গাজার সমর্থনে ইউরোপজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

- আপডেট সময় : ০২:২২:৫১ অপরাহ্ন, রোববার, ১০ অগাস্ট ২০২৫
- / 60
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবিতে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শনিবার ইউরোপের দেশগুলোতে লাখ লাখ বিক্ষোভকারী সমাবেশ ও মিছিল করেছে।
৩০তম ন্যাশনাল মার্চের অংশ হিসেবে লন্ডনের রাস্তায় নেমে ফিলিস্তিনের জন্য ৩০তম জাতীয় পদযাত্রার অংশ হিসেবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানায় ব্রিটিশরা।
‘ক্ষুধার্ত গাজা বন্ধ করুন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় রাসেল স্কয়ার থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে মিছিল করে লাখ লাখ মানুষ।
দেশব্যাপী ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশের অন্যতম সংগঠক প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন (পিএসসি) বিক্ষোভের আগে এক্স-এ লিখেছিল যে ইজরায়েল গাজায় ফিলিস্তিনিদের অনাহারে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলের গণহত্যা বন্ধে আমাদের সরকারকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।
ফিলিস্তিনি পতাকা বহন করে, জনতা গণহত্যার সাথে “জড়িত থাকার জন্য” ব্রিটিশ সরকারের সমালোচনা সহ একটি স্লোগান দেয়।
স্টকহোমে শত শত মানুষ গাজা সিটি দখলের ইসরাইলি পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা ওডেনপ্ল্যান এলাকায় বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে জড়ো হয়েছিল যা ইস্রায়েলি হামলা এবং ইস্রায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থনের নিন্দা জানিয়েছিল।
পরে বিক্ষোভকারীরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে যায়।
ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্যাপকভাবে বিরোধিতা করা দখলদারিত্বের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।
অনেকে এই পরিকল্পনা এবং ইসরায়েলের প্রতি পশ্চিমা সমর্থনের প্রতিবাদে আমস্টারডামের রাস্তায়ও নেমেছিল।
বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে গাজায় অবাধ ত্রাণ সরবরাহের দাবি জানায়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক ত্রাণ পেতে গিয়ে ২১ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৩৪১ জনেরও বেশি আহত হয়েছে, যার ফলে ত্রাণ খুঁজতে গিয়ে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৪৩ জনে, ২৭ মে থেকে এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৫৯০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।
এতে বলা হয়, দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছিটমহলের মানবিক সংকট গভীরতর হওয়ার সাথে সাথে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা ২১২ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ৯৮ জন শিশুও রয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও অনাহারের প্রতিবাদে মাদ্রিদসহ স্পেনে বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মাদ্রিদে ফিলিস্তিনি পতাকা বহন করে বিক্ষোভকারীরা ‘গণহত্যা বন্ধ কর’ বলে স্লোগান দেয়।
অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ছিটমহলে অনাহারের প্রতিবাদে কেউ কেউ হাঁড়ি-পাতিল পেটায়।
ইসরায়েলি অবরোধের কারণে গাজায় দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর প্রতিবাদে জেনেভার জার্ডিন অ্যাংলাইসে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল।
বিক্ষোভের সময় জনতা ইংরেজি, ফরাসি ও আরবিতে চিৎকার করে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ জানায়।
ফিলিস্তিনি পতাকা বহন করে বিক্ষোভকারীরা গাজার ক্ষুধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হাঁড়ি-পাতিল পেটায়।
বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের নিপীড়নের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন বন্ধেরও দাবি জানান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ১৮ মার্চ গাজায় পুনরায় হামলা শুরু করে এবং তারপর থেকে ৯,৮৬২ জন নিহত এবং ৪০,৮০৯ জনকে আহত করেছে, যা জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত যুদ্ধবিরতি এবং বন্দী বিনিময় চুক্তি ভেঙে দিয়েছে।
গত নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
ছিটমহলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও রয়েছে।























