ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় রথযাত্রায় ৫ জনের মৃত্যু, আহত ৩০

বগুড়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:১৯ অপরাহ্ন, রোববার, ৭ জুলাই ২০২৪
  • / 149

বগুড়ায় রথযাত্রায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। রোববার (৭ জুলাই) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শহরের সেউজগাড়ী আমতলী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যাদের মাঝে অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতদের মধ্যে চারজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- নরেশ মোহন্ত (৬৫), অলোক সরকার (৪০), আতশি রানী (৪০) ও রঞ্জিতা মহন্ত (৬০)। তাদের মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। নিহত আরেকজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তার মরদেহ রাখা আছে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের মর্গে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেউজগাড়ী ইসকন ম‌ন্দির থেকে রথযাত্রা‌টি‌ বিকেলে বের হয়। পথিমধ্যে সেউজগাড়ী আমতলা মোড় এলাকায় পৌঁছালে রথের গম্বুজ‌টি রাস্তার উপরে থাকা হাইভোল্টজের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে। পরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এরপর পরপরই রথের গাড়িটি বিদ্যুতায়িত হলে গাড়িতে থাকা ভক্তবৃন্দসহ আশেপাশের অর্ধশতাধিক ভক্তবৃন্দ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। বিদ্যুৎপৃষ্ট মানুষদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত মারা গেছে মোট ৫ জন।

এদিকে, নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে শজিমেক হাসপাতালে। আর হাসপাতালে যারা ভর্তি আছেন তাদের অবস্থাও বেশ আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বাড়তে পারে নিহতদের তালিকা।

এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে পরিদর্শনে আসেন বগুড়া জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজা পারভিন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাগর কুমার রায়সহ স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ।

এসময় জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ধর্মীয় উৎসবের দিনে এমন ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পর অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে পুরো বিষয়টি। রথযাত্রাকে ঘিরে কারো কোনো গাফিলতি ছিল কিনা সেটিও তারা খতিয়ে দেখছেন।

এ ঘটনায় শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, রথযাত্রায় বিদ্যুৎপৃষ্ঠে আহতরা শজিমেক ছাড়াও সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সুচিকিৎসা দেওয়ার জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাদের হাসপাতালে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

বগুড়ায় রথযাত্রায় ৫ জনের মৃত্যু, আহত ৩০

আপডেট সময় : ১১:১৪:১৯ অপরাহ্ন, রোববার, ৭ জুলাই ২০২৪

বগুড়ায় রথযাত্রায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। রোববার (৭ জুলাই) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শহরের সেউজগাড়ী আমতলী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যাদের মাঝে অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতদের মধ্যে চারজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- নরেশ মোহন্ত (৬৫), অলোক সরকার (৪০), আতশি রানী (৪০) ও রঞ্জিতা মহন্ত (৬০)। তাদের মরদেহ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। নিহত আরেকজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তার মরদেহ রাখা আছে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের মর্গে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেউজগাড়ী ইসকন ম‌ন্দির থেকে রথযাত্রা‌টি‌ বিকেলে বের হয়। পথিমধ্যে সেউজগাড়ী আমতলা মোড় এলাকায় পৌঁছালে রথের গম্বুজ‌টি রাস্তার উপরে থাকা হাইভোল্টজের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে। পরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এরপর পরপরই রথের গাড়িটি বিদ্যুতায়িত হলে গাড়িতে থাকা ভক্তবৃন্দসহ আশেপাশের অর্ধশতাধিক ভক্তবৃন্দ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। বিদ্যুৎপৃষ্ট মানুষদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত মারা গেছে মোট ৫ জন।

এদিকে, নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে শজিমেক হাসপাতালে। আর হাসপাতালে যারা ভর্তি আছেন তাদের অবস্থাও বেশ আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বাড়তে পারে নিহতদের তালিকা।

এমন মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে পরিদর্শনে আসেন বগুড়া জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজা পারভিন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সাগর কুমার রায়সহ স্থানীয় প্রশাসনের নেতৃবৃন্দ।

এসময় জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ধর্মীয় উৎসবের দিনে এমন ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পর অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে পুরো বিষয়টি। রথযাত্রাকে ঘিরে কারো কোনো গাফিলতি ছিল কিনা সেটিও তারা খতিয়ে দেখছেন।

এ ঘটনায় শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানান, রথযাত্রায় বিদ্যুৎপৃষ্ঠে আহতরা শজিমেক ছাড়াও সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সুচিকিৎসা দেওয়ার জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাদের হাসপাতালে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তিনি।