ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গার্মেন্টস ও কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 59

রাজধানীর মিরপুরের গার্মেন্টস কারখানা ও কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। দগ্ধ হয়েছেন অন্তত আটজন। তবে এখনও নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট।

আগুনে দগ্ধ তিনজনকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- মো. সুরুজ (৩০) ও মো. মামুন (৩৫)।

এই দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন এখনো নেভেনি। উদ্ধারকৃত সব লাশ পোশাক কারখানার ভবন থেকে পাওয়া গেছে। উদ্ধারের পর লাশগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও গোডাউনের ভেতরে জ্বলছে দাহ্য কেমিক্যাল, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, গার্মেন্টসের ভেতর থেকে ১৬ জনের মরদেহ এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে। পোশাক কারখানার ২য় এবং ৩য় তলা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আরও সময় লাগবে। গোডাউনে ৬-৭ ধরনের কেমিক্যাল ছিল। আগুন ধরার সাথে সাথেই তা দ্রুত ছড়িয়েছে, তাই গার্মেন্টস অংশে থাকা কর্মীরা বাইরে বের হতে পারেনি এবং ছাদেও উঠতে পারেনি। তাই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, রূপনগরের শিয়ালবাড়ি পোশাক কারখানা ও কেমিক্যাল গোডাউনে আগুনে ঘটনায় আমাদের এখানে দুইজন এসেছে। সুরুজের দুই শতাংশ দগ্ধ হয়েছে ও মামুনের ইনহালেশন ইনজুরি রয়েছে তাদের দু’জনকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সূত্রে জানা যায়, ‘দুটো প্রতিষ্ঠানে আগুন লেগেছে। এর মধ্যে একটি তৈরি পোশাক কারখানা, অন্যটি একটি রাসায়নিকের গুদাম। পোশাক কারখানাটি সাততলা। এর চারতলায় আগুন লেগেছে। আমরা পোশাক কারখানার এই আগুন মোটামুটি নিভিয়ে ফেলেছি। তবে রাসায়নিকের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। এটা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।’ রাসায়নিক কারখানায় ব্লিচিং পাউডার, প্লাস্টিক, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

জামিনের কাগজ এক ক্লিকেই যাবে কারাগারে: আইন উপদেষ্টা

এর আগে আজ (মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে মিরপুরে রূপনগর শিয়ালবাড়ি কসমিক ফার্মা কেমিক্যাল গোডাউন ও সর্দার গার্মেন্টস নামে দুটি প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগে। সংবাদ পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ১১টা ৫৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সংবাদ পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আরও তিনটি ইউনিট যোগ দেয় আগুন নেভানোর কাজে। পরে আরও চারটি ইউনিট আগুন নেভাতে যোগ দেয়। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রোজিনা খানম বলেন, ‘এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সম্পর্কে জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ করছেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

গার্মেন্টস ও কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর মিরপুরের গার্মেন্টস কারখানা ও কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। দগ্ধ হয়েছেন অন্তত আটজন। তবে এখনও নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট।

আগুনে দগ্ধ তিনজনকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- মো. সুরুজ (৩০) ও মো. মামুন (৩৫)।

এই দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন এখনো নেভেনি। উদ্ধারকৃত সব লাশ পোশাক কারখানার ভবন থেকে পাওয়া গেছে। উদ্ধারের পর লাশগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পোশাক কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও গোডাউনের ভেতরে জ্বলছে দাহ্য কেমিক্যাল, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, গার্মেন্টসের ভেতর থেকে ১৬ জনের মরদেহ এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে। পোশাক কারখানার ২য় এবং ৩য় তলা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। কেমিক্যাল গোডাউনের আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আরও সময় লাগবে। গোডাউনে ৬-৭ ধরনের কেমিক্যাল ছিল। আগুন ধরার সাথে সাথেই তা দ্রুত ছড়িয়েছে, তাই গার্মেন্টস অংশে থাকা কর্মীরা বাইরে বের হতে পারেনি এবং ছাদেও উঠতে পারেনি। তাই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, রূপনগরের শিয়ালবাড়ি পোশাক কারখানা ও কেমিক্যাল গোডাউনে আগুনে ঘটনায় আমাদের এখানে দুইজন এসেছে। সুরুজের দুই শতাংশ দগ্ধ হয়েছে ও মামুনের ইনহালেশন ইনজুরি রয়েছে তাদের দু’জনকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সূত্রে জানা যায়, ‘দুটো প্রতিষ্ঠানে আগুন লেগেছে। এর মধ্যে একটি তৈরি পোশাক কারখানা, অন্যটি একটি রাসায়নিকের গুদাম। পোশাক কারখানাটি সাততলা। এর চারতলায় আগুন লেগেছে। আমরা পোশাক কারখানার এই আগুন মোটামুটি নিভিয়ে ফেলেছি। তবে রাসায়নিকের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। এটা এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি।’ রাসায়নিক কারখানায় ব্লিচিং পাউডার, প্লাস্টিক, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

জামিনের কাগজ এক ক্লিকেই যাবে কারাগারে: আইন উপদেষ্টা

এর আগে আজ (মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে মিরপুরে রূপনগর শিয়ালবাড়ি কসমিক ফার্মা কেমিক্যাল গোডাউন ও সর্দার গার্মেন্টস নামে দুটি প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগে। সংবাদ পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ১১টা ৫৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সংবাদ পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আরও তিনটি ইউনিট যোগ দেয় আগুন নেভানোর কাজে। পরে আরও চারটি ইউনিট আগুন নেভাতে যোগ দেয়। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিস সদরদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রোজিনা খানম বলেন, ‘এখনও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সম্পর্কে জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ করছেন।’