ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
ওয়েব সাইড আপগ্রেট করার কারণে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সংবাদ সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। এ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

গ্রেটা থুনবার্গসহ আটক দুই শতাধিক; বিশ্বজুড়ে নিন্দা-বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • / 56

ভূমধ্যসাগরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ অন্তত ১৩টি নৌযান আটক করেছে ইসরাইল। এসব নৌযানে থাকা সুইডিশ জলবায়ু অ্যাকটিভিস্ট গ্রেটা থুনবার্গসহ ৩৭টি দেশের দুই শতাধিক অভিযাত্রীকে আটক করে নিজেদের বন্দরে নিয়ে যাচ্ছে দখলদার বাহিনীটি।

ইসরাইলি হামলা ও আটকের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তুরস্ক। একইসঙ্গে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আটকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে আঙ্কারা।

তুরস্ক
গাজা অভিমুখী নৌবহরে ইসরাইলি বাহিনীর বাধা দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে এ আক্রমণ প্রমাণ করে, গণহত্যাকারী নেতানিয়াহু সরকারের ফ্যাসিবাদী ও সামরিক নীতি, যারা গাজাকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এখন আর কেবল ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

ফ্লোটিলায় ইসরাইলি হামলার পর ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ

গাজামুখী ত্রাণ বহর আটকে দেয়ায় স্পেন, ইতালি, জার্মানি, তুরস্ক, গ্রিসসহ বহু দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এছাড়া আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও কলম্বিয়ায় রাস্তায় নেমেছে মানুষ।

আয়ারল্যান্ড
আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে লেখেন, আজ রাতের প্রতিবেদনগুলো খুব উদ্বেগজনক। এটি একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ওপর আলোকপাত করার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ অভিযান।

কলম্বিয়া
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌবহরে থাকা দুজন কলম্বিয়ার নাগরিকসহ মানবাধিকার কর্মীদের আটক করার ঘটনায় নিজ দেশ থেকে ইসরাইলি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলকে বহিষ্কার করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো।

এক্সে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট লেখেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধের’ প্রতিক্রিয়ায় কলম্বিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ‘অবিলম্বে বাতিল’ করা হবে।

ভেনিজুয়েলা
টেলিগ্রাম অ্যাপে পোস্ট করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউভান গিল লেখেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনী একটি বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ অভিযানে আক্রমণ করেছে। অভিযানের একমাত্র উদ্দেশ্য ক্ষুধা আর নির্মূলের শিকার ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে পাঁচ হাজার ৫০০ টন মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নৌকায় করে নৌবহরে ওঠার ঘটনায় ইহুদিবাদী সরকারের অপরাধমূলক স্বভাব আবারও উন্মোচিত করেছে।

আল জাজিরা, রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফ্লোটিলা নৌবহরকে বাধা দেয়া ও বেশ কয়েকজনকে আটকের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ব্রিটিশ লেবার পার্টির সাবেক নেতা এবং বর্তমানে ইয়োর পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন এটিকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা। এ নৌবহরে রয়েছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান। এই বহরে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ প্রায় ৪৪টি দেশের ৫০০ অভিযাত্রীর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আইনজীবী, অধিকার কর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্রেটা থুনবার্গসহ আটক দুই শতাধিক; বিশ্বজুড়ে নিন্দা-বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

ভূমধ্যসাগরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার’ অন্তত ১৩টি নৌযান আটক করেছে ইসরাইল। এসব নৌযানে থাকা সুইডিশ জলবায়ু অ্যাকটিভিস্ট গ্রেটা থুনবার্গসহ ৩৭টি দেশের দুই শতাধিক অভিযাত্রীকে আটক করে নিজেদের বন্দরে নিয়ে যাচ্ছে দখলদার বাহিনীটি।

ইসরাইলি হামলা ও আটকের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তুরস্ক। একইসঙ্গে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে আটকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে আঙ্কারা।

তুরস্ক
গাজা অভিমুখী নৌবহরে ইসরাইলি বাহিনীর বাধা দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে এ আক্রমণ প্রমাণ করে, গণহত্যাকারী নেতানিয়াহু সরকারের ফ্যাসিবাদী ও সামরিক নীতি, যারা গাজাকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এখন আর কেবল ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

ফ্লোটিলায় ইসরাইলি হামলার পর ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভ

গাজামুখী ত্রাণ বহর আটকে দেয়ায় স্পেন, ইতালি, জার্মানি, তুরস্ক, গ্রিসসহ বহু দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এছাড়া আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো ও কলম্বিয়ায় রাস্তায় নেমেছে মানুষ।

আয়ারল্যান্ড
আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে লেখেন, আজ রাতের প্রতিবেদনগুলো খুব উদ্বেগজনক। এটি একটি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ওপর আলোকপাত করার জন্য একটি শান্তিপূর্ণ অভিযান।

কলম্বিয়া
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌবহরে থাকা দুজন কলম্বিয়ার নাগরিকসহ মানবাধিকার কর্মীদের আটক করার ঘটনায় নিজ দেশ থেকে ইসরাইলি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলকে বহিষ্কার করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো।

এক্সে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট লেখেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধের’ প্রতিক্রিয়ায় কলম্বিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ‘অবিলম্বে বাতিল’ করা হবে।

ভেনিজুয়েলা
টেলিগ্রাম অ্যাপে পোস্ট করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউভান গিল লেখেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনী একটি বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ অভিযানে আক্রমণ করেছে। অভিযানের একমাত্র উদ্দেশ্য ক্ষুধা আর নির্মূলের শিকার ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে পাঁচ হাজার ৫০০ টন মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নৌকায় করে নৌবহরে ওঠার ঘটনায় ইহুদিবাদী সরকারের অপরাধমূলক স্বভাব আবারও উন্মোচিত করেছে।

আল জাজিরা, রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফ্লোটিলা নৌবহরকে বাধা দেয়া ও বেশ কয়েকজনকে আটকের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ব্রিটিশ লেবার পার্টির সাবেক নেতা এবং বর্তমানে ইয়োর পার্টির প্রধান জেরেমি করবিন এটিকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছেন।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা। এ নৌবহরে রয়েছে ৪০টির বেশি বেসামরিক নৌযান। এই বহরে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়ামসহ প্রায় ৪৪টি দেশের ৫০০ অভিযাত্রীর মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আইনজীবী, অধিকার কর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক।