ঢাকা ১২:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গত ১০ বছর ফ্যাসিবাদ বিরোধী দৃশ্যমান কিছু করেনি জামায়াত: ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • / 60

গত ১০ বছর ফ্যাসিবাদ বিরোধী দৃশ্যমান কিছু করেনি জামায়াত, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে আইডিইবির মাল্টিপারপাস হলে মউশিক কেয়ারটেকার কল্যাণ পরিষদের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে গণতন্ত্র থাকলে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ছাত্র-জনতা যে পরিবর্তন এনে দিয়েছে এ সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।

জুলাই সনদে অনেক কিছু এসেছে যেটাতে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার কথা ইসলাম সমর্থন করে না বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ১৫/১৬ বছর ধরে দেখেছি, ফ্যাসিস্ট হাসিনা কী করে প্রতিটি মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমার ধর্ম পালনের অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে। তারপর আবার দাবি করে যে তারা ইসলামের পক্ষে কাজ করেছে। আরও দুঃখ হয় তখন, যখন দেখি আমাদের দেশেরই কিছু আলেম ওলামারা তার সঙ্গে মিটিং করে তাকে কওমি জননী উপাধি দিচ্ছি।

রাষ্ট্রীয়ভাবে গুম-খুন না থাকলেও দেশে এখনও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে : রিজভী

তিনি আরও বলেন, ১৫/১৬ বছর দেখেছেন, কিভাবে একটা ফ্যাসিস্ট শক্তি বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নষ্ট করে দিয়েছে। সব জায়গায় সে তার নিজের লোক, তার দলের লোক, তার নিজের লোককে বসানোর চেষ্টা করেছে। এ বসানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন তো সবচেয়ে মর্যাদাশীল ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে যদি আপনার দলীয় লোককে বসানো হয়, পার্টির লোককে বসানো হয়, যারা বাইরে ইসলামের কথা বলবে কিন্তু মুখে ইসলাম বিশ্বাসই করে না। তাহলে তো সেটা সঠিকভাবে চলবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৫/১৬ বছরের দানবীয় একটা শাসন, সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি। আপনাদের আলেম ওলেমা অনেকে মারা গেছেন, জেল খেটেছেন, ফাঁসি হয়েছে, জঙ্গি চিহ্নিত করে বছরের পর বছর জেলে থাকতে হয়েছে, আমরা যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, আমাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। সেই অবস্থায় আমরা সকলে আন্দোলন করে আমাদের ছেলেরা জীবন দিয়ে, প্রাণ দিয়ে, একটা পরিবর্তন নিয়ে আসছেন। এই পরিবর্তনটাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। এই সুযোগটাকে ব্যবহার করে আমরা দেশে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা পার্মানেন্ট করতে চাই।

তিনি বলেন, আপনাদেরকে আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই, এতো মুসলমানের দেশ, এতো মাদ্রাসা, মসজিদ, এতো ইমাম, উলামা, বিদ্বান পণ্ডিতরা থাকা সত্ত্বেও দেশে এতো অন্যায় কেন? এতো পাপ কেন? কেন মানুষ এতো চুরি করে? এতো দুর্নীতি করে? আমার সম্পদ বিদেশে পাচার করে দেই? আমি বুঝতে পারি না। একটি মসজিদ তৈরির ব্যাপারে আমাদের মানুষের যে আগ্রহ- সেই আগ্রহ কোথায় যায় যখন একটি ভালো মানুষ তৈরির কথা আসে?

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটি মহল, তারা কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে দাঁড়াতেই পারছিল না। আমাদের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাদের সুযোগ করে দেন রাজনৈতিক অঙ্গনে আসার। তারা আমাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। আমরাও তাদের নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে গত ১০ বছরে কিন্তু আমরা তাদের এই ফ্যাসিস্টদের পরাজিত করবার জন্য দৃশ্যমান কোনো কাজ দেখিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে শুনতে পাই ছাত্রলীগের মধ্যে তারা ঢুকেছিল। শুনেছি, আমার জানা নেই। আমরা সরাসরি সামনাসামনি লড়াই করেছি। আমাদের ৬০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। আমাদের ২০ হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় ১৭০০ মানুষকে, নেতা, আমাদের এমপিসহ অনেককে গুম করে দেওয়া হয়েছে। আমরা ২০০, ৩০০, ৪০০ মামলা নিয়ে আছি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের খতিব ও ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

গত ১০ বছর ফ্যাসিবাদ বিরোধী দৃশ্যমান কিছু করেনি জামায়াত: ফখরুল

আপডেট সময় : ০২:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

গত ১০ বছর ফ্যাসিবাদ বিরোধী দৃশ্যমান কিছু করেনি জামায়াত, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকালে আইডিইবির মাল্টিপারপাস হলে মউশিক কেয়ারটেকার কল্যাণ পরিষদের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে গণতন্ত্র থাকলে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ছাত্র-জনতা যে পরিবর্তন এনে দিয়েছে এ সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।

জুলাই সনদে অনেক কিছু এসেছে যেটাতে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার কথা ইসলাম সমর্থন করে না বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ১৫/১৬ বছর ধরে দেখেছি, ফ্যাসিস্ট হাসিনা কী করে প্রতিটি মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমার ধর্ম পালনের অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছে। তারপর আবার দাবি করে যে তারা ইসলামের পক্ষে কাজ করেছে। আরও দুঃখ হয় তখন, যখন দেখি আমাদের দেশেরই কিছু আলেম ওলামারা তার সঙ্গে মিটিং করে তাকে কওমি জননী উপাধি দিচ্ছি।

রাষ্ট্রীয়ভাবে গুম-খুন না থাকলেও দেশে এখনও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে : রিজভী

তিনি আরও বলেন, ১৫/১৬ বছর দেখেছেন, কিভাবে একটা ফ্যাসিস্ট শক্তি বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নষ্ট করে দিয়েছে। সব জায়গায় সে তার নিজের লোক, তার দলের লোক, তার নিজের লোককে বসানোর চেষ্টা করেছে। এ বসানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন তো সবচেয়ে মর্যাদাশীল ঐতিহ্যবাহী একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে যদি আপনার দলীয় লোককে বসানো হয়, পার্টির লোককে বসানো হয়, যারা বাইরে ইসলামের কথা বলবে কিন্তু মুখে ইসলাম বিশ্বাসই করে না। তাহলে তো সেটা সঠিকভাবে চলবে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৫/১৬ বছরের দানবীয় একটা শাসন, সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি। আপনাদের আলেম ওলেমা অনেকে মারা গেছেন, জেল খেটেছেন, ফাঁসি হয়েছে, জঙ্গি চিহ্নিত করে বছরের পর বছর জেলে থাকতে হয়েছে, আমরা যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, আমাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। সেই অবস্থায় আমরা সকলে আন্দোলন করে আমাদের ছেলেরা জীবন দিয়ে, প্রাণ দিয়ে, একটা পরিবর্তন নিয়ে আসছেন। এই পরিবর্তনটাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। এই সুযোগটাকে ব্যবহার করে আমরা দেশে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা পার্মানেন্ট করতে চাই।

তিনি বলেন, আপনাদেরকে আমি জিজ্ঞাসা করতে চাই, এতো মুসলমানের দেশ, এতো মাদ্রাসা, মসজিদ, এতো ইমাম, উলামা, বিদ্বান পণ্ডিতরা থাকা সত্ত্বেও দেশে এতো অন্যায় কেন? এতো পাপ কেন? কেন মানুষ এতো চুরি করে? এতো দুর্নীতি করে? আমার সম্পদ বিদেশে পাচার করে দেই? আমি বুঝতে পারি না। একটি মসজিদ তৈরির ব্যাপারে আমাদের মানুষের যে আগ্রহ- সেই আগ্রহ কোথায় যায় যখন একটি ভালো মানুষ তৈরির কথা আসে?

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটি মহল, তারা কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গনে দাঁড়াতেই পারছিল না। আমাদের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তাদের সুযোগ করে দেন রাজনৈতিক অঙ্গনে আসার। তারা আমাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। আমরাও তাদের নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে গত ১০ বছরে কিন্তু আমরা তাদের এই ফ্যাসিস্টদের পরাজিত করবার জন্য দৃশ্যমান কোনো কাজ দেখিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনে শুনতে পাই ছাত্রলীগের মধ্যে তারা ঢুকেছিল। শুনেছি, আমার জানা নেই। আমরা সরাসরি সামনাসামনি লড়াই করেছি। আমাদের ৬০ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। আমাদের ২০ হাজার লোককে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় ১৭০০ মানুষকে, নেতা, আমাদের এমপিসহ অনেককে গুম করে দেওয়া হয়েছে। আমরা ২০০, ৩০০, ৪০০ মামলা নিয়ে আছি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর প্রিন্সিপাল মাওলানা শাহ মো. নেসারুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের খতিব ও ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।