মালয়েশিয়ায় থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া শান্তি আলোচনা শুরু

- আপডেট সময় : ০৩:৪৭:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
- / 47
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সোমবার থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত ও থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।
থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার মধ্যে সর্বশেষ সংঘর্ষ বৃহস্পতিবার তাদের যৌথ সীমান্তে একটি আঞ্চলিক বিরোধকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল, যার ফলে কমপক্ষে ৩৫ জন মারা গিয়েছিল, এবং হাজার হাজার মানুষ সীমান্তের উভয় পাশে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কর্মকর্তারা এ আলোচনার তত্ত্বাবধান করবেন।
বৈঠক শুরুর আগে মানেত বলেন, ‘আমরা তাৎক্ষণিক ‘যুদ্ধবিরতি’ অর্জনের জন্য একটি বিশেষ বৈঠকে অংশ নিতে প্রস্তুত।
তিনি চীনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে মালয়েশিয়া আয়োজিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহ-আয়োজক এই বৈঠকের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দেন।
মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে ক্যাম্বোডিয়া ‘সরল বিশ্বাসে’ কাজ করছে।
“তাদের সত্যিকারের অভিপ্রায় প্রদর্শন করা দরকার এবং আমরা বৈঠকে এটি মূল্যায়ন করব,” তিনি যোগ করেন।
সোমবার ভোরে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ম্যালি সোচিতা থাই বাহিনীর বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ করেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে সোচিতা বলেন, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়ায় বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সোমবার সকালে তা মোয়ান থম ও তা ক্রাবেইতে হামলা চালায় থাই বাহিনী।
তিনি অভিযোগ করেন, রোববার থেকে থাই বাহিনী কম্বোডিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিষাক্ত গ্যাস হামলা চালাতে এয়ার জেট ব্যবহার করছে।
তবে থাইল্যান্ড রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে কম্বোডিয়ার দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে থাই সশস্ত্র বাহিনী। “থাইল্যান্ড রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি, উৎপাদন বা ব্যবহার করে না এবং রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন সম্পূর্ণরূপে মেনে চলে,” থাই সেনাবাহিনীর বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে থাই এনকোয়ারার জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই শান্তি প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে মার্কিন কর্মকর্তারা মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিটি দেশের জন্য নিজ নিজ প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং পরিস্থিতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সংঘাতের অবসান চাই,” বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে।
সোমবার চীন উভয় পক্ষকে ‘দুই দেশের জনগণের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে যুদ্ধবিরতির দিকে অগ্রসর হওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইংরেজি দৈনিক মালয় মেইল জানিয়েছে, সোমবার পৃথকভাবে, আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন এবং তাদের বিরোধপূর্ণ সীমান্তে ক্রমবর্ধমান মৃতের সংখ্যা এবং মানবিক প্রভাবের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার থেকে দুই বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত ও দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

























