ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবজির দাম বাড়তি, বাজার মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেই

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 60

বিগত তিন মাস ধরে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি। বর্তমানে আলু ও কাঁচা পেঁপে ছাড়া বাজারে হাতেগোনা কয়েকটি সবজির দামই ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে। এ অবস্থায় বিক্রেতারা বলছেন, আগের তুলনায় তাদের বিক্রি কমে গেছে। অন্যদিকে, অধিকাংশ ক্রেতাই এখন আধা কেজি করে সবজি কিনছেন।

মাছ-মাংস, সবজি বা নিত্যপণ্য— কোনোটিরই দাম এখন সহনীয় পর্যায়ে নেই। ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম চড়া। পাঙাসও বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। ব্রয়লার ১৬৫ টাকা, লেয়ার, সোনালী এবং দেশি মুরগির দাম আরও বেশি।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বাজারগুলোতে সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। এসব বাজারে বেগুন কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী কেজিতে ১০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে ঝিঙা ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে করলা ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো কেজিতে ৫০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, ইন্ডিয়ান গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি শসা ৮০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে লেবুর হালি ১৫ থেকে ৩০ টাকা, ধনেপাতা ৩৫০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস, কাঁকরোল ১০০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে লাল শাক ১৫ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা ও ডাটা শাক ২ আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে দেশি আদা কেজিতে ৬০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা ও ইন্ডিয়ান ১৪০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা ও খেসারির ডাল ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজ দীর্ঘদিন যাবৎ সবজির অতিরিক্ত দাম যাচ্ছে। ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে বলতে গেলে বাজারে কোনো সবজি নেই। আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এত দামে সবজি কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমি নিজেই এক-একটা আইটেমের সবজি আধা কেজি করে কিনলাম। এতদিন ধরে সবজির বাজার বাড়তি যাচ্ছে অথচ বাজার মনিটরিংয়ের কোনো উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা ইদ্রিস আলী বলেন, সবজির দাম বাড়তি থাকায় আমাদেরও ব্যবসা কমে গেছে। যে ক্রেতা আগে এক কেজি করে সবজি কিনতেন, তিনি এখন আধা কেজি করে সবজি কিনছেন। বলতে গেলে আধা কেজি করে সবজি কেনা ক্রেতার সংখ্যায় এখন বেশি। আগে যেখানে সারা দিনে এক আইটেম সবজি ২০ কেজি বিক্রি করতাম, এখন সেই সবজি সারাদিনে বিক্রি হয় ৫ কেজি। ফলে আমাদের ব্যবসাও আগের চেয়ে কমে গেছে।

মগবাজারের সবজি বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, আর কিছুদিন সবজির দাম বাড়তি থাকবে। কারণ, এখন বেশিরভাগ সবজির মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে সবজি বাজারে ওঠার আগ পর্যন্ত সবজির দাম এমন বাড়তি থাকবে। কারণ, চাহিদার তুলনায় এখন বাজারে সবজির সরবরাহ অনেকটাই কম।

বাজারগুলোতে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা ও ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।

এসব বাজারে সোনালি কক মুরগি কেজিতে ৩২০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৯০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা, হাঁসের ডিম ২১০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও খাসির মাংস কেজি প্রতি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, ব্রয়লার মুরগি ছাড়া অন্য কিছু কেনার সুযোগ কমে যাচ্ছে। তাও আবার ব্রয়লারের দামও বাড়তি।

নুরুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রয়লার মুরগি তো আগে আরেকটু কম টাকায় পাওয়া যেত, এখন ১৬৫ টাকা কেজি। প্রতিদিনের বাজার খরচ সামলানোই কষ্টকর হয়ে গেছে। দাম কমবে বলে আসি, কিন্তু কোনো পরিবর্তন দেখি না।

ফেনীর দাগনভূঞাঁয় নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-স্কুল-জমি

হাবিবুল বাশার নামের আরেক ক্রেতা বলেন, সবকিছুর দামি বাড়তি, সেখানে মুরগির দাম কম থাকবে সেটা আশা করি না৷ ব্রয়লার ছাড়া অন্য মুরগি কেনা কষ্টকর হয়ে যায়। দেখা যায়, পাকিস্তানি বা সেনালী মুরগি ১টার দামই হয়ে যায় ৩৬০-৩৭০ টাকা৷ আবার আকারেও ১ কেজি হয় না৷ সেই হিসাবে ব্রয়লারে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। সেজন্য বাধ্য হয়েই কিনতে হচ্ছে। কারণ গরু বা খাসির মাংস তো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

বিক্রেতারা বলছেন, দাম কম-বেশির ব্যাপারে পাইকার বা আড়তদাররা বলতে পারবেন৷ এক্ষেত্রে খুচরা দোকানিদের কোনো হাত নেই।

বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের হাতে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে আনতে হচ্ছে। খামারে খাবার ও উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। সেই কারণে খুচরা বাজারে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। বাজারগুলোতে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ১০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ টাকা, ৩০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ২০০ টাকা ও ১৫০ থেকে ২০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকায় ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম না কমায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা৷ তাদের দাবি, সাধারণত এই মৌসুমে বাজারে ইলিশের জোগান বাড়ে এবং দাম কিছুটা কমে আসে। কিন্তু এবার সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। সবচেয়ে ছোট মাছও কেজিপ্রতি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা দাম থাকায় অনেক ক্রেতাই অসহায় বোধ করছেন। তারা বলছেন, ভরা মৌসুমেও যদি ইলিশ নাগালের বাইরে থাকে তবে স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে এ মাছ কেনা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। তবে বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, নদীতে আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়ছে না, সরবরাহ কম থাকায় দামও কমানো যাচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

সবজির দাম বাড়তি, বাজার মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেই

আপডেট সময় : ০৩:০৫:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিগত তিন মাস ধরে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি। বর্তমানে আলু ও কাঁচা পেঁপে ছাড়া বাজারে হাতেগোনা কয়েকটি সবজির দামই ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে। এ অবস্থায় বিক্রেতারা বলছেন, আগের তুলনায় তাদের বিক্রি কমে গেছে। অন্যদিকে, অধিকাংশ ক্রেতাই এখন আধা কেজি করে সবজি কিনছেন।

মাছ-মাংস, সবজি বা নিত্যপণ্য— কোনোটিরই দাম এখন সহনীয় পর্যায়ে নেই। ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম চড়া। পাঙাসও বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। ব্রয়লার ১৬৫ টাকা, লেয়ার, সোনালী এবং দেশি মুরগির দাম আরও বেশি।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বাজারগুলোতে সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। এসব বাজারে বেগুন কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী কেজিতে ১০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে ঝিঙা ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে করলা ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো কেজিতে ৫০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, ইন্ডিয়ান গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি শসা ৮০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে লেবুর হালি ১৫ থেকে ৩০ টাকা, ধনেপাতা ৩৫০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস, কাঁকরোল ১০০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে লাল শাক ১৫ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা ও ডাটা শাক ২ আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা কমে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে দেশি আদা কেজিতে ৬০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা ও ইন্ডিয়ান ১৪০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা ও খেসারির ডাল ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজ দীর্ঘদিন যাবৎ সবজির অতিরিক্ত দাম যাচ্ছে। ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে বলতে গেলে বাজারে কোনো সবজি নেই। আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এত দামে সবজি কেনা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমি নিজেই এক-একটা আইটেমের সবজি আধা কেজি করে কিনলাম। এতদিন ধরে সবজির বাজার বাড়তি যাচ্ছে অথচ বাজার মনিটরিংয়ের কোনো উদ্যোগ বা পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না।

মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা ইদ্রিস আলী বলেন, সবজির দাম বাড়তি থাকায় আমাদেরও ব্যবসা কমে গেছে। যে ক্রেতা আগে এক কেজি করে সবজি কিনতেন, তিনি এখন আধা কেজি করে সবজি কিনছেন। বলতে গেলে আধা কেজি করে সবজি কেনা ক্রেতার সংখ্যায় এখন বেশি। আগে যেখানে সারা দিনে এক আইটেম সবজি ২০ কেজি বিক্রি করতাম, এখন সেই সবজি সারাদিনে বিক্রি হয় ৫ কেজি। ফলে আমাদের ব্যবসাও আগের চেয়ে কমে গেছে।

মগবাজারের সবজি বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, আর কিছুদিন সবজির দাম বাড়তি থাকবে। কারণ, এখন বেশিরভাগ সবজির মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে সবজি বাজারে ওঠার আগ পর্যন্ত সবজির দাম এমন বাড়তি থাকবে। কারণ, চাহিদার তুলনায় এখন বাজারে সবজির সরবরাহ অনেকটাই কম।

বাজারগুলোতে মিনিকেট চাল প্রকারভেদে ৮৫ থেকে ৯২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ৯০ টাকা, স্বর্ণা ৫৫ টাকা ও ২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।

এসব বাজারে সোনালি কক মুরগি কেজিতে ৩২০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫৯০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা, হাঁসের ডিম ২১০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১১০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও খাসির মাংস কেজি প্রতি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, ব্রয়লার মুরগি ছাড়া অন্য কিছু কেনার সুযোগ কমে যাচ্ছে। তাও আবার ব্রয়লারের দামও বাড়তি।

নুরুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রয়লার মুরগি তো আগে আরেকটু কম টাকায় পাওয়া যেত, এখন ১৬৫ টাকা কেজি। প্রতিদিনের বাজার খরচ সামলানোই কষ্টকর হয়ে গেছে। দাম কমবে বলে আসি, কিন্তু কোনো পরিবর্তন দেখি না।

ফেনীর দাগনভূঞাঁয় নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-স্কুল-জমি

হাবিবুল বাশার নামের আরেক ক্রেতা বলেন, সবকিছুর দামি বাড়তি, সেখানে মুরগির দাম কম থাকবে সেটা আশা করি না৷ ব্রয়লার ছাড়া অন্য মুরগি কেনা কষ্টকর হয়ে যায়। দেখা যায়, পাকিস্তানি বা সেনালী মুরগি ১টার দামই হয়ে যায় ৩৬০-৩৭০ টাকা৷ আবার আকারেও ১ কেজি হয় না৷ সেই হিসাবে ব্রয়লারে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। সেজন্য বাধ্য হয়েই কিনতে হচ্ছে। কারণ গরু বা খাসির মাংস তো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

বিক্রেতারা বলছেন, দাম কম-বেশির ব্যাপারে পাইকার বা আড়তদাররা বলতে পারবেন৷ এক্ষেত্রে খুচরা দোকানিদের কোনো হাত নেই।

বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, আমাদের হাতে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে আনতে হচ্ছে। খামারে খাবার ও উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। সেই কারণে খুচরা বাজারে দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। বাজারগুলোতে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৩০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ১০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ টাকা, ৩০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ২০০ টাকা ও ১৫০ থেকে ২০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি শিং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকায় ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম না কমায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা৷ তাদের দাবি, সাধারণত এই মৌসুমে বাজারে ইলিশের জোগান বাড়ে এবং দাম কিছুটা কমে আসে। কিন্তু এবার সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। সবচেয়ে ছোট মাছও কেজিপ্রতি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা দাম থাকায় অনেক ক্রেতাই অসহায় বোধ করছেন। তারা বলছেন, ভরা মৌসুমেও যদি ইলিশ নাগালের বাইরে থাকে তবে স্বল্প আয়ের মানুষের পক্ষে এ মাছ কেনা কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। তবে বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, নদীতে আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়ছে না, সরবরাহ কম থাকায় দামও কমানো যাচ্ছে না।