৫ মার্চ সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রীর

- আপডেট সময় : ১১:০৪:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 234
অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নেপালের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে শপথ নিলেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। গতকাল (শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর) রাতে কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রপতি ভবনে দেশটির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ৭৩ বছর বয়সী কার্কি। দায়িত্ব নিয়েই আগামী ৫ মার্চ সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নিলেন সুশীলা কার্কি। দিনভর নানা জল্পনা-কল্পনার পর শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে নয়টার দিকে রাষ্ট্রপতি ভবনে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তাকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল।
প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে জারি করা এক নোটিশ অনুসারে গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা থেকে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী বছরের মার্চে নতুন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি পরিষদ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নতুন সংসদ নির্বাচনের আগামী বছরের মার্চে নির্ধারণ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশব্যাপী আন্দোলনের মুখে কে পি শর্মা ওলি সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ার পর শুক্রবার রাতে নেপালের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেন সাবেক প্রধান বিচারপতি কার্কি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার দিনগুলির অবসান ঘটিয়ে, সাবেক প্রধান বিচারপতি কার্কি অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেন।
গতকাল রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। তাঁর নেতৃত্বে ছোট মন্ত্রিসভার একটি সরকার গঠিত হয়েছে। এটির মেয়াদ থাকবে ৬ মাস। এই সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন নির্বাচন আয়োজনের ম্যান্ডেট দেওয়া হয়।
বিচার বিভাগ থেকে অবসর নেয়ার প্রায় আট বছর পর দেশের চরম সংকটময় মুহূর্তে নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাস রচনা করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, দায়িত্ব নিয়েই সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ৫ মার্চ সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণাও দিয়েছেন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল সংবিধানের ৬১ অনুচ্ছেদের অধীনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কার্কিকে নিযুক্ত করেন। এসময় জাতীয় ঐক্য রক্ষা এবং সংবিধানের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তার সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন সুশীলা কার্কী
এর আগে, সুশীলা কার্কির পাশাপাশি দেশটির সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখা প্রকৌশলী কুলমান ঘিসিং এবং কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহকেও প্রধানমন্ত্রী করার প্রস্তাব ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত সব পক্ষের সম্মতিতেই সুশীলা কার্কির নাম চূড়ান্ত হয়। রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান ও আন্দোলনকারী নেতাদের ঐকমত্যেই অন্তর্বর্তী সরকার চূড়ান্ত হয়।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছে হিমালয়কন্যা নেপাল। তবে, সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে দেশটির রাজনৈতিক সংকট দূর হয় কিনা সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সুশীলা কার্কি ২০১৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত নেপালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তিনি দেশটির প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হন। বিচারক থাকাকালীন তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এ কারণে জেন-জির কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। তিনি ভারতের বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। একবার ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুশীলা বলেছিলেন, ভারত নেপালকে অনেক সহায়তা করেছে।























