ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিএসজির কাছে ৩৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাইল এমবাপে

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 44

পিএসজি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর প্রাক্তন ক্লাবের সঙ্গে একরকম যুদ্ধেই যেন জড়িয়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপে। রিয়ালের ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ড পিএসজির কাছে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ইউরো বকেয়া বেতন পাওয়ার দাবিতে ফ্রান্সের শ্রম আদালতে আইনি লড়াই যাচ্ছিলেন এতদিন। এবার দু পক্ষের আইনী লড়াই আরো তীব্র হলো। এবার পিএসজির কাছ থেকে প্রায় ৩৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবী করলেন এমবাপে।

এমবাপের সঙ্গে পিএসজির বকেয়া বেতনের বিষয় নিয়ে বিবাদ চলছে অনেক দিন ধরেই। সবশেষ আদালতের শুনানিতে উপস্থিত হননি রিয়াল ফরোয়ার্ড। এমবাপ এর আগে প্রায় ৭৭০ কোটি টাকা দাবি করলেও এবার বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাইলেন পিএসজির কাছ থেকে। অবৈধ বরখাস্ত, বকেয়া বেতন, বোনাস এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ মিলিয়ে এই অঙ্ক দাবী করেছেন তিনি। এছাড়া নৈতিক হয়রানি, অঘোষিত কাজ এবং পিএসজির উপর সদিচ্ছা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব ভঙ্গের জন্যও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

স্লোভেকিয়ার জালে গোল উৎসব করে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করল জার্মানি

এমবাপের আইনী পরামর্শকরা বলছেন, ‘কিলিয়ান এমবাপে এমন কিছু চাচ্ছেন না যা আইন অনুমোদন করে না। তিনি কেবল তার আইনি অধিকারের বাস্তবায়ন চাইছেন, যেভাবে যে কোনো কর্মী চাইবে।’

অন্যদিকে এমবাপের কাছ থেকে মোট ৬০ কোটি ডলার বা ৭ হাজার ৩২০ কোটি টাকা চাইছে পিএসজি। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ‘সম্ভাব্য ট্রান্সফার সুযোগ হারানোর’ ক্ষতিপূরণ। কারণ, এমবাপ্পে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে চলে যাওয়ায় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সৌদি ক্লাব আল হিলালের ৩০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব হারায় পিএসজি।

পিএসজি আরও বলেছে যে তারা চুক্তি আলোচনায় এবং চুক্তি কার্যকরকরণে সদিচ্ছা ভঙ্গ, খ্যাতি ও চিত্র ক্ষতির জন্যও ক্ষতিপূরণ চায়। আদালতের সামনে, ক্লাব প্রমাণ দেখিয়েছে যে এমবাপে প্রায় ১১ মাস ধরে তার চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত গোপন করেছিলেন, যা ক্লাবকে কোনো ট্রান্সফার ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়নি। আদালত থেকে সিদ্ধান্ত আসার কথা আগামী মাসে।

২০২৪-২৫ মৌসুমে পিএসজি ছাড়েন এমবাপে। সে সময় চুক্তি বাড়াতে অনীহা জানানোর পর এমবাপ্পেকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক-মৌসুম সফর থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং তাকে রিজার্ভ খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলন করতে বাধ্য করা হয়। মৌসুমের প্রথম লিগ ম্যাচেও তাকে বাইরে রাখা হয়েছিল, তবে আলোচনার পর তিনি দ্রুতই দলে ফিরে আসেন।

পিএসজি হয়রানি বা চাপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে যে এমবাপে ২০২৩-২৪ মৌসুমের ৯৪ শতাংশের বেশি সরকারি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রাক্তন ক্লাবের সঙ্গে অঘোষিত যুদ্ধেই জড়িয়ে গেলেন এমবাপে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পিএসজির কাছে ৩৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাইল এমবাপে

আপডেট সময় : ০৪:১২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

পিএসজি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর প্রাক্তন ক্লাবের সঙ্গে একরকম যুদ্ধেই যেন জড়িয়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপে। রিয়ালের ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ড পিএসজির কাছে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ইউরো বকেয়া বেতন পাওয়ার দাবিতে ফ্রান্সের শ্রম আদালতে আইনি লড়াই যাচ্ছিলেন এতদিন। এবার দু পক্ষের আইনী লড়াই আরো তীব্র হলো। এবার পিএসজির কাছ থেকে প্রায় ৩৬০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবী করলেন এমবাপে।

এমবাপের সঙ্গে পিএসজির বকেয়া বেতনের বিষয় নিয়ে বিবাদ চলছে অনেক দিন ধরেই। সবশেষ আদালতের শুনানিতে উপস্থিত হননি রিয়াল ফরোয়ার্ড। এমবাপ এর আগে প্রায় ৭৭০ কোটি টাকা দাবি করলেও এবার বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চাইলেন পিএসজির কাছ থেকে। অবৈধ বরখাস্ত, বকেয়া বেতন, বোনাস এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ মিলিয়ে এই অঙ্ক দাবী করেছেন তিনি। এছাড়া নৈতিক হয়রানি, অঘোষিত কাজ এবং পিএসজির উপর সদিচ্ছা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব ভঙ্গের জন্যও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

স্লোভেকিয়ার জালে গোল উৎসব করে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করল জার্মানি

এমবাপের আইনী পরামর্শকরা বলছেন, ‘কিলিয়ান এমবাপে এমন কিছু চাচ্ছেন না যা আইন অনুমোদন করে না। তিনি কেবল তার আইনি অধিকারের বাস্তবায়ন চাইছেন, যেভাবে যে কোনো কর্মী চাইবে।’

অন্যদিকে এমবাপের কাছ থেকে মোট ৬০ কোটি ডলার বা ৭ হাজার ৩২০ কোটি টাকা চাইছে পিএসজি। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ‘সম্ভাব্য ট্রান্সফার সুযোগ হারানোর’ ক্ষতিপূরণ। কারণ, এমবাপ্পে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে চলে যাওয়ায় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে সৌদি ক্লাব আল হিলালের ৩০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব হারায় পিএসজি।

পিএসজি আরও বলেছে যে তারা চুক্তি আলোচনায় এবং চুক্তি কার্যকরকরণে সদিচ্ছা ভঙ্গ, খ্যাতি ও চিত্র ক্ষতির জন্যও ক্ষতিপূরণ চায়। আদালতের সামনে, ক্লাব প্রমাণ দেখিয়েছে যে এমবাপে প্রায় ১১ মাস ধরে তার চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত গোপন করেছিলেন, যা ক্লাবকে কোনো ট্রান্সফার ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়নি। আদালত থেকে সিদ্ধান্ত আসার কথা আগামী মাসে।

২০২৪-২৫ মৌসুমে পিএসজি ছাড়েন এমবাপে। সে সময় চুক্তি বাড়াতে অনীহা জানানোর পর এমবাপ্পেকে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক-মৌসুম সফর থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং তাকে রিজার্ভ খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলন করতে বাধ্য করা হয়। মৌসুমের প্রথম লিগ ম্যাচেও তাকে বাইরে রাখা হয়েছিল, তবে আলোচনার পর তিনি দ্রুতই দলে ফিরে আসেন।

পিএসজি হয়রানি বা চাপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে যে এমবাপে ২০২৩-২৪ মৌসুমের ৯৪ শতাংশের বেশি সরকারি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রাক্তন ক্লাবের সঙ্গে অঘোষিত যুদ্ধেই জড়িয়ে গেলেন এমবাপে।