ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ ঘণ্টা ধরে আগুনে জ্বলেছে মার্কিন রণতরি জেরাল্ড আর ফোর্ড

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • / 64

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর গর্ব ও বিশ্বের সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রণতরিটির লন্ড্রি সেকশন থেকে সূত্রপাত হওয়া এই আগুন টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলেছে বলে জানা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন নৌসেনা ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

সোমবার প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রণতরিটির নাবিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত সপ্তাহে মাঝ সমুদ্রে অবস্থানকালে রণতরিটির কাপড় ধোয়ার অংশে (লন্ড্রি) আগুন লাগে। মার্কিন নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এটি কোনো বহিঃশত্রুর হামলার ঘটনা নয়। অগ্নিকাণ্ডে দুই নাবিক সামান্য আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।

তবে নৌবাহিনী সামরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকার দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ১৩ বিলিয়ন (১ হাজার ৩০০ কোটি) ডলার মূল্যের এই বিশালাকৃতির রণতরিতে থাকা ৪ হাজার ৫০০ ক্রু বর্তমানে ‘চরম অস্বস্তিকর’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান, হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠাবে না ইইউ

অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতায় রণতরিটির একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অন্তত ৬০০ নাবিক তাদের থাকার কক্ষ হারিয়েছেন। তারা এখন রণতরির ডাইনিং টেবিল বা মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন। লন্ড্রি পুড়ে যাওয়ায় হাজার হাজার সেনার কাপড় ধোয়া বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা টয়লেট সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে, যা সারাতে প্রায়ই বাইরের বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে হচ্ছে।

১ লাখ টন ওজনের এই রণতরিটি বর্তমানে লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে। গত জুন মাসে ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দর ছাড়ার পর এটি আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগর হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই রণতরিটির অবস্থান আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত গড়ায়, তবে তা হবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন রণতরির দীর্ঘতম মোতায়েনের রেকর্ড।

বর্তমানে লোহিত সাগরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই অগ্নিকাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ সংকট মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এ বিষয়ে সিএনএন-এর পক্ষ থেকে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

৩০ ঘণ্টা ধরে আগুনে জ্বলেছে মার্কিন রণতরি জেরাল্ড আর ফোর্ড

আপডেট সময় : ১২:০৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর গর্ব ও বিশ্বের সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রণতরিটির লন্ড্রি সেকশন থেকে সূত্রপাত হওয়া এই আগুন টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলেছে বলে জানা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন নৌসেনা ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

সোমবার প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রণতরিটির নাবিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত সপ্তাহে মাঝ সমুদ্রে অবস্থানকালে রণতরিটির কাপড় ধোয়ার অংশে (লন্ড্রি) আগুন লাগে। মার্কিন নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এটি কোনো বহিঃশত্রুর হামলার ঘটনা নয়। অগ্নিকাণ্ডে দুই নাবিক সামান্য আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।

তবে নৌবাহিনী সামরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকার দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ১৩ বিলিয়ন (১ হাজার ৩০০ কোটি) ডলার মূল্যের এই বিশালাকৃতির রণতরিতে থাকা ৪ হাজার ৫০০ ক্রু বর্তমানে ‘চরম অস্বস্তিকর’ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান, হরমুজ প্রণালিতে নৌবাহিনী পাঠাবে না ইইউ

অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতায় রণতরিটির একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অন্তত ৬০০ নাবিক তাদের থাকার কক্ষ হারিয়েছেন। তারা এখন রণতরির ডাইনিং টেবিল বা মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন। লন্ড্রি পুড়ে যাওয়ায় হাজার হাজার সেনার কাপড় ধোয়া বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা টয়লেট সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে, যা সারাতে প্রায়ই বাইরের বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে হচ্ছে।

১ লাখ টন ওজনের এই রণতরিটি বর্তমানে লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে। গত জুন মাসে ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দর ছাড়ার পর এটি আটলান্টিক ও ভূমধ্যসাগর হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই রণতরিটির অবস্থান আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত গড়ায়, তবে তা হবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন রণতরির দীর্ঘতম মোতায়েনের রেকর্ড।

বর্তমানে লোহিত সাগরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই অগ্নিকাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ সংকট মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এ বিষয়ে সিএনএন-এর পক্ষ থেকে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।