয়ে আসবো।’

বাজেটে শিক্ষাখাতের বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করা হবে বলেও জানান তিনি। বাধ্যতামূলক কারিগরি শিক্ষা ও মাধ্যমিক স্কুলে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারেও কাজ চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। বলেন, প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করে ক্লাসরুমকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীবান্ধব করা হবে। ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাপ প্রকল্প চালুর কথাও জানান তিনি।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাপ পলিসি, বৃক্ষরোপণ পলিসি এমন অনেক ধরনের পলিসিসহ মোট ১৭ ধরনের পলিসি আমরা বিভিন্ন অধিদপ্তরে আমরা পৌঁছে দিয়েছি। এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায়, ফুল প্ল্যানিং প্রসেসে আমি এবং মন্ত্রী মহোদয় ইন্ডিপেন্ডেন্স দিয়েছি তাদের। তারা যেন আউট অব বক্স চিন্তা করতে পারে। আমাদের লং টার্ম গোল হলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আশেপাশের দেশগুলোর কাছে ভালোভাবে তুলে ধরা।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষাখাতে যে কোনো পরিবর্তনের জন্য কমিশন গঠন করে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা উচিত। দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের উপর জোর দেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সবার আগে দরকার একটি দক্ষ শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করে, একটি শিক্ষা নীতি তৈরি করা। সেই শিক্ষা নীতির ওপর ভিত্তি করে কারিকুলাম আনতে হবে। আমাদের শিক্ষক দরকার। শিক্ষক ছাড়া আমরা ট্যাব দিয়ে কী করবো। কর্মবৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সবাইকে বাধ্য করা যাবে না। কেউ যদি মনে করে সে ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনা করবে তাকে সে সুযোগ দিতে হবে। আপনি অপশন রাখবেন।’

বিগত সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে নতুন কারিকুলামে অভিভাবকদের সমর্থন অর্জন করা চ্যালেঞ্জিং হবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষাব্যবস্থায় আসছে বড় পরিবর্তন; রূপরেখা তৈরি করছে সরকার

আপডেট সময় : ১১:২৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
153

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন শিক্ষাক্রমকে ‘বাস্তবায়নযোগ্য নয়’ বলে ঘোষণা করে। এর প্রেক্ষিতে সরকার ২০১২ সালের সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৫ সাল থেকে পরিমার্জিত পাঠ্যবই বিতরণ এবং ২০২৭ সালে একটি সম্পূর্ণ নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনার কথা জানায়।

জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার শুরু থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের কথা বলছে। এরই মধ্যে, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফেরানোর পরিবেশ সৃষ্টি, জাতীয় পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা ও কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নকে শিক্ষা খাতের তিন অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন করতে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হতে যাচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ন্যানো টেকনোলজি, রোবটিক্স, ডিজিটাল লিটারেচারসহ বেশ কিছু বিষয়। পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে এবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সবমিলিয়ে ধাপে ধাপে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে রূপরেখা তৈরির কাজে হাত দিয়েছে সরকার।

ডিজিটালাইজেশন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ন্যানোটেকনোলজি, রোবটিক্স, ডিজিটাল লিটারেচারসহ বেশ কিছু বিষয় যুক্ত করে পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার কথা জানানো হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলকেও মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা চলছে। শিক্ষা নিয়ে নতুন সরকারের ১৭টি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বলেন, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দিতে চায় সরকার। তাই ধাপে ধাপে সেদিকে এগিয়ে যেতে তৈরি হচ্ছে রূপরেখা।

শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা ও সাহিত্যচর্চায় রাজনীতিকরণ সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয় : প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা কারিকুলামে চেঞ্জ আনবো। কারিকুলাম রিলেটেড যা কিছু আছে ক্লাসরুম, টিচার, ট্রেনিং, নিয়োগ, টেক্সটবুক এ সবকিছুতে অটোমেটিক চেঞ্জ আসবে। টোটাল শিক্ষা ব্যবস্থাতেই চেঞ্জ আসবে। প্রথমদিকে এ চেঞ্জগুলো সিকুয়েন্সলি নিয়ে আসবো। আমরা আমাদের সর্ট টার্মের মিড টার্ম প্ল্যানগুলো আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবনা করবো। উনি যদি অ্যাপ্রুভ করে, তাহলে আপনাদের সামনে নিয়ে আসবো।’

বাজেটে শিক্ষাখাতের বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ করা হবে বলেও জানান তিনি। বাধ্যতামূলক কারিগরি শিক্ষা ও মাধ্যমিক স্কুলে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারেও কাজ চলছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। বলেন, প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করে ক্লাসরুমকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীবান্ধব করা হবে। ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাপ প্রকল্প চালুর কথাও জানান তিনি।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাপ পলিসি, বৃক্ষরোপণ পলিসি এমন অনেক ধরনের পলিসিসহ মোট ১৭ ধরনের পলিসি আমরা বিভিন্ন অধিদপ্তরে আমরা পৌঁছে দিয়েছি। এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায়, ফুল প্ল্যানিং প্রসেসে আমি এবং মন্ত্রী মহোদয় ইন্ডিপেন্ডেন্স দিয়েছি তাদের। তারা যেন আউট অব বক্স চিন্তা করতে পারে। আমাদের লং টার্ম গোল হলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আশেপাশের দেশগুলোর কাছে ভালোভাবে তুলে ধরা।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষাখাতে যে কোনো পরিবর্তনের জন্য কমিশন গঠন করে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা উচিত। দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের উপর জোর দেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সবার আগে দরকার একটি দক্ষ শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করে, একটি শিক্ষা নীতি তৈরি করা। সেই শিক্ষা নীতির ওপর ভিত্তি করে কারিকুলাম আনতে হবে। আমাদের শিক্ষক দরকার। শিক্ষক ছাড়া আমরা ট্যাব দিয়ে কী করবো। কর্মবৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা করতে হবে। তবে সবাইকে বাধ্য করা যাবে না। কেউ যদি মনে করে সে ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনা করবে তাকে সে সুযোগ দিতে হবে। আপনি অপশন রাখবেন।’

বিগত সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে নতুন কারিকুলামে অভিভাবকদের সমর্থন অর্জন করা চ্যালেঞ্জিং হবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।