আবারও ইসরায়েলি জাহাজে হামলার দাবি হুথির

- আপডেট সময় : ০৮:৪৮:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৩
- / 202
লোহিত সাগরের দক্ষিণাংশে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা এই অঞ্চলে দুটি ইসরায়েলি জাহাজে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি অধিকৃত অঞ্চল থেকে এসব হামলা করা হয়েছে। এ সময় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সাহায্যের ডাকে সাড়া দেয় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কার্নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, এক বিবৃতিতে হুথিদের মুখপাত্র জানান, ইয়েমেনের জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ হামলা চালানো হয়েছে। এটি মুসলিম জাতিগুলোর পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান।
মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, হামলার শিকার বাণিজ্যিক জাহাজকে সাহায্যের সময় যুদ্ধজাহাজ কার্নি থেকে তিনটি ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তবে যুদ্ধজাহাজটি লক্ষ্যবস্তু ছিল কিনা তা স্পষ্ট নয়। এসব হামলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে।
হামলাগুলো ইয়েমেনের হুথিরা করলেও ইরানের সমর্থনেই এ সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে করে মার্কিন বাহিনী। আমেরিকা তার আন্তর্জাতিক মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে পুরোপুরি সমন্বয় করে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানানোর কথা ভাববে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে হামলার শিকার জাহাজ দুটির সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হ্যাগারি।
তেল আবিবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘একটি জাহাজ বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর সেটি ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে। অন্য জাহাজটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে এই জাহাজের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা নেই।’
হামলার শিকার বাহামার পতাকাবাহী মালবাহী ইউনিটি এক্সপ্লোরার জাহাজ লন্ডনভিত্তিক ডাও শিপিং লিমিটেডের পরিচালনাধীন। জাহাজটির মালিক ইউনিটি এক্সপ্লোরার লিমিটেড। জাহাজটির ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর কথা ছিল।
আর নাম্বার নাইন শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন নাম্বার নাইন একটি কনটেইনারবাহী জাহাজ। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বানহার্ড শেল্টি শিপম্যানেজমেন্ট (বিএসএম) নাম্বার নাইনের পরিচালনা কোম্পানি। এক বিবৃতিতে বিএসএম জানায়, ঘটনার সময় নাম্বার নাইন সুয়েজ বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। বাব আল-মান্দাব প্রণালী পার হওয়ার সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানে। হামলায় জাহাজের কেউ আঘাত পেয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।
গত ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধের জেরে এসব হামলা। এর আগেও লোহিত সাগরে ইসরায়েলি মালিকানাধীন জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। এসব ঘটনায় বরাবরই ইরানের সংশ্লিষ্টতার দাবি করে আসছে ইসরায়েল ও আমেরিকা।




















