ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:১৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 337
207

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। টানা দুইদিনের বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে গেলেন তিনি। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

দেশজুড়ে জেন-জিদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভে ১৯ জন নিহতের পর এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। এরই মধ্যে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পুডেল ও প্রধানমন্ত্রী ওলির বাড়িতে ঢুকে পড়েছেন। সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন বলে তার সচিবালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পর কেপি শর্মাকে ক্ষমতা ছাড়তে বলেন সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা সেনাপ্রধানকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে সেনাপ্রধান জানান, শুধুমাত্র তিনি পদত্যাগ করলেই তিনি দায়িত্ব নেবেন।

এরপর তিনি দেশ থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ার জন্য সহায়তা পান। নেপালি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, চিকিৎসার কথা বলে কেপি শর্মা দুবাইয়ে চলে যেতে পারেন। তার জন্য হিমালয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমান প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

Nepal prime minister resigns after deadly protests

কেপি শর্মা ওলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চলমান সংকটের সংবিধানসম্মত সমাধানের পথ সুগম করার জন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে, তীব্র বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নেপালের রাজধানী ও আশপাশে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে বাসভবন থেকে মন্ত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সংসদ ভবনেও মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সারা দেশে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় ভৈসেপাটি এলাকায় মন্ত্রীদের নিজ নিজ বাসভবন থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অভূতপূর্ব ও গুরুতর পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ কারণে যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা দুবাই যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন

মূলত স্থানীয় সময় দুপুরের পর থেকে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ফ্লাইটের উড্ডয়ন বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

ত্রিভুবন বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক হংসরাজ পাণ্ডে জানান, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে কোঠেশ্বর এলাকায় ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়নি, আমরা সেটি করবও না।”

গত সপ্তাহে বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয় নেপাল সরকার। কারণ হিসেবে জানানো হয়, দেশের নতুন নিয়ম অনুযায়ী এই প্ল্যাটফর্মগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা ভুয়া আইডি তৈরি করে বিদ্বেষ ছড়ানো, মিথ্যা খবর প্রচার, প্রতারণা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

এর ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করে নেপাল সরকার। এসব প্ল্যাটফর্মকে যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছিল। গত ২৮ আগস্ট থেকে এক সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়া হলেও মেটা (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ), অ্যালফাবেট (ইউটিউব), এক্স (সাবেক টুইটার), রেডিট এবং লিংকডইন ওই সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেয়নি।

টিকটক, ভাইবার, উইটক, নিমবাজ, এবং পোপো লাইভ নেপাল সরকারের কাছে নিবন্ধিত থাকায় ব্যবহার করা যাচ্ছিল। টেলিগ্রাম এবং গ্লোবাল ডায়েরি থেকে আসা আবেদনগুলোর যাচাই প্রক্রিয়া চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:১৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
207

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। টানা দুইদিনের বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে গেলেন তিনি। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

দেশজুড়ে জেন-জিদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভে ১৯ জন নিহতের পর এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। এরই মধ্যে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পুডেল ও প্রধানমন্ত্রী ওলির বাড়িতে ঢুকে পড়েছেন। সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন বলে তার সচিবালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পর কেপি শর্মাকে ক্ষমতা ছাড়তে বলেন সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা সেনাপ্রধানকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে সেনাপ্রধান জানান, শুধুমাত্র তিনি পদত্যাগ করলেই তিনি দায়িত্ব নেবেন।

এরপর তিনি দেশ থেকে নিরাপদে চলে যাওয়ার জন্য সহায়তা পান। নেপালি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, চিকিৎসার কথা বলে কেপি শর্মা দুবাইয়ে চলে যেতে পারেন। তার জন্য হিমালয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমান প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

Nepal prime minister resigns after deadly protests

কেপি শর্মা ওলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চলমান সংকটের সংবিধানসম্মত সমাধানের পথ সুগম করার জন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে, তীব্র বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নেপালের রাজধানী ও আশপাশে অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে বাসভবন থেকে মন্ত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সংসদ ভবনেও মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সারা দেশে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় ভৈসেপাটি এলাকায় মন্ত্রীদের নিজ নিজ বাসভবন থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, অভূতপূর্ব ও গুরুতর পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তাজনিত শঙ্কার কারণে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ কারণে যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা দুবাই যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন

মূলত স্থানীয় সময় দুপুরের পর থেকে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ফ্লাইটের উড্ডয়ন বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

ত্রিভুবন বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক হংসরাজ পাণ্ডে জানান, দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে কোঠেশ্বর এলাকায় ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়নি, আমরা সেটি করবও না।”

গত সপ্তাহে বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেয় নেপাল সরকার। কারণ হিসেবে জানানো হয়, দেশের নতুন নিয়ম অনুযায়ী এই প্ল্যাটফর্মগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা ভুয়া আইডি তৈরি করে বিদ্বেষ ছড়ানো, মিথ্যা খবর প্রচার, প্রতারণা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

এর ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করে নেপাল সরকার। এসব প্ল্যাটফর্মকে যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিবন্ধন করতে বলা হয়েছিল। গত ২৮ আগস্ট থেকে এক সপ্তাহের সময়সীমা দেওয়া হলেও মেটা (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ), অ্যালফাবেট (ইউটিউব), এক্স (সাবেক টুইটার), রেডিট এবং লিংকডইন ওই সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেয়নি।

টিকটক, ভাইবার, উইটক, নিমবাজ, এবং পোপো লাইভ নেপাল সরকারের কাছে নিবন্ধিত থাকায় ব্যবহার করা যাচ্ছিল। টেলিগ্রাম এবং গ্লোবাল ডায়েরি থেকে আসা আবেদনগুলোর যাচাই প্রক্রিয়া চলছে।