ঢাকা ০৭:২০ পূর্বাহ্ন, রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ বিক্ষোভকারী নিহত

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 36

সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে নেপালিরা। আজ সোমবার কাঠমান্ডুতে এই বিক্ষোভ রুখতে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাতে এরই মধ্যে ২০ জন নিহত, ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে হাসপাতালের বরাতে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালায়ান পোস্ট।

কাঠমান্ডু উপত্যকা পুলিশের কর্মকর্তা শেখর খানাল ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে শতাধিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেককে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নেপালের জাতীয় দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্টকে সঞ্জীব কুমার যাদব বলেছেন, “কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতে শত শত আহত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হাজার হাজার ব্যাগ রক্ত। আমরা এখন রক্ত সংগ্রহের কাজে খুবই ব্যস্ত আছি।”

রক্তের জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে বিরতিহীনভাবে তাদের দপ্তরে ফোন আসছে— উল্লেখ করে সঞ্জীব বলেন, “সোমবার সকাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা ১ হাজার ২০০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেছি এবং সেগুলোর মধ্যে ২০০টিরও বেশি ব্যাগ সন্ধ্যার আগেই ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টার ও বীর হাসপতাাল পাঠানো হয়েছে। বাকি হাসপাতালগুলোতেও শিগগিরই রক্ত পাঠানোর চেষ্টা চলছে।”

কাঠমান্ডুর জেলা কার্যালয়ের মুখপাত্র মুক্তিরাম রিজাল রয়টার্সকে বলেন, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে জল কামান, লাঠিচার্জ এবং রাবার বুলেট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংসদ ভবন এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সহিংসতার ঘটনায় সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিংহদরবার এলাকাতেও কারফিউ জারি করা হয়েছে। ওই এলাকায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা রয়েছে।

সন্ধ্যার পর সহিংসতা কমলেও বিক্ষোভকারীরা দেশটির সংসদ ভবনের বাইরের এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। পুলিশ বলেছে, ক্ষিণ সমভূমির বিরাটনগর ও ভরতপুর এবং পশ্চিম নেপালের পোখরাতেও একই ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নেপালের ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসক ডা. দীপেন্দ্র পাণ্ডে বলেছেন, হাসপাতালটিতে সাতজন বিক্ষোভকারীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালে আসা আরও ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের প্রত্যেকের মাথা ও বুকে গুলির আঘাত রয়েছে। সেখানে আরও ২০ জনেরও বেশি চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়া বানেশ্বরের এভারেস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত তিনজন মারা গেছেন বলে সেখানকার কর্মকর্তা অনিল অধিকারী নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী আহত অবস্থায় এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।

এ ছাড়া শত শত বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট বলছে, বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিচ্ছেন নেপালের তারকারা। এদের মধ্যে রয়েছেন তারকা অভিনেতা মদন কৃষ্ণা ও হরি বানশা আচার্য।

ফেসবুক, ইউটিউবসহ নেপালে নিষিদ্ধ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া

প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন ঘোষিত হলেও বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল পার্লামেন্টের প্রাঙ্গণে হামলা চালালে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে পরিস্থিতি সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষ টিয়ার গ্যাস, জলকামান, রাবার বুলেট এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।

নেপালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৮ বিক্ষোভকারী নিহত

সংঘর্ষের পর কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন অফিস বানেস্বর, সিংহাসন, নারায়ণহিতি এবং আশপাশের স্পর্শকাতর সরকারি এলাকায় কারফিউ জারি করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে এসব মাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে নেপালের সরকার। দেশটির সরকার বলছে, এসব আইডি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি হিংসাত্মক মন্তব্য প্রচার করা হয়। এতে বেড়ে যাচ্ছে অপরাধ। এ কারণে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এরপর বিক্ষোভে রাস্তায় নেমে পড়ে জনতা। তারা সবাই পার্লামেন্টের আশপাশে জড়ো হতে থাকে। তারা যাতে পার্লামেন্টের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সেখানে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। সেই ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে তরুণ বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু তাদের পার্লামেন্টে ঢুকতে বাধা দেয় পুলিশ। এরপর সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

কাঠমান্ডু ডিস্ট্রিক্ট অফিসের মুখপাত্র মুক্তিরাম রিজাল রয়টার্সকে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা কারফিউ জারি করেছি। আজ রাত ১০টা পর্যন্ত এই কারফিউ জারি থাকবে। বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে যাওয়ার কারণে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি আমরা। ওয়াটার ক্যানন, ব্যাটন ও রাবার বুলেট ব্যবহার করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে আজ সোমবার সকালে হাজারো জনতা রাস্তায় নেমে পড়ে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ, কারও গায়ে তখনো ছিল স্কুল কিংবা কলেজের ইউনিফর্ম। আর হাতে ছিল নেপালের জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন প্রতিবাদমূলক প্ল্যাকার্ড। এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘দুর্নীতি বন্ধ করো, সোশ্যাল মিডিয়া নয়’ ও ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণেরা’।

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ২০ বিক্ষোভকারী নিহত

আপডেট সময় : ০৪:২৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে নেপালিরা। আজ সোমবার কাঠমান্ডুতে এই বিক্ষোভ রুখতে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাতে এরই মধ্যে ২০ জন নিহত, ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে হাসপাতালের বরাতে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালায়ান পোস্ট।

কাঠমান্ডু উপত্যকা পুলিশের কর্মকর্তা শেখর খানাল ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে শতাধিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেককে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

নেপালের জাতীয় দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্টকে সঞ্জীব কুমার যাদব বলেছেন, “কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতে শত শত আহত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন হাজার হাজার ব্যাগ রক্ত। আমরা এখন রক্ত সংগ্রহের কাজে খুবই ব্যস্ত আছি।”

রক্তের জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে বিরতিহীনভাবে তাদের দপ্তরে ফোন আসছে— উল্লেখ করে সঞ্জীব বলেন, “সোমবার সকাল থেকে এ পর্যন্ত আমরা ১ হাজার ২০০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেছি এবং সেগুলোর মধ্যে ২০০টিরও বেশি ব্যাগ সন্ধ্যার আগেই ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টার ও বীর হাসপতাাল পাঠানো হয়েছে। বাকি হাসপাতালগুলোতেও শিগগিরই রক্ত পাঠানোর চেষ্টা চলছে।”

কাঠমান্ডুর জেলা কার্যালয়ের মুখপাত্র মুক্তিরাম রিজাল রয়টার্সকে বলেন, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে জল কামান, লাঠিচার্জ এবং রাবার বুলেট ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংসদ ভবন এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সহিংসতার ঘটনায় সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিংহদরবার এলাকাতেও কারফিউ জারি করা হয়েছে। ওই এলাকায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা রয়েছে।

সন্ধ্যার পর সহিংসতা কমলেও বিক্ষোভকারীরা দেশটির সংসদ ভবনের বাইরের এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। পুলিশ বলেছে, ক্ষিণ সমভূমির বিরাটনগর ও ভরতপুর এবং পশ্চিম নেপালের পোখরাতেও একই ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নেপালের ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারের চিকিৎসক ডা. দীপেন্দ্র পাণ্ডে বলেছেন, হাসপাতালটিতে সাতজন বিক্ষোভকারীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালে আসা আরও ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের প্রত্যেকের মাথা ও বুকে গুলির আঘাত রয়েছে। সেখানে আরও ২০ জনেরও বেশি চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এছাড়া বানেশ্বরের এভারেস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত তিনজন মারা গেছেন বলে সেখানকার কর্মকর্তা অনিল অধিকারী নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী আহত অবস্থায় এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।

এ ছাড়া শত শত বিক্ষোভকারী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এদিকে সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট বলছে, বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিচ্ছেন নেপালের তারকারা। এদের মধ্যে রয়েছেন তারকা অভিনেতা মদন কৃষ্ণা ও হরি বানশা আচার্য।

ফেসবুক, ইউটিউবসহ নেপালে নিষিদ্ধ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া

প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন ঘোষিত হলেও বিক্ষোভকারীরা ফেডারেল পার্লামেন্টের প্রাঙ্গণে হামলা চালালে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে পরিস্থিতি সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষ টিয়ার গ্যাস, জলকামান, রাবার বুলেট এবং ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।

নেপালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৮ বিক্ষোভকারী নিহত

সংঘর্ষের পর কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন অফিস বানেস্বর, সিংহাসন, নারায়ণহিতি এবং আশপাশের স্পর্শকাতর সরকারি এলাকায় কারফিউ জারি করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে দাবি করে এসব মাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে নেপালের সরকার। দেশটির সরকার বলছে, এসব আইডি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি হিংসাত্মক মন্তব্য প্রচার করা হয়। এতে বেড়ে যাচ্ছে অপরাধ। এ কারণে ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এরপর বিক্ষোভে রাস্তায় নেমে পড়ে জনতা। তারা সবাই পার্লামেন্টের আশপাশে জড়ো হতে থাকে। তারা যাতে পার্লামেন্টের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সেখানে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। সেই ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে তরুণ বিক্ষোভকারীরা। কিন্তু তাদের পার্লামেন্টে ঢুকতে বাধা দেয় পুলিশ। এরপর সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

কাঠমান্ডু ডিস্ট্রিক্ট অফিসের মুখপাত্র মুক্তিরাম রিজাল রয়টার্সকে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা কারফিউ জারি করেছি। আজ রাত ১০টা পর্যন্ত এই কারফিউ জারি থাকবে। বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে যাওয়ার কারণে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছি আমরা। ওয়াটার ক্যানন, ব্যাটন ও রাবার বুলেট ব্যবহার করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে আজ সোমবার সকালে হাজারো জনতা রাস্তায় নেমে পড়ে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ, কারও গায়ে তখনো ছিল স্কুল কিংবা কলেজের ইউনিফর্ম। আর হাতে ছিল নেপালের জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন প্রতিবাদমূলক প্ল্যাকার্ড। এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘দুর্নীতি বন্ধ করো, সোশ্যাল মিডিয়া নয়’ ও ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণেরা’।