ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই বাড়তে পারে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 73

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৫৫৯ জনের বয়স ১৫ বছরের নিচে। অর্থাৎ, আক্রান্তদের প্রায় ২২ শতাংশই শিশু। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের ডেঙ্গু চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে জটিল এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, রাজধানীতে দশটি সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে রোজ অসংখ্য রোগী ভর্তি হচ্ছেন। যার মধ্যে ২২ শতাংশই শিশু। ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ায় সেবা দিতে হিমশিম অবস্থা চিকিৎসক ও নার্সদের।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশুদের মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ বড়দের থেকে কিছুটা আলাদা। প্রাপ্তবয়স্করা শরীর এবং চোখের ব্যথাসহ হঠাৎ জ্বর অনুভব করলেও শিশুরা প্রথমে বমি বমি ভাব এবং কাশিতে ভোগে বেশি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘প্রথমে দেখতে হবে ডেঙ্গু হয়েছে কিনা। তার যদি জ্বর থাকে তাহলে প্রথম তিনদিন অপেক্ষা করা যেতে পারে, যে সাধারণ প্যারাসিটামলে চলে যাচ্ছে কিনা। এর পর জ্বর বাড়তেই থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। প্রথম তিনদিন বিশ্রাম করতে হবে। আর পাশাপাশি ঘরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।’

এদিকে মহাখালী ডিএসসিসির ডেডিকেটেড হাসপাতালের পরিচালক জানান, রাতে এবং দিনে যে কোনো সময় ঘুমালে শিশুকে অবশ্যই মশারির ভেতর রাখতে হবে। সাদা বা কম উজ্জ্বল কাপড়ের প্রতি মশা আকৃষ্ট হয় কম। তাই শিশুদের উজ্জ্বল কাপড় না পড়ানোর পরামর্শ তার।

এদিকে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী দুই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই বাড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে অভিযান জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।

ডেঙ্গু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজীর আহমেদ বলেন, জুলাই থেকে আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা খুব বেশি বাড়েনি। এ মাসে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৫৩৪ জন, মারা গেছে ৩৫ জন। আগস্টের শেষেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে এডিসের ব্রুটো ইনডেক্স আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এখনকার বৃষ্টির কারণে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

বে-নজীর আহমেদ আরও জানান, এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১১৮ জন। আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৫১৪ জন। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছিল ২০২৩ সালে। ঐ বছর মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের।

ঢাকা উত্তরের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের দাবি, গত মাসের পদক্ষেপের কারণে এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। তিনি জানান, বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী তিন মাসের কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই বাড়তে পারে

আপডেট সময় : ০৪:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৫৫৯ জনের বয়স ১৫ বছরের নিচে। অর্থাৎ, আক্রান্তদের প্রায় ২২ শতাংশই শিশু। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের ডেঙ্গু চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে জটিল এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, রাজধানীতে দশটি সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে রোজ অসংখ্য রোগী ভর্তি হচ্ছেন। যার মধ্যে ২২ শতাংশই শিশু। ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ায় সেবা দিতে হিমশিম অবস্থা চিকিৎসক ও নার্সদের।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশুদের মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ বড়দের থেকে কিছুটা আলাদা। প্রাপ্তবয়স্করা শরীর এবং চোখের ব্যথাসহ হঠাৎ জ্বর অনুভব করলেও শিশুরা প্রথমে বমি বমি ভাব এবং কাশিতে ভোগে বেশি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘প্রথমে দেখতে হবে ডেঙ্গু হয়েছে কিনা। তার যদি জ্বর থাকে তাহলে প্রথম তিনদিন অপেক্ষা করা যেতে পারে, যে সাধারণ প্যারাসিটামলে চলে যাচ্ছে কিনা। এর পর জ্বর বাড়তেই থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। প্রথম তিনদিন বিশ্রাম করতে হবে। আর পাশাপাশি ঘরের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।’

এদিকে মহাখালী ডিএসসিসির ডেডিকেটেড হাসপাতালের পরিচালক জানান, রাতে এবং দিনে যে কোনো সময় ঘুমালে শিশুকে অবশ্যই মশারির ভেতর রাখতে হবে। সাদা বা কম উজ্জ্বল কাপড়ের প্রতি মশা আকৃষ্ট হয় কম। তাই শিশুদের উজ্জ্বল কাপড় না পড়ানোর পরামর্শ তার।

এদিকে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী দুই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই বাড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে অভিযান জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।

ডেঙ্গু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বে-নজীর আহমেদ বলেন, জুলাই থেকে আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা খুব বেশি বাড়েনি। এ মাসে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৫৩৪ জন, মারা গেছে ৩৫ জন। আগস্টের শেষেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে এডিসের ব্রুটো ইনডেক্স আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এখনকার বৃষ্টির কারণে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

বে-নজীর আহমেদ আরও জানান, এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১১৮ জন। আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৫১৪ জন। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছিল ২০২৩ সালে। ঐ বছর মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের।

ঢাকা উত্তরের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের দাবি, গত মাসের পদক্ষেপের কারণে এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। তিনি জানান, বিশেষজ্ঞদের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী তিন মাসের কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।