ঢাকা ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশাল জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 40

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তানকেও টোয়েন্টি সিরিজে হারিয়েছে টাইগাররা। এবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও একম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিতল লাল-সবুজের দল। তাতে টানা তিন টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ল লিটন দাসের দল।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৭.৩ ওভারে ১০৩ রানে অলআউট হয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। জবাবে খেলতে নেমে ১৩.১ ওভারে এক উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।

সহজ লক্ষ্য করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাট চালাতে থাকেন ওপেনার পারভেজ ইমন। তবে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনি। ২১ বলে ২৩ রান করে ফেলেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। এরপর লিটনকে সঙ্গে নিয়ে রান তুলতে থাকেন আরেক ওপেনার তানজিদ তামিম।

লিটনের সঙ্গে ৪১ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েন তিনি। এ ছাড়াও ৩৯ বলে নিজের ফিফটি তুলে নেন তামিম। শেষ পর্যন্ত লিটনের ১৮ রান এবং তামিমের ৪০ বলের অপরাজিত ৫৪ রানে ভর করে ৪১ বল এবং ৯ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নেদারল্যান্ডসের। পাওয়ার প্লেতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ডাচরা। তৃতীয় ওভারে নাসুম আহমেদকে বোলিংয়ে আনেন লিটন। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে একাদশে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করেন তিনি।

ওভারের দ্বিতীয় বলে ম্যাক্স ও’ডাউড (৮) এবং পরের বলে তেজা নিদামানুরুকে ডাক আউট করেন এই টাইগার স্পিনার। অপর প্রান্ত থেকে রান তোলার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার বিক্রমজিৎ সিং। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ১৭ বলে ২৪ রান করে তাসকিনের প্রথম শিকার হন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার।

চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। কিন্তু মাত্র ৯ রান করে মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ আউট হন তিনি। এরপরই শুরু হয় ডাচদের উইকেট মিছিল। নোয়াহ ক্রুস (২), শারিজ আহমেদ (১২), সিকান্দার জুলফিকার (২), কাইল ক্লেইন (৪) ও পল ফন মিকেরেন (৩) রানে আউট হলে ৮১ রানে ৯ উইকেট হারায় সফরকারীরা।

শেষ দিকে লড়াই করতে থাকেন আরিয়ান দত্ত। তবে ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে এই ডান হাতি ব্যাটার বোল্ড আউট হলে ১০৩ রানে অলআউট হয় নেদারল্যান্ডস। ২৪ বলে ৩০ রান করেছেন আরিয়ান।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন নাসুম আহমেদ। এ ছাড়াও তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান দুটি করে শিকার করেন। আর শেখ মাহেদী ও তানজিম হাসান সাকিব নেন একটি করে উইকেট।

সিরিজ বাঁচাতে হলে দারুণ কিছু করতে হবে নেদারল্যান্ডসকে। তবে ব্যাটিংয়ে সেই দারুণ কিছুর ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। উল্টো বাংলাদেশের বিপক্ষে বিব্রতকর এক রেকর্ড গড়েছে তারা। টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন রানের স্কোর করেছে নেদারল্যান্ডস।

আজ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১০৩ রানে অলআউট হয়েছে। আগের সর্বনিম্ন রানের স্কোরটি ছিল ১৩১ রানের। ২০১২ সালে হেগে হওয়া সেই ম্যাচে ১ ‍উইকেটের জয় পেয়েছিল তারা।
নেদারল্যান্ডসকে এত অল্প রানে অলআউট করার কারিগর বলা যেতে পারে নাসুম আহমেদকে।

একাদশে ফিরেই ডাচদের টপ অর্ডার ভেঙে দিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে টানা দুই উইকেট তুলে নিয়ে।

সেই যে দলীয় ১৪ রানে উইকেট হারানো শুরু এরপর পর ইনিংসে বাঁধ দিতে পারেনি ডাচরা। বলা ভালো তাদের দেননি তাসকিন আহমেদ-মুস্তাফিজরা।

সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেওয়া নাসুমের সঙ্গে যে পরে উইকেট উদযাপনে মাতেন তারা। দুই পেসারই দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

এই সংগ্রহটাও দাঁড় করাতে পারত না নেদারল্যান্ডস, যদি শেষ দিকে ৩০ রানের ইনিংস না খেলতেন আরিয়ান দত্ত। ৯ নম্বরে নেমে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৩ চার ও ১ ছক্কায়। প্রতিপক্ষের হয়ে ডাচদের আর একজন ব্যাটারই বিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন।

সেই একজন হচ্ছেন ওপেনিংয়ে নেমে ২৪ রান করা বিক্রমাজিৎ সিং।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশাল জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১০:০৩:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তানকেও টোয়েন্টি সিরিজে হারিয়েছে টাইগাররা। এবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষেও একম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিতল লাল-সবুজের দল। তাতে টানা তিন টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়ল লিটন দাসের দল।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৭.৩ ওভারে ১০৩ রানে অলআউট হয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। জবাবে খেলতে নেমে ১৩.১ ওভারে এক উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।

সহজ লক্ষ্য করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাট চালাতে থাকেন ওপেনার পারভেজ ইমন। তবে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনি। ২১ বলে ২৩ রান করে ফেলেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। এরপর লিটনকে সঙ্গে নিয়ে রান তুলতে থাকেন আরেক ওপেনার তানজিদ তামিম।

লিটনের সঙ্গে ৪১ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েন তিনি। এ ছাড়াও ৩৯ বলে নিজের ফিফটি তুলে নেন তামিম। শেষ পর্যন্ত লিটনের ১৮ রান এবং তামিমের ৪০ বলের অপরাজিত ৫৪ রানে ভর করে ৪১ বল এবং ৯ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি নেদারল্যান্ডসের। পাওয়ার প্লেতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ডাচরা। তৃতীয় ওভারে নাসুম আহমেদকে বোলিংয়ে আনেন লিটন। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে একাদশে নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করেন তিনি।

ওভারের দ্বিতীয় বলে ম্যাক্স ও’ডাউড (৮) এবং পরের বলে তেজা নিদামানুরুকে ডাক আউট করেন এই টাইগার স্পিনার। অপর প্রান্ত থেকে রান তোলার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার বিক্রমজিৎ সিং। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। ১৭ বলে ২৪ রান করে তাসকিনের প্রথম শিকার হন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার।

চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। কিন্তু মাত্র ৯ রান করে মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ আউট হন তিনি। এরপরই শুরু হয় ডাচদের উইকেট মিছিল। নোয়াহ ক্রুস (২), শারিজ আহমেদ (১২), সিকান্দার জুলফিকার (২), কাইল ক্লেইন (৪) ও পল ফন মিকেরেন (৩) রানে আউট হলে ৮১ রানে ৯ উইকেট হারায় সফরকারীরা।

শেষ দিকে লড়াই করতে থাকেন আরিয়ান দত্ত। তবে ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে এই ডান হাতি ব্যাটার বোল্ড আউট হলে ১০৩ রানে অলআউট হয় নেদারল্যান্ডস। ২৪ বলে ৩০ রান করেছেন আরিয়ান।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন নাসুম আহমেদ। এ ছাড়াও তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান দুটি করে শিকার করেন। আর শেখ মাহেদী ও তানজিম হাসান সাকিব নেন একটি করে উইকেট।

সিরিজ বাঁচাতে হলে দারুণ কিছু করতে হবে নেদারল্যান্ডসকে। তবে ব্যাটিংয়ে সেই দারুণ কিছুর ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। উল্টো বাংলাদেশের বিপক্ষে বিব্রতকর এক রেকর্ড গড়েছে তারা। টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন রানের স্কোর করেছে নেদারল্যান্ডস।

আজ দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১০৩ রানে অলআউট হয়েছে। আগের সর্বনিম্ন রানের স্কোরটি ছিল ১৩১ রানের। ২০১২ সালে হেগে হওয়া সেই ম্যাচে ১ ‍উইকেটের জয় পেয়েছিল তারা।
নেদারল্যান্ডসকে এত অল্প রানে অলআউট করার কারিগর বলা যেতে পারে নাসুম আহমেদকে।

একাদশে ফিরেই ডাচদের টপ অর্ডার ভেঙে দিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে টানা দুই উইকেট তুলে নিয়ে।

সেই যে দলীয় ১৪ রানে উইকেট হারানো শুরু এরপর পর ইনিংসে বাঁধ দিতে পারেনি ডাচরা। বলা ভালো তাদের দেননি তাসকিন আহমেদ-মুস্তাফিজরা।

সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেওয়া নাসুমের সঙ্গে যে পরে উইকেট উদযাপনে মাতেন তারা। দুই পেসারই দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

এই সংগ্রহটাও দাঁড় করাতে পারত না নেদারল্যান্ডস, যদি শেষ দিকে ৩০ রানের ইনিংস না খেলতেন আরিয়ান দত্ত। ৯ নম্বরে নেমে দলের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৩ চার ও ১ ছক্কায়। প্রতিপক্ষের হয়ে ডাচদের আর একজন ব্যাটারই বিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন।

সেই একজন হচ্ছেন ওপেনিংয়ে নেমে ২৪ রান করা বিক্রমাজিৎ সিং।