ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্মিত হচ্ছে আরও ৫১৬ কমিউনিটি ক্লিনিক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
  • / 64

দেশজুড়ে নতুন করে আরও ৫১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান।

বুধবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মহাখালীতে ট্রাস্টের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ৪২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮০টি ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যেগুলো মেরামত ও পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নতুন কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো করা হবে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি জাইকার অর্থায়নে। আর মেরামত ও পুনঃস্থাপনের কাজে অর্থায়ন করবে ওপেক। ইতিমধ্যে একটি তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তবে ক্লিনিকগুলো কবে নাগাদ নির্মাণ শুরু হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, শহর এলাকাতেও কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে সেখানে জমি পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে জায়গা ভাড়া করে ক্লিনিক স্থাপনের বিষয়ে ভাবা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘দেশের ৭২ শতাংশ মানুষ মনে করে, জনস্বাস্থ্যসেবার জন্য আলাদা অবকাঠামো থাকা উচিত। এই ক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৯২ শতাংশ মানুষ মনে করেন স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সরকারকে বহন করা উচিত। কমিউনিটি ক্লিনিক এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

ওষুধ সরবরাহ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ইতিমধ্যে ইডিসিএল থেকে ১২০ কোটি টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে। এসব ওষুধ এক সপ্তাহের মধ্যেই সব কমিউনিটি ক্লিনিকে পৌঁছে যাবে। এ ছাড়া আরো ২০০ কোটি টাকার ওষুধ দ্রুত কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের মাঠ প্রশাসনের পরিচালক আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘ক্লিনিকগুলোর নিজস্ব ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সিএইচসিপি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আধুনিক প্রশিক্ষণ পাবেন।’

একই সঙ্গে সারা দেশের ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চালু করা হবে ডিজিটাল রেফারেল সিস্টেম, যার মাধ্যমে একজন সেবাগ্রহীতা কোথায়, কী চিকিৎসা পেয়েছেন তা ট্র্যাক করা যাবে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো জানান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নারী স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ধাপে ধাপে ৮০ শতাংশ বা তারও বেশি পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে (বর্তমানে ৫৪ শতাংশ)। তাদের ধাত্রীবিদ্যায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যবিষয়ক এসডিজি লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়। এ ছাড়া হাওর, চর, উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলে প্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মানুষের জন্য একটি করে নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হবে।

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিরোধমূলক ও পরামর্শমূলক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া। এখানে সাধারণত বড় ধরনের ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক থাকে না। প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন, এন্টাসিড ইত্যাদি সাধারণ ওষুধ দিয়েই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিশেষ সেবা রয়েছে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী সিএইচসিপিরা নিরাপদভাবে স্বাভাবিক ডেলিভারি করাতে সক্ষম।’

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্মিত হচ্ছে আরও ৫১৬ কমিউনিটি ক্লিনিক

আপডেট সময় : ১১:১১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

দেশজুড়ে নতুন করে আরও ৫১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান।

বুধবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মহাখালীতে ট্রাস্টের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ৪২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮০টি ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যেগুলো মেরামত ও পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নতুন কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো করা হবে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি জাইকার অর্থায়নে। আর মেরামত ও পুনঃস্থাপনের কাজে অর্থায়ন করবে ওপেক। ইতিমধ্যে একটি তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তবে ক্লিনিকগুলো কবে নাগাদ নির্মাণ শুরু হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, শহর এলাকাতেও কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, তবে সেখানে জমি পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে জায়গা ভাড়া করে ক্লিনিক স্থাপনের বিষয়ে ভাবা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘দেশের ৭২ শতাংশ মানুষ মনে করে, জনস্বাস্থ্যসেবার জন্য আলাদা অবকাঠামো থাকা উচিত। এই ক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৯২ শতাংশ মানুষ মনে করেন স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সরকারকে বহন করা উচিত। কমিউনিটি ক্লিনিক এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

ওষুধ সরবরাহ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ইতিমধ্যে ইডিসিএল থেকে ১২০ কোটি টাকার ওষুধ কেনা হয়েছে। এসব ওষুধ এক সপ্তাহের মধ্যেই সব কমিউনিটি ক্লিনিকে পৌঁছে যাবে। এ ছাড়া আরো ২০০ কোটি টাকার ওষুধ দ্রুত কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের মাঠ প্রশাসনের পরিচালক আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘ক্লিনিকগুলোর নিজস্ব ভবন নির্মাণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সিএইচসিপি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা আধুনিক প্রশিক্ষণ পাবেন।’

একই সঙ্গে সারা দেশের ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চালু করা হবে ডিজিটাল রেফারেল সিস্টেম, যার মাধ্যমে একজন সেবাগ্রহীতা কোথায়, কী চিকিৎসা পেয়েছেন তা ট্র্যাক করা যাবে এবং সঠিক সময়ে সঠিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরো জানান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নারী স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ধাপে ধাপে ৮০ শতাংশ বা তারও বেশি পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে (বর্তমানে ৫৪ শতাংশ)। তাদের ধাত্রীবিদ্যায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যবিষয়ক এসডিজি লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়। এ ছাড়া হাওর, চর, উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলে প্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মানুষের জন্য একটি করে নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হবে।

কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিরোধমূলক ও পরামর্শমূলক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া। এখানে সাধারণত বড় ধরনের ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক থাকে না। প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন, এন্টাসিড ইত্যাদি সাধারণ ওষুধ দিয়েই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিশেষ সেবা রয়েছে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী সিএইচসিপিরা নিরাপদভাবে স্বাভাবিক ডেলিভারি করাতে সক্ষম।’