ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাইসাইকেল কিক ‘কিং’ মরক্কোর আয়ুব

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 124
144

অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি চোটের কারণে এখনো পুরোপুরি মাঠে নামতে না পারায় আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) ফুটবলে স্বাগতিক মরক্কোর নতুন নায়ক হয়ে উঠেছেন আয়ুব এল কাবি। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে তাঁর নৈপুণ্য ও বিশেষ করে চোখধাঁধানো বাইসাইকেল কিক গোল মরক্কোর সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত করেছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আলো কেড়ে নিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

আফকনের উদ্বোধনী ম্যাচে কোমোরোসের বিপক্ষে মরক্কোর ২-০ গোলের জয়ে বদলি হিসেবে নেমে এল কাবির করা দুর্দান্ত ওভারহেড কিক গোলই বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথ। সেই গোলের সুবাদেই পরের ম্যাচে মালির বিপক্ষে শুরুর একাদশে জায়গা পান তিনি। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলেও এল কাবির পারফরম্যান্সে ভর করে আক্রমণভাগে আত্মবিশ্বাস পায় অ্যাটলাস লায়নসরা।

এরপর জাম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে আবারও বড় ভূমিকা রাখেন এল কাবি। ম্যাচের শুরুতে হেডে গোল করার পর জয় নিশ্চিত করেন আরেকটি বাইসাইকেল কিকের মাধ্যমে। এই জয়ের ফলে ‘এ’ গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে মরক্কো, শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হয় তানজানিয়া।

এই পারফরম্যান্সের পর মরক্কোজুড়ে এল কাবিকে ঘিরে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর বাইসাইকেল কিক অনুকরণ করে ভক্তদের নানা ভিডিও, যেগুলো ইতিমধ্যে কোটি ভিউ পেয়েছে। কাসাব্লাঙ্কার আকাশে ড্রোন শোতেও দেখা গেছে এল কাবির সেই বিখ্যাত গোলের দৃশ্য।

বাজে পারফরম্যান্স, জাতীয় দলকে নিষিদ্ধ করল সরকার

ওভারহেড কিক এল কাবির কাছে নতুন কিছু নয়। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে আগেও এই কৌশলে একাধিক গোল করেছেন তিনি। ২০২০-২১ মৌসুমে মরক্কোর ক্লাব উইদাদ কাসাব্লাঙ্কার হয়ে চারটি বাইসাইকেল কিক গোল করেছিলেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতেও আফকনের আগে বেনিনের বিপক্ষে এমন একটি গোল নজর কেড়েছিল।

মাঠের বাইরে এল কাবির জীবনসংগ্রামও অনেককে অনুপ্রাণিত করছে। কাসাব্লাঙ্কার এক দরিদ্র এলাকায় বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার একসময় জীবিকা নির্বাহের জন্য কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। ২১ বছর বয়সে রেসিং কাসাব্লাঙ্কার হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক তাঁর।

তারপর রেনেসাঁস বারকেন, চীন ও তুরস্কে খেলে শেষ পর্যন্ত গ্রিসের ক্লাব অলিম্পিয়াকোসে যোগ দিয়ে নিজের ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেন। সেখানে দুই মৌসুমে ৭৫টির বেশি গোল করেছেন তিনি, যার মধ্যে ২০২৪ সালে উয়েফা কনফারেন্স লিগের ফাইনালে ফিওরেন্তিনার বিপক্ষে করা জয়সূচক গোলও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এল কাবির অর্জন কম নয়। ২০১৮ সালে আফ্রিকান নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে মরক্কোর শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে মূল আফকনে এবারই প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন এই স্ট্রাইকার।

হাকিমির অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিয়ে এল কাবি এখন মরক্কোর বড় ভরসা। শেষ ষোলোতে তানজানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও তাঁর দিকেই তাকিয়ে থাকবে স্বাগতিকদের সমর্থকরা। বাইসাইকেল কিকের রাজা হিসেবে পরিচিত এই ফরোয়ার্ড কি মরক্কোকে শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারবেন—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাইসাইকেল কিক ‘কিং’ মরক্কোর আয়ুব

আপডেট সময় : ০২:১৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
144

অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি চোটের কারণে এখনো পুরোপুরি মাঠে নামতে না পারায় আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) ফুটবলে স্বাগতিক মরক্কোর নতুন নায়ক হয়ে উঠেছেন আয়ুব এল কাবি। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোতে তাঁর নৈপুণ্য ও বিশেষ করে চোখধাঁধানো বাইসাইকেল কিক গোল মরক্কোর সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত করেছে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই আলো কেড়ে নিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

আফকনের উদ্বোধনী ম্যাচে কোমোরোসের বিপক্ষে মরক্কোর ২-০ গোলের জয়ে বদলি হিসেবে নেমে এল কাবির করা দুর্দান্ত ওভারহেড কিক গোলই বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথ। সেই গোলের সুবাদেই পরের ম্যাচে মালির বিপক্ষে শুরুর একাদশে জায়গা পান তিনি। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হলেও এল কাবির পারফরম্যান্সে ভর করে আক্রমণভাগে আত্মবিশ্বাস পায় অ্যাটলাস লায়নসরা।

এরপর জাম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে আবারও বড় ভূমিকা রাখেন এল কাবি। ম্যাচের শুরুতে হেডে গোল করার পর জয় নিশ্চিত করেন আরেকটি বাইসাইকেল কিকের মাধ্যমে। এই জয়ের ফলে ‘এ’ গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে মরক্কো, শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হয় তানজানিয়া।

এই পারফরম্যান্সের পর মরক্কোজুড়ে এল কাবিকে ঘিরে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর বাইসাইকেল কিক অনুকরণ করে ভক্তদের নানা ভিডিও, যেগুলো ইতিমধ্যে কোটি ভিউ পেয়েছে। কাসাব্লাঙ্কার আকাশে ড্রোন শোতেও দেখা গেছে এল কাবির সেই বিখ্যাত গোলের দৃশ্য।

বাজে পারফরম্যান্স, জাতীয় দলকে নিষিদ্ধ করল সরকার

ওভারহেড কিক এল কাবির কাছে নতুন কিছু নয়। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে আগেও এই কৌশলে একাধিক গোল করেছেন তিনি। ২০২০-২১ মৌসুমে মরক্কোর ক্লাব উইদাদ কাসাব্লাঙ্কার হয়ে চারটি বাইসাইকেল কিক গোল করেছিলেন তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতেও আফকনের আগে বেনিনের বিপক্ষে এমন একটি গোল নজর কেড়েছিল।

মাঠের বাইরে এল কাবির জীবনসংগ্রামও অনেককে অনুপ্রাণিত করছে। কাসাব্লাঙ্কার এক দরিদ্র এলাকায় বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার একসময় জীবিকা নির্বাহের জন্য কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। ২১ বছর বয়সে রেসিং কাসাব্লাঙ্কার হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক তাঁর।

তারপর রেনেসাঁস বারকেন, চীন ও তুরস্কে খেলে শেষ পর্যন্ত গ্রিসের ক্লাব অলিম্পিয়াকোসে যোগ দিয়ে নিজের ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করেন। সেখানে দুই মৌসুমে ৭৫টির বেশি গোল করেছেন তিনি, যার মধ্যে ২০২৪ সালে উয়েফা কনফারেন্স লিগের ফাইনালে ফিওরেন্তিনার বিপক্ষে করা জয়সূচক গোলও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এল কাবির অর্জন কম নয়। ২০১৮ সালে আফ্রিকান নেশনস চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে মরক্কোর শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে মূল আফকনে এবারই প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন এই স্ট্রাইকার।

হাকিমির অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিয়ে এল কাবি এখন মরক্কোর বড় ভরসা। শেষ ষোলোতে তানজানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও তাঁর দিকেই তাকিয়ে থাকবে স্বাগতিকদের সমর্থকরা। বাইসাইকেল কিকের রাজা হিসেবে পরিচিত এই ফরোয়ার্ড কি মরক্কোকে শিরোপার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারবেন—সেটিই এখন দেখার বিষয়।